
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে না, বরং নাগরিকত্ব দেবে। আজ রোববার দুপুরে রামলীলা ময়দানে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচার শুরুর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-সহিংসতায় উত্তপ্ত দরিয়াগঞ্জের থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই রামলীলা ময়দান। আজ সেখানেই নিজের বক্তব্যে মোদি বলেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতের বৈশিষ্ট।
মোদি বলেন, দেশের নিপীড়িত মানুষদের জন্য পাস করা হয়েছে নাগরিকত্ব আইন। তাকে সম্মান করুন। শোষিত, নিপীড়িত মানুষদের জন্য এই বিল পাস করেছে লোকসভা ও রাজ্যসভা। গণতন্ত্রের এই মন্দিরকে দাঁড়িয়ে সম্মান করুন। যারা এই বিল পাস করেছেন তাদের সম্মান করুন। কিন্তু এ নিয়ে মিথ্যে প্রচার করছে বিরোধীরা। দিল্লিতে ঘর দেয়ার ক্ষেত্রে কাউকে তাদের ধর্ম কী তা জানতে চাওয়া হয়েছিল! হয়নি। তাহলে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এখন কেন প্রশ্ন উঠছে?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ৩৩ হাজার পুলিশ জীবন বলিদান দিয়েছেন। তারা কী ধর্ম দেখে শহিদ হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এই পুলিশই ছিল অন্য সরকারের অধীনে। তারা কী এই সরকারের আমলে বদলে গেল! মানুষকে ভুল বুঝিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়া হচ্ছে। একে সমর্থন করেন! ভেবে দেখুন।
মোদি আরও বলেন, নাগরিকত্ব আইন দেশের কোনও মানুষের জন্যই নয়। তা সে হিন্দুই হোক বা মুসলমান। এ কথা সংসদে বলা হয়েছে। দেশের ১৩০ কোটি মানুষের জন্য নয়। দ্বিতীয়ত এনআরসি। কংগ্রেসের আমলে তৈরি হয়েছিল। আমরা তো বানাইনি। তাহলে আমাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে কেন? বাচ্চাদের মতো করে বোঝানো হচ্ছে। আগে দেখুন এনআরসি নিয়ে কিছু হয়েছে কি! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআরসি হচ্ছে। আমরা একটা কথাও বলিনি।
ডিটেনশন সেন্টার নিয়ে কংগ্রেস ও নকশালরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে এমন অভিযোগ করে মোদি বলেন, শহরের কিছু মানুষ ও নকশালরা রটাচ্ছেন দেশের মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। কিন্তু যেকোনো একজনকে প্রশ্ন করুন, কোথায় রয়েছে ডিটেনশন সেন্টার! বলবে সবাই বলছে তাই শুনছি। এসব কংগ্রেস ও আরবান নকশালদের প্রচার।
এ/পি




