ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের ভয়ংকর ইঙ্গিত, আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় অচিরেই আরেকটি বড় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো আবারও ছোটখাটো অপারেশন এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হলো ইরানে হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেওয়া একটি নাম।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা উচিত, নাকি ধীরে ধীরে এর অবসান হতে দেয়া উচিত- সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এদিকে চলতি সপ্তাহান্তে একই ধরনের এক বার্তা দিয়েছিলেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টম ব্যারাককে প্রশ্ন করা হয়, চলতি সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি না। জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই হতে পারে।

ব্যারাক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। তিনি একটি চুক্তির জন্য উন্মুক্ত, প্রস্তুত ও স্পষ্ট। আমরা মাসের পর মাস ধরে আলোচনার টেবিলে রয়েছি।’

অন্যদিকে, আগামী মঙ্গলবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার ইরানের সরকারকে উৎখাতের অঙ্গীকার করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতেও, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের হামলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই ধ্বংসাত্মক সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের জন্যই সামরিক উপায়ে সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে অভিমত তদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের বাহিনীগুলো এখন বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালানোর একটি ধারায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে কোনো পক্ষই স্থলভাগে বড় ধরনের কোনো আক্রমণ চালায়নি, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে যেকোনো সময়।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফরেন পলিসি প্রোগ্রামের পরিচালক সুজান ম্যালনি বলেন, ‘আমার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হয়তো হামলা শুরু হতে পারে।’

এ সময় যুদ্ধের বেশ কিছু লক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও সৈন্য মোতায়েন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত আমেরিকানদের সতর্কবার্তা প্রদান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকা।

ম্যালনি বলেন, মূলত, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। একদিকে মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানি জনগণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, আর অন্যদিকে এই অবরোধ কার্যকর রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ নৌ-সম্পদ ও শক্তি সেখানে আটকে পড়েছে। কূটনীতি অথবা সামরিক পদক্ষেপ—যেকোনো একটি উপায়ে এর একটি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।

আসন্ন যুদ্ধ নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া প্রায় অসম্ভব

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জেসন ক্যাম্পবেল বলেছেন, সম্প্রতি এমন কিছু লক্ষণ দেখা গেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে নতুন করে হামলা হতে পারে। অর্থাৎ, ইরান অথবা ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রস্তুতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে বিমানবাহী রণতরী দলের সংখ্যা সাময়িকভাবে তিনে উন্নীত হতে পারে। এছাড়া, ওই অঞ্চলে আরও একটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পবেল আরও জানান, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সম্প্রতি ইরানে আগের হামলার আদলে একটি ‘শক্তি প্রদর্শন’ করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে নতুন যুদ্ধের সময় সম্পর্কে বিষয়ে তিনি বলেন, ঠিক কখন এমনটা ঘটতে পারে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব। যদি উদ্দেশ্য কেবল ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়, তবে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত ব্যাপক।

ক্যাম্পবেলের মতে, সংঘাতের শুরুর তুলনায় ট্রাম্পের হাতে এখন বিকল্পগুলো অনেক সীমিত। কারণ, ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ফলে যেকোনো সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এমন কোনো নিরাপদ জায়গা নেই যেখানে এই ধরনের অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় হাজার হাজার—এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে দশ হাজারেরও বেশি—সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।

ক্যাম্পবেল আরও বলেন, যুদ্ধের প্রথম পঞ্চাশ দিনে ইরানে যে ধরনের হামলা হয়েছিল, ঠিক তেমন হামলা আবারও চালানো হলে তা ইরানি শাসনের কৌশলগত অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে বলে আমার মনে হয় না। তারা যে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে প্রস্তুত, তা তারা আগেই প্রমাণ করেছে। এমনকি যদি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিবর্তন এনে গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র অবকাঠামো বা বেসামরিক স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবুও পরিস্থিতির তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না।

আরটিভি/এসএইচএম


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে।
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
জন্মদিনে গাড়িবহর নিয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নেতানিয়াহু
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারে। একইদিন তেল আবিবের হাতিকভা বাজার পরিদর্শনে গিয়েও বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন নেতানিয়াহু।
জন্মদিনে গাড়িবহর নিয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নেতানিয়াহু
পশ্চিম তীরে ২ ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর ‘ফুল লকডাউন’ ঘোষণা নেতানিয়াহুর
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফুল লকডাউন বা পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 
পশ্চিম তীরে ২ ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর ‘ফুল লকডাউন’ ঘোষণা নেতানিয়াহুর
রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা। আরটিভি/টিআর
রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
রিয়াদে জরুরি সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আগাম সতর্কতামূলক জরুরি বার্তা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাসিন্দাদের জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বাসিন্দাদের ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে, জানালা থেকে দূরে থাকতে এবং খোলা জায়গা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, যারা বাইরে রয়েছেন, তাদের দ্রুত নিকটবর্তী কোনো ভবনে আশ্রয় নেওয়ার অথবা শক্ত কোনো আড়ালের পেছনে নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, কী ধরনের হুমকি বা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/টিআর
রিয়াদে জরুরি সতর্কতা জারি
আরও পড়ুন
বাড়ি কিনতে গিয়ে কটেজে মিলল গুলিবিদ্ধ লাশ, রহস্যের জট খুলল যেভাবে
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণ তদন্তে লেতিতিয়া জেমসকে সরানোর দাবি
এক বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, পদত্যাগ করলেন পুলিশ কর্মকর্তা
শপিং মলে ঢুকে ফল খেল ভালুক, যাওয়ার আগে করে গেল মলত্যাগ