
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়াকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার রায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির স্বামীরা।
দেশটির স্বামীদের একপক্ষের কাছে এই রায় স্বস্তি এনে দিলেও অন্য পক্ষের কাছে চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘বর্তমান’।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে যেসব স্বামী স্বস্তি অনুভব করছে, তাদের একজন হলেন অশোক দীক্ষিত (ছদ্ম নাম)। ১০ বছর আগে অশোকের বিরুদ্ধে ব্যভিচার বা অন্য মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে মামলা করেন তার স্ত্রী।
এর ফলে নিজের সন্তানের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে অশোককে। দুটি চাকরি ছাড়তে হয়েছে। গত ১০ বছরে প্রতিনিয়ত চরম মানসিক আঘাত সহ্য করতে হয়েছে ৩২ বছরের এই তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীর।
অশোক বলেন, অভিযোগটা মিথ্যা হলেও এর ফলে আমি যে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছি, সেটা সত্যি। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আমাকে স্বস্তি দিলেও, ১০ বছর ধরে আমি যে যন্ত্রণা সহ্য করেছি, তার কোনও প্রতিকার হলো না।
একই অবস্থা দিল্লির চিকিৎসক কুমার রমেশের (ছদ্ম নাম)। নিজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন এই ৩৫ বছর বয়সী চিকিৎসকের স্ত্রী।
তিনি বলেন, অবশেষে লিঙ্গ-নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দেয়ায় আমি খুশি। কিন্তু এই রায় আরেকটু আগে দেয়া হলে আমাকে অনেকদিন ধরে চরম মানসিক চাপ সহ্য করতে হতো না।
গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে পরকীয়া সংক্রান্ত ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেন।
এই রায়কে অশোক ও রমেশের মতো মানুষ স্বাগত জানালেও ৪৫ বছর বয়সী চৈতন্য গৌড়ার মতো কিছু ‘হতভাগ্য’ স্বামীর দাবি, এই রায় তাদের বেশ কয়েক বছরের পরিশ্রমকে পণ্ড করে দিয়েছে।
চৈতন্য জানান, গত আট বছর ধরে নিজের স্ত্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করছিলেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল, স্ত্রীর প্রেমিকের স্ত্রীকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করানোর। কিন্তু আদালত এদিন যে রায় দিয়েছে, তাতে এই মামলার কোনও যৌক্তিকতা থাকলো না।
বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা চৈতন্য আরও জানান, এখন স্ত্রী তার বিরুদ্ধে পণ চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৮ বছরে একদিনের জন্যও সন্তানের মুখ দেখেননি তিনি। এই রায় তার জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।
আরেক হতভাগ্য স্বামী এবং ১০ বছরের ছেলের বাবা দেবজ্যোতি দাসেরও একই অবস্থা। তিনি বলেন, স্ত্রীর একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের যেসব তথ্য এতদিন ধরে জোগাড় করেছিলাম, সবই এখন নর্দমায় ফেলে দিতে হবে।
কে/পি




