ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইথিওপিয়ায় মিললো ৩৮ লাখ বছর আগের মানুষের খুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪০ পিএম
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএন

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় ৩৮ লাখ বছর আগের এক মানুষের পূর্ণাঙ্গ মাথার খুলি পাওয়া গেছে। ৩৮ থেকে ৪২ লাখ বছর আগের মানুষকে অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যানামেনসিস বলা হয়। এই প্রথম ৩৮ লাখ বছর আগের কোনও মানুষের খুলি পাওয়া গেল। এটি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনএন।

ইথিওপিয়ার আফার রিজিওনাল স্টেটে গত ১৫ বছর ধরে ওরানসো-মাইল প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলোজিক্যাল রিসার্চ প্রজেক্ট গবেষণা নিয়ে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা।

এই খুলির ওপরের চোয়াল পাওয়া গিয়েছিল ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর খুলিটির অন্যান্য অংশগুলো খুঁজে বের করার আশায় অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়।

বুধবার যুক্তরাজ্যের ন্যাচার নামের বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে খুলিটির বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং এটি কোথায় পাওয়া যায় তা প্রকাশ করা হয়েছে। এটিকে এমআরডি বলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ফিজিক্যাল অ্যানথ্রোপোলোজিক্যালের কিউরেটর জোহানেস হেইলে-সেলাসি বলেন, এটি দেখে আমি আমার চোখকেই বিশ্বাস করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এটি ছিল কোনও কিছু আবিষ্কার করতে পারার আনন্দঘন মুহূর্ত এবং এর ফলে একটি স্বপ্ন সত্য হয়েছে। এটি ছিল আমাদের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নমুনাগুলোর একটি।

এটি ২৯ থেকে ৩৯ লাখ বছর আগে আফ্রিকায় বসবাসকারী এক মানুষের মাথার খুলি। ২৯ থেকে ৩৯ লাখ বছর আগের মানুষদেরকে অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফারেনসিস বলা হয়। এর আগে ১৯৭৪ সালে ইথিওপিয়ার যেখানে লুসি নামের অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফারেনসিসের খুলি পাওয়া যায়, সেখান থেকে মাত্র ৩৪ মাইল উত্তরে পাওয়া গেছে এমআরডিকে।

জিওলজিস্ট, প্যালিওবোটানিস্ট ও প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলোজিস্টদের একটি আন্তর্জাতিক দল যেখানে খুলিটি পাওয়া গেছে, সেখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে এটির বয়স নির্ণয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির স্তরবিন্যাস ও পললবিদ্যার অধ্যাপক বেভারলি সেলরের মতে, এটি পুরুষের খুলি। মৃত্যুর পর মরদেহটি একটি নদীর পাশে কবর দেয়া হয়।

এই অ্যানামেনসিস সম্ভবত নদীটির কাছাকাছি বসবাস করতো। নদীটি গাছগাছালিতে ঘেরা ছিল। এটি থেকে বেশকিছু দূরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গুল্মজাতীয় গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জিওলজিস্ট নাওমি লেভিন বলেন, একটি বড় হ্রদের কাছাকাছি শুষ্কভূমিতে বাস ছিল এমআরডির। আমরা তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা জানার চেষ্টা করব।

এর আগে গবেষকদের ধারণা ছিল, অ্যাফারেনসিসদের আগে পৃথিবীতে বসবাস করতো অ্যানামেনসিসরা। একাধিক বিচ্ছিন্ন হাড়ের টুকরো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান তারা।

কিন্তু এই খুলি পাওয়ার পর মনে হচ্ছে পৃথিবীতে অ্যানামেনসিসদের পর অ্যাফারেনসিসদের আগমন ঘটে। কিন্তু উভয় প্রজাতি পৃথিবীতে কমপক্ষে এক লাখ বছর সহাবস্থান করেছে।

