ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার বর্ণনায় বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৯ পিএম

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে যখন হামলা হয়, তখন মসজিদের ভেতরেই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক ওমর জাহিদ। মসজিদে খুতবা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের ভেতরেই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তার পিঠে এখনও রয়েছে গুলির একটি ক্ষত।

গত ১৫ মার্চের ওই হামলার ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। হামলাকারী পুরো হামলার ঘটনাটি নিজেই ভিডিও করে লাইভ সম্প্রচার করে। তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ওই ভয়াবহ হামলার সময় মসজিদের ভেতরেই ছিলেন ওমর জাহিদ।

বিবিসি বাংলার কাছে সেদিনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড অবশ্যই ভালো একটি দেশ, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম এবং এখনও করি। এতোদিন ধরে আমরা খুব ভালো একটি জীবনযাপন করছিলাম। চার বছর ধরে নিউজিল্যান্ডে রয়েছেন ওমর জাহিদ।

সেদিন ছিল শুক্রবার। মুসলমান হিসেবে প্রতি শুক্রবারই জুমার নামাজ পড়তে আমরা মসজিদে যাই। দুপুর সাড়ে ১২টায় আমার কাজ শেষ করে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিই, বলেন জাহিদ।

ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজ শুরু হয় দুপুর ২টায়। খুতবা শুরু হয় তার আধঘণ্টা আগে, দুপুর দেড়টায়।

ওমর জাহিদ বলছেন, ওইদিন আমি একটু আগে গিয়েছি, যাতে খুতবা শুনতে পারি। এজন্য বাসা থেকে বের হই পৌনে একটা বা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে। আমার নিজের গাড়ি চালিয়ে মসজিদে পৌঁছাই ১টা ১০ মিনিটের দিকে।

এরপর মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ি। এরপর দ্বিতীয় সারিতে গিয়ে বসি, ঠিক মুয়াজ্জিনের পেছনে। দেড়টার দিকে ইমাম সাহেব প্রবেশ করে তার স্থানে গিয়ে সালাম দিয়ে সবে দুই একটা কথা বলতে শুরু করেছেন।

এমন সময় আমরা বাইরে থেকে বিকট আওয়াজ শুনতে পেলাম। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম আতশবাজি বা বৈদ্যুতিক কোনও শর্টসার্কিট হয়েছে। একটু পরেই দেখতে পাই পেছনের মানুষজন দৌড়াদৌড়ি করছে, চিৎকার করছে। তখন আমাদেরও মনে হলো যে খারাপ কিছু হয়তো ঘটছে। কিন্তু গোলাগুলি হচ্ছে কি না, সেটা তখনও আমি ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি।

-----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : নেদারল্যান্ডসে হামলাকারী তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার
-----------------------------------------------------------

ওমর জাহিদ আরও বলছেন, তখন আমি ডান পাশে গিয়ে একেবারে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লাম। আমার সাথে অন্য যারা ছিলেন, তারাও শুয়ে পড়লেন, তবে কয়েকজন হয়তো বের হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ হয়তো বেঁচে গেছেন। তবে সেই দিন অনেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

নিজের বেঁচে যাওয়ার জন্য ভাগ্যকেই কৃতিত্ব দিতে চান ওমর জাহিদ।

তিনি বলছেন, আমি আসলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। কারণ আমার ডান পাশে যিনি ছিলেন, তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি মারা গেছেন কিনা জানি না। আমার পায়ের কাছে ছিল একটি সোমালিয়ান বাচ্চা, সে মারা গেছে। বাম পাশেও একজন ছিলেন, তিনিও মারা গেছেন কিনা নিশ্চিত নই।

যখন গুলি করা হচ্ছিল, তখন আমার বাম কাঁধে একটি গুলি লাগে। তখন আমার মনে হচ্ছিল যে, আমি হয়তো মারা যাচ্ছি বা মারা যাবো।

প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মতো গুলি করা হয়েছে, সঠিক সময়টা আমার মনে নেই। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

আমি জানি না কীভাবে আমি বেঁচে ফিরে আসলাম। কারণ ভিডিওতে পরে আমি দেখেছি, আমার দিকে সে তিন-চারবার গুলি করেছে। আসলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি।

তিনি বলছেন, যখন গুলি থেমেছে, তখন আমি দুইজন ভারতীয় বন্ধুকে দেখতে পেলাম। তাদের সঙ্গে আগের বাসায় একসঙ্গে থাকতাম। আসিফ নামের ওই বন্ধুকে আমি ডাকলে তিনি এসে আমাকে পরীক্ষা করে বললেন যে, বুলেট আমার শরীরের ভেতরে যায়নি, শুধু একটু স্পর্শ করে গেছে, একটু জখম হয়েছে।

