ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিমানের ক্যাপ্টেনকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করলেন কো-পাইলট, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী বিমানের ক্যাপ্টেন পাইলট স্মিত মাচ্ছাড়কে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন তার কো-পাইলট। এরপর তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা ছিল।

কুড়াল দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ককপিটে পড়ে ছিলেন। ওই সময় তার চিৎকারে সেখানে ছুটে যান কয়েকজন যাত্রী। এর আগে স্মিত আহত অবস্থায় ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সমর্থ হন বলে তিনি নিজে জানিয়েছেন।

বিমানের ককপিটের ভেতর কুড়াল রাখা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার আগে এগুলো যাত্রীদের বসার স্থান বা কেবিনে থাকত।

কুড়াল রাখার কারণ হলো বিমান যদি কোথাও বিধ্বস্ত হয় এবং এটি অক্ষত থাকে তাহলে এগুলো দিয়ে যেন বিমান ভেঙে বাইরে বের হয়ে আসতে পারেন যাত্রী ও ক্রুরা।

এদিকে ওই কো-পাইলট কেন এমন হামলা চালিয়েছে সেটির কারণ খুঁজে বের করতে এখনো তদন্ত চলমান আছে বলে জানিয়েছেন আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল।

ওই কো-পাইলট ওমানি নাগরিক। যদিও তার জন্ম হয়েছিল আমিরাতে। তার বাবা ওমানের নাগরিক আর মা সিরীয়। তার জীবনের বড় একটি অংশ সিরিয়াতেও কেটেছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন ওই পাইলটের নাম হামাম আল-হামানি বলে জানিয়েছে। তিনি পড়াশোনা করেছেন ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে। তবে তিনি সরাসরি এটির ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে পড়তেন। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনার ওপর ডিগ্রি পান।

সিএনএন আরও জানিয়েছে, হামামের এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এরআগেই তার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পায় সিএএন। যেখানে বিমানের ককপিট থেকে ধারণা একটি ভিডিও থেকে ইসরায়েলি বিমানগুলোকে ভিডিও করা হয়েছে। আর ওই ভিডিওর শেষে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির এবং জর্ডানীয় গুপ্তচর হুমাম খলিল আবু-মুলাল-আল-বালাওইয়ের ছবি আছে। আবু-মুলাল ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ-এর একটি ঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছিলেন।

এছাড়া আরেকটি ভিডিও পোস্টে ইসলামের তিন পবিত্রস্থান মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের এআই দিয়ে ছবি পাওয়া গেছে। যেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ইসলামিক কবিতা পড়া হচ্ছিল।

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নেতানিয়াহুকে যা জানালেন আহত সেই ভারতীয় পাইলট
দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হামলার শিকার হয়েছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন পাইলট স্মিত মাচ্ছাড়। হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।
নেতানিয়াহুকে যা জানালেন আহত সেই ভারতীয় পাইলট
বেরিয়ে এলো সেই পাইলটের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হামলার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হামলার শিকার ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী কো-পাইলটকে আটক করেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বিমানটি। রোববার (৪ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ এ ঘটনা ঘটে। বিমানটির ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার থেকে পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, বিমানে হয়তো বিস্ফোরণ ঘটেছে কিংবা কোনো যান্ত্রিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, কো-পাইলটই তাকে আক্রমণ করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন। ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে নিজেকেই কিছু করতে হবে। শেষ শক্তিটুকু দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি হামামিকে গলা ধরে নিয়ন্ত্রণযন্ত্র থেকে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন। হামামিকে সরানোর পর বিমানটি মাটির দিকে নেমে যেতে দেখেন হায়ুন। তিনি নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ধরে বিমানটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট দায়িত্ব নিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এদিকে, হামামির অতীত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, হামামি এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। এ ঘটনার পর বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/এসকে
বেরিয়ে এলো সেই পাইলটের চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।  রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) সৌদির আরামকোর একটি শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন দমকলকর্মীরা।  তবে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হামলায় লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী সানায় সৌদি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। আরটিভি/এসআর
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের
এক লাখ সেনা নিয়ে যুদ্ধে নামছে সৌদি
বিদ্রোহী হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সৌদি আরব।
এক লাখ সেনা নিয়ে যুদ্ধে নামছে সৌদি
আরও পড়ুন
নেতানিয়াহুকে যা জানালেন আহত সেই ভারতীয় পাইলট
২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান, কেন ঘটবে এমন বিরল ঘটনা?
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ফ্লাইটের আগে মদ্যপ অবস্থায় এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট আটক