এতদিন ধরে মানুষ একটি রৈখিক গঠন প্রক্রিয়ায় বিবর্ধিত হয়েছে বলে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, সেটিকে এই এমআরডি খুলি রীতিমতো প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, তারা এর আগে কখনোই এমন খুলি দেখেননি। এই খুলির সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার মনুষ্য প্রজাতির তুলনা করা যেতে পারে। তবে কতটা মিল আছে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর ইভল্যুশনারি অ্যানথ্রোপোলোজির গবেষক স্টেফানি মেলিলোর মতে, পূর্ব আফ্রিকায় ৪০ লাখ বছর আগে বসবাসকারী অস্ট্রালোপিথেকাস জেনাসদের মুখ ছিল অনেক বড়। এই এমআরডি খুলির সঙ্গে আমাদের অব্যবহিত পূর্বপুরুষদের মুখের অনেক মিল আছে। বিশেষ করে অস্ত্র ব্যবহারকারী এবং খাদ্য গ্রহণকারী আদি মানবদের মুখের সঙ্গে এই খুলির মিল আছে।

অস্ট্রালোপিথেকাস জেনাসদের সবচেয়ে পুরোনো সদস্য হিসেবে পরিচিত অ্যানামেনসিসদের একটি মিশ্র আকর্ষণীয় গঠন ছিল। তাদের মুখ লম্বা এবং চোখের নিচের হাড় সামনের দিকে প্রসারিত ছিল।

মেলিলো বলেন, এই বিশাল মুখের মানুষ শক্ত খাবার খেত। তাদের মুখের হাড় শক্ত খাবার চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী ছিল। এই খুলির দাঁতগুলো বেশ বড় হলেও অ্যাফারেনসিসদের তুলনায় ছোট।

হেইলে-সেলাসির ধারণা হলো অস্ট্রালোপিথেকাসদের তুলনায় পরবর্তী হোমো প্রজাতির মানুষেরা অনেক অস্ত্র ব্যবহার করত, তারা মাংস খেত এবং নিজেদের আবাসস্থলের কাছাকাছি থাকত।

এমআরডি খুলিতে একটি আদিম ও অদ্ভুত মুখাবয়ব এবং বিশেষ গঠনের মিশ্রণ আছে, যা আমি কখনোই প্রত্যাশা করিনি বলেও জানান ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির এই কিউরেটর।

মেলিলো বলেন, এখন মনে হচ্ছে ৬০ লাখ বছর আগের এই পূর্বপুরুষ এবং লুসির মতো ২০ বা ৩০ লাখ বছর আগের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে আমাদের অনেক ব্যবধান আছে।

তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো নতুন আবিষ্কারটি কিভাবে এই দুই মনুষ্য প্রজাতির অঙ্গসংস্থানসংক্রান্ত ব্যবধানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

অ্যানামেনসিস শনাক্তের মাধ্যমে গবেষকরা বুঝতে পারে কিভাবে আদিম মানুষ বিবর্ধিত হয়েছে। এখন বেলোহডেলি ফ্রন্টাল পরিচিত ৩৯ লাখ বছর আগের খুলির সঙ্গে এমআরডিকে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

গবেষকরা অ্যানামেনসিস দেখতে কেমন ছিল জানেন বলেই বেলোহডেলি ফ্রন্টাল এবং লুসিকে অ্যাফারেনসিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উভয় প্রজাতি কমপক্ষে এক লাখ বছর পৃথিবীতে সহাবস্থান করেছে।

হেইলে-সেলাসি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে আমরা মনে করতাম আমাদের বিবর্তন হয়েছে একটি রৈখিক প্রক্রিয়ায়। এখন প্রশ্ন হলো পিতৃ প্রজাতির উপস্থিতিতে একটি নতুন প্রজাতি কিভাবে এলো।

