
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস এড়াতে দেশত্যাগ করেন হাসান আল-কোন্তার। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের(ইউএই) একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে এখানেই বসবাস করতে থাকেন। খবর বিবিসি ও চ্যানেল নিউজএশিয়া
সিরিয়ায় মিলিটারি সার্ভিস শেষ না করায় পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারছিলেন না তিনি। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার বা মিলিটারি সার্ভিসে যোগদানের ভয়ে তিনি দেশে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন না তিনি। তাই অবৈধভাবে বসবাস করতে লাগলেন ইউএই’তে। কিন্তু ২০১৬ সালে ধরে পড়ে যান পুলিশের কাছে।
কোন্তার ২০১৭ সালে একটি নতুন পাসপোর্ট জোগাড় করেন কিন্তু তাকে মালয়েশিয়ায় নির্বাসিত করা হয়। এটা বিশ্বের কয়েকটি দেশের একটি যেখানে সিরিয়ার নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে।
পরে মালয়েশিয়া তাকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসা দেয়। মালয়েশিয়া থেকে তিনি তুরস্ক, ইকুয়েডর ও কম্বোডিয়ার আশ্রয় চান, কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হন। সরাসরি কম্বোডিয়া গিয়েও কুয়ালালামপুরে ফিরে আসতে হয় তাকে। ভিসার মেয়াদ শেষে মালয়েশিয়ায় কালো তালিকাভুক্ত হওয়া এদেশেও প্রবেশ করতে পারেননি তিনি।
গত ৭ মার্চ থেকে বাধ্য হয়ে বিমানবন্দরেই থাকছিলেন কোন্তার। ক্ষুধা মিটিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মীদের দান করা খাবার খেয়ে। এখান থেকে তিনি তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্ট দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টে কোন্তার মালয়েশিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন- এই অভিযোগে গতকাল সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন প্রধান মুস্তাফার আলি বলেন, শেষমেশ পুলিশ কোন্তারকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ তিনি বোর্ডিং পাস ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছিলেন।
কোন্তারকে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোন্তারের ঘটনাটি ২০১৪ সালের ‘দ্য টার্মিনাল’ চলচ্চিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। যাতে টম হ্যানকস তার দেশের সরকার পতনের পর নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে আটকে পড়েন এবং তার কাগজপত্র অকার্যকর হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, গত সাত বছর ধরে সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধে তিন লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
আরও পড়ুন :
কে/এসএস




