
সব সমুদ্রসৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাস আল-খাইমাহ পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছিল, সমুদ্রে একটি ট্যাংকার থেকে তেল নিঃসরণ বন্ধে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে মূল্যায়ন শুরু করে।
মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সুরক্ষাব্যবস্থা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত উম আল-কুওয়াইন শহরের আশপাশের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি জেলে ও অন্যান্য সমুদ্রগামী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে জেলে ও অন্যান্য সমুদ্রগামী অন্য ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
শারজাহ সরকারের মিডিয়া ব্যুরো জানিয়েছে, উম আল-কুওয়াইন সীমান্তের কাছাকাছি আমিরাতের উত্তর উপকূলে অবস্থিত আল হামরিয়া সৈকত আগাম সতর্কতা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।
রাস আল-খাইমাহ সমুদ্রসৈকত ও বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য সুপরিচিত। এটি আল মারজান দ্বীপে ওয়িন রিসোর্টসের প্রস্তাবিত ক্যাসিনো রিসোর্টেরও কেন্দ্রস্থল।
লাস ভেগাসভিত্তিক এই রিসোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে আমিরাতের প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তারা জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই রিসোর্টটি চালু করার আশা করছে তারা।
এদিকে শারজাহ, আজমান ও উম আল-কুওয়াইনের কিছু এলাকায় বাসিন্দারা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আমিরাতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে স্বাস্থ্যগত কোনও ঝুঁকি নেই। যদিও শুক্রবারেও উম আল-কুওয়াইনজুড়ে এ তীব্র গন্ধ অনুভূত হয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্ত ট্যাংকারটির নাম কিংবা তেল নিঃসরণের মূল কারণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
তবে ইরানের হামলায় সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে অন্তত দুটি সুপারট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেই ট্যাংকারগুলো থেকে তেল নিঃসরণের কারণেই আমিরাতের সমুদ্রসৈকত বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরটিভি/এসআর