তিনি বলেন, অবশ্য একাধিক ছোট জনগোষ্ঠী অনেক পরিবর্তনের মধ্যেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হতেও যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তারা বিচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকতেই পারে। অ্যানামেনসিসরা ও অ্যাফারেনসিসরা কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করত। তাই জিওলজিস্টরা এক্ষেত্রে তাদের বিচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর তাদের বসবাসের এলাকাটি সক্রিয়, বৈচিত্র্যময় ও পাহাড়ে পরিপূর্ণ ছিল। এছাড়া ফাটলের কারণে অ্যানামেনসিসদের আবাসস্থলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

মেলিলো বলেন, অ্যানামেনসিসদের পর অ্যাফারেনসিসদের আগমন ঘটেছে ভাবতেই অভ্যস্ত আমরা। সাধারণত একটির সঙ্গে আরেকটির পূর্বপুরুষ ও উত্তরপুরুষের সম্পর্ক ছিল বলে মনে করি আমরা।

তিনি বলেন, এখন স্পষ্ট যে আফারে তারা কিছু সময় পাশাপাশি বসবাস করত। এটি প্রচলিত বিবর্তন প্রক্রিয়াকে বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন তারা কি খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করত?

এই দুই প্রজাতি একে অন্যের সঙ্গে মিশেছিল কিনা তা তর্কের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু গবেষকরা এখন এই আদি মানব সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী এবং সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেলিলো বলেন, অ্যানামেনসিস নামের একটি প্রজাতির কথা অনেক আগেই জানা গেছে। কিন্তু এই প্রজাতি সম্পর্কে বেশিকিছু জানা যায়নি। এবার অ্যানামেনসিসদের সম্পর্কে আরও জানা যাবে।