তখন আমি উঠে তাদের জিজ্ঞাসা করলাম, বন্দুকধারী কি চলে গেছে? ওরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারলো না।

আমি উঠে পাশের যে মুরুব্বি শুয়ে ছিলেন, তাকে জাগানোর চেষ্টা করলাম। তাকে আমি চিনি, কিন্তু নাম জানি না। তবে তিনি কোনও সাড়া দিচ্ছিলেন না। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো মারা গেছেন। এরপর আমি যখন পেছনে তাকালাম, যা দেখলাম তা দেখে আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।

তিন থেকে চার বছরের যে ছেলেটাকে একটু আগেই কুরআন শরীফ পড়ে রাখতে দেখেছি, সে হয়তো একজন হাফেজ, তাকে দেখি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, মুখে গুলির আঘাতের চিহ্ন।

গুলি শুরু হওয়ার আগে মোজাম্মেল হক নামের যে বন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারে গল্প করছিলাম, তাকে খোঁজার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোথাও দেখতে পেলাম না। যখন আশপাশে তাকালাম, দেখলাম যে আমার পরিচিত অনেকেই পড়ে আছেন।

ওমর জাহিদ জানান, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মুসলমান সম্প্রদায়টি অনেক ছোট। সব মিলিয়ে তিনশ’ জনের মতো ব্যক্তি নিয়মিত মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসেন। এ কারণে প্রায় সবাই একে অপরকে চেনেন।

তিনি বলছেন, দেখতে পেলাম একজন ভারতীয় ব্যক্তি, যিনি এখানে আসার আগে কিউবায় থাকতেন, এক কোণে দেয়ালে হেলান দিয়ে সোফার মধ্যে বসে আছেন। তিনি খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন, একটি ডেইরি দোকানের মালিক ছিলেন।

এরপর পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ডের মতো মসজিদে ছিলেন ওমর জাহিদ। পেছনের এলাকা অর্থাৎ পার্কিং এলাকা থেকে দেয়াল টপকে একটি বাসায় আশ্রয় নেন।

ওই বাসায় একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি হয়তো সামরিক বাহিনী বা পুলিশের ডাক্তার ছিলেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা দিলেন। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন, যাদের অবস্থা ছিল আরও গুরুতর।

একটু পর অ্যাম্বুলেন্স এসে গুরুতর আহতদের জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের বলে যে, তারা যেন এখান থেকে অন্য কোথাও না যায়, কারণ তখনও হামলাকারীকে আটক সম্ভব হয়নি।

পরের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাকে ওই বাড়িতেই থাকতে হয়।

বিকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের গাড়ি এসে ওই বাসা থেকে তাকে নিয়ে নিজের বাসায় পৌঁছে দেয়। এরপর জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা হলে কর্মীরা এসে ইসিজি, ব্লাড টেস্ট আর ড্রেসিং করে দেয়।

ওমর জাহিদ বলছেন, এরপর আমি আবার হাসপাতালে গেলাম আমার বন্ধুদের খবর নিতে। কিন্তু এখনও তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য পাইনি।

আরও পড়ুন :

এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ু দূষণের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় কাতারের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম আল জাজিরা। মন্ত্রণালয়টির উপমন্ত্রী ফিদা মোহাম্মদ পাইকান সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, এই সপ্তাহে ফুসফুসের সমস্যাসহ বায়ুদূষণ জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আট হাজার ৮০০ এর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আফগানিস্তানের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির নারী মুখপাত্র লেইলা সামানি এদিন ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, কাবুলের এই বায়ু দূষণের জন্য দায়ী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আফগান প্রেসিডেন্ট তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মিউনিসিপালিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল  এজেন্সি রোববার সন্ধ্যায় জানায়, তিনটি ওয়েডিং হল ও দুটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামানি জানান, স্থানীয়দের  প্রতি আবাসস্থল গরম রাখার জন্য কয়লা, টায়ার ও প্লাস্টিক ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বায়ুদূষণের প্রাথমিক কারণ হলো দারিদ্র্য ও বিদ্যুতের অভাব। সস্তায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কে/সি
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাতিল করার দাবিতে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে দেশটির কেরালার বিধানসভায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের উদ্যোগে রাজ্যটির বিধানসভায় প্রস্তাবটি পাস হয়। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের। মঙ্গলবার বিধানসভার এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য সরকারের আনা সিএএ বাতিল করার প্রস্তাবে সম্মতি দেয় বিরোধী দলগুলো। পিনারাই বিজয়ন সিএএ বিরোধী প্রস্তাবটি পাঠ করার সময় বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ক্ষুণ্ণ করছে ধর্ম ভিত্তিক নাগরিকত্ব প্রদানের আইনটি। তিনি বলেন, সংবিধানের আদর্শের একেবারে বিরোধী এই আইন। এছাড়া আইনটি পাসের পর দেশব্যাপী উদ্বেগ, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের উচিত ধর্মনিরপেক্ষতার খাতিরে এই আইন প্রত্যাহার করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেরালায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। গত রোববার সিএএ প্রত্যাহারের প্রস্তাব আনার জন্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পিনারাই বিজয়ন। বৈঠকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) দাবি করে, এক দিনের বিশেষ অধিবেশন করে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস করা হোক। বছরের শেষ দিনটিকে এই অধিবেশনের জন্যে ধার্য করা হয়। কে/সি
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
দেশব্যাপী নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে শেষপর্যন্ত সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবের শরণাপন্ন হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের। তিনি সোমবার গুরুর একটি ভিডিও টুইট করে লিখেছেন, শুনে দেখুন সদগুরু পানির মতো ব্যাখ্যা করেছেন সিএএ। মজার বিষয় হলো গুরু বাসুদেব শুরুতেই জানান, তিনি আইনটি পুরোপুরি পড়েননি। মোদির টুইট করা ২০ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটির শুরুতেই সদগুরু বলেন, আমি আইনটি পুরোপুরি পড়িনি। আইনটি সম্পর্কে যতটা জেনেছি তা গণমাধ্যম থেকে। এই আইন সব দেশেই আছে। আইনটি না পড়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার জন্য শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করেন বাসুদেব। তিনি তাদের পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে তুলনা করেন কর্ণাটকের মহীশুরে জন্মগ্রহণ করা এই গুরু। তিনি বলেন, সবাই বলছে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের মতো আচরণ করেছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে তারা। তার দাবি, এমন প্রতিক্রিয়া হবে ভাবেনি বলে বেশি পুলিশ নামায়নি সরকার। তাই পুলিশই মার খেয়েছে। পুলিশের দিকে কেউ পাথর ছুড়েছে, কেউ ছোড়েনি। সংঘর্ষে দুজনই পুলিশের মার খাবে এটাই স্বাভাবিক। দিল্লিতে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিপিআই (এমএল) নেত্রী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে রং নম্বর করে ফেললেন। উনি (সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব) তো আইনটিই পড়েননি। কে/সি
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে মঙ্গলবার দাবানলে পুড়ে এক দমকলকর্মীসহ কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলমান দাবানলের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হলো। খবর ইরানের নিউজ সাইট পার্সটুডে ও যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের। রাজ্যটিতে দাবানলের কারণে দুজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। দাবানল সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে ভিক্টোরিয়া রাজ্যে। এখানে ১১ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটির ছোট শহর মাল্লাকুটার চার হাজার বাসিন্দা একটি উপকূলে আটকা পড়েছে। তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও দাবানল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রতিটি রাজ্যের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে যাওয়ায় এই আশঙ্কা বেড়েছে।   ভিক্টোরিয়ার ইস্ট গিপসল্যান্ড থেকে ৩০ হাজার অধিবাসী এবং পর্যটককে অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আগুন প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের জন্য অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইস্ট গিপসল্যান্ডে বাতাসের সঙ্গে আগুন উপকূলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। এদিকে মেলবোর্নের বুনদুরায় অসংখ্য মানুষ এবং তাদের বাড়িঘর দাবানলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা। কে/সি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
অবৈধভাবে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় জড়িত থাকা তিন গবেষককে সোমবার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন চীনের এক আদালত। খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার। তিন গবেষকের প্রধান হি জিয়ানকুইকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ইউয়ান (চার লাখ ৩০ হাজার ডলার) অর্থদণ্ড দেন গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ন্যানশ্যান ডিস্ট্রিক্ট পিপলসের এই আদালত। তার দুই সহকারী ঝ্যাং রেনলি এবং কিন জিনঝৌর শাস্তি কমিয়ে তাদেরকে যথাক্রমে দুই ও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তাদেরকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। হি জিয়ানকুই ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিন এডিট করে সন্তান জন্ম দেয়ায় সাহায্য করার কথা জানালে জিন এডিটিংয়ের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়া জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ার আরেকটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হি জিয়ানকুই। কে/সি
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
আরও পড়ুন
নিউজিল্যান্ড দিয়ে শুরু হলো বর্ষবরণ উৎসব ২০২০
দক্ষিণ আফ্রিকায় চার বছরে ৪৫২ বাংলাদেশি নিহত
মহারাষ্ট্রে ৯ নারীসহ ১২ ‘বাংলাদেশি’ গ্রেপ্তার
ভারতে ভিসা শেষে অবস্থান করলে বাংলাদেশি মুসলিমদের ২১০০০, হিন্দুদের ‍১০০ রুপি জরিমানা