কে/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ু দূষণের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় কাতারের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম আল জাজিরা। মন্ত্রণালয়টির উপমন্ত্রী ফিদা মোহাম্মদ পাইকান সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, এই সপ্তাহে ফুসফুসের সমস্যাসহ বায়ুদূষণ জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আট হাজার ৮০০ এর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আফগানিস্তানের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির নারী মুখপাত্র লেইলা সামানি এদিন ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, কাবুলের এই বায়ু দূষণের জন্য দায়ী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আফগান প্রেসিডেন্ট তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মিউনিসিপালিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল  এজেন্সি রোববার সন্ধ্যায় জানায়, তিনটি ওয়েডিং হল ও দুটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামানি জানান, স্থানীয়দের  প্রতি আবাসস্থল গরম রাখার জন্য কয়লা, টায়ার ও প্লাস্টিক ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বায়ুদূষণের প্রাথমিক কারণ হলো দারিদ্র্য ও বিদ্যুতের অভাব। সস্তায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কে/সি
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাতিল করার দাবিতে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে দেশটির কেরালার বিধানসভায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের উদ্যোগে রাজ্যটির বিধানসভায় প্রস্তাবটি পাস হয়। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের। মঙ্গলবার বিধানসভার এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য সরকারের আনা সিএএ বাতিল করার প্রস্তাবে সম্মতি দেয় বিরোধী দলগুলো। পিনারাই বিজয়ন সিএএ বিরোধী প্রস্তাবটি পাঠ করার সময় বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ক্ষুণ্ণ করছে ধর্ম ভিত্তিক নাগরিকত্ব প্রদানের আইনটি। তিনি বলেন, সংবিধানের আদর্শের একেবারে বিরোধী এই আইন। এছাড়া আইনটি পাসের পর দেশব্যাপী উদ্বেগ, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের উচিত ধর্মনিরপেক্ষতার খাতিরে এই আইন প্রত্যাহার করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেরালায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। গত রোববার সিএএ প্রত্যাহারের প্রস্তাব আনার জন্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পিনারাই বিজয়ন। বৈঠকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) দাবি করে, এক দিনের বিশেষ অধিবেশন করে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস করা হোক। বছরের শেষ দিনটিকে এই অধিবেশনের জন্যে ধার্য করা হয়। কে/সি
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
দেশব্যাপী নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে শেষপর্যন্ত সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবের শরণাপন্ন হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের। তিনি সোমবার গুরুর একটি ভিডিও টুইট করে লিখেছেন, শুনে দেখুন সদগুরু পানির মতো ব্যাখ্যা করেছেন সিএএ। মজার বিষয় হলো গুরু বাসুদেব শুরুতেই জানান, তিনি আইনটি পুরোপুরি পড়েননি। মোদির টুইট করা ২০ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটির শুরুতেই সদগুরু বলেন, আমি আইনটি পুরোপুরি পড়িনি। আইনটি সম্পর্কে যতটা জেনেছি তা গণমাধ্যম থেকে। এই আইন সব দেশেই আছে। আইনটি না পড়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার জন্য শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করেন বাসুদেব। তিনি তাদের পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে তুলনা করেন কর্ণাটকের মহীশুরে জন্মগ্রহণ করা এই গুরু। তিনি বলেন, সবাই বলছে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের মতো আচরণ করেছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে তারা। তার দাবি, এমন প্রতিক্রিয়া হবে ভাবেনি বলে বেশি পুলিশ নামায়নি সরকার। তাই পুলিশই মার খেয়েছে। পুলিশের দিকে কেউ পাথর ছুড়েছে, কেউ ছোড়েনি। সংঘর্ষে দুজনই পুলিশের মার খাবে এটাই স্বাভাবিক। দিল্লিতে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিপিআই (এমএল) নেত্রী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে রং নম্বর করে ফেললেন। উনি (সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব) তো আইনটিই পড়েননি। কে/সি
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে মঙ্গলবার দাবানলে পুড়ে এক দমকলকর্মীসহ কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলমান দাবানলের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হলো। খবর ইরানের নিউজ সাইট পার্সটুডে ও যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের। রাজ্যটিতে দাবানলের কারণে দুজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। দাবানল সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে ভিক্টোরিয়া রাজ্যে। এখানে ১১ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটির ছোট শহর মাল্লাকুটার চার হাজার বাসিন্দা একটি উপকূলে আটকা পড়েছে। তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও দাবানল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রতিটি রাজ্যের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে যাওয়ায় এই আশঙ্কা বেড়েছে।   ভিক্টোরিয়ার ইস্ট গিপসল্যান্ড থেকে ৩০ হাজার অধিবাসী এবং পর্যটককে অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আগুন প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের জন্য অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইস্ট গিপসল্যান্ডে বাতাসের সঙ্গে আগুন উপকূলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। এদিকে মেলবোর্নের বুনদুরায় অসংখ্য মানুষ এবং তাদের বাড়িঘর দাবানলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা। কে/সি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
অবৈধভাবে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় জড়িত থাকা তিন গবেষককে সোমবার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন চীনের এক আদালত। খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার। তিন গবেষকের প্রধান হি জিয়ানকুইকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ইউয়ান (চার লাখ ৩০ হাজার ডলার) অর্থদণ্ড দেন গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ন্যানশ্যান ডিস্ট্রিক্ট পিপলসের এই আদালত। তার দুই সহকারী ঝ্যাং রেনলি এবং কিন জিনঝৌর শাস্তি কমিয়ে তাদেরকে যথাক্রমে দুই ও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তাদেরকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। হি জিয়ানকুই ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিন এডিট করে সন্তান জন্ম দেয়ায় সাহায্য করার কথা জানালে জিন এডিটিংয়ের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়া জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ার আরেকটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হি জিয়ানকুই। কে/সি
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
আরও পড়ুন
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ
ইথিওপিয়ায় ১২ ঘণ্টায় ৩৫,৩৬,৩৩,৬৬০টি গাছের চারা রোপণ
ইথিওপিয়ায় ছদ্মবেশধারীদের হামলায় নিহত ৫০ আহত ২৩
ইথিওপিয়ার যে পবিত্র শহরে মসজিদ নিষিদ্ধ