ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত বেড়ে ১৬

ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম
সিডনি শহরের বন্ডি সমুদ্র সৈকতে বন্দুক হামলার ঘটনায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পর্যটন কেন্দ্র বন্ডি সমুদ্র সৈকতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। স্থানীয় হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। হানুকা উদযাপনের সময় ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঘটনাটি ঘটার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ একথা জানায়। দুই আক্রমণকারীকে বাবা এবং ছেলে বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালের একটি সাংবাদিক বৈঠকে নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মাল লানিয়ন বলেন, আক্রমণকারীরা ৫০ বছর বয়সি এবং ২৪ বছর বয়সি বাবা এবং ছেলে। এই ঘটনায় কেবল এই দুই ব্যক্তিই যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়েছে। ছেলে সংকটজনক কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ এই ঘটনাটিকে ইহুদি বিদ্বেষ বলেছেন। এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার সময় স্থানীয় এক ফল বিক্রেতা আহমেদ আল আহমেদ এক বন্দুকধারীকে আক্রমণ করে তার থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেন। সেই ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনিও আহত হয়েছেন। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার নিন্দা করেছেন জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

আরও পড়ুন

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পাশের ব্রন্টে বিচে অবস্থানকালে তিনি একটানা প্রায় ২০টি গুলির শব্দ শুনতে পান।

এই হামলার সঙ্গে বন্ডাই বিচে চলমান কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সময় বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হনুক্কার প্রথম দিনের অনুষ্ঠান চলছিল বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সিডনির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত বন্ডি সমুদ্র সৈকত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সুপরিচিত সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। ছুটির দিনে এমন ব্যস্ত সৈকতে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় গোটা অস্ট্রেলিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হঠাৎ সাংসদের ঘরে ঢুকে পড়ল ষাঁড় ও ঘোড়া, ঘটনা কী
অস্ট্রেলিয়ার আইনপ্রণেতা অ্যান্ড্রু ম্যাকেকে নৈশভোজের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি যা দেখলেন, তাতে তার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! কেননা তার পোষা কুকুর দুটি নিজেদের বুদ্ধিমত্তায় ঘরের ভেতরের দরজা খুলে দিয়েছে এবং সেই সুযোগে একটি পোষা ষাঁড় ও একটি পোষা ঘোড়া ঢুকে পড়েছে সরাসরি লিভিং রুমে! নর্দান টেরিটরির এই রাজনৈতিক নেতা নিজের পেট ক্যামেরায় ধরা পড়া পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পরই ঘটনাটি ভাইরাল হয়। আরও পড়ুন হোটেলে পরকীয়া, পোশাকহীন অবস্থায় রাস্তায় দৌড় প্রেমিকের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাকেকে ও তার বাগদত্তা বাইরে রাতের খাবার খেতে যাওয়ার কিছু পরই কাঁচের একটি দরজা ঠেলে খুলে লিভিং রুম থেকে উঠোনে বেরিয়ে যায় তাদের দুটি পোষা কুকুর। ম্যাকেকে এএফপিকে বলেন, আমরা ডিনারে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই বুঝতে পারি, কুকুরগুলো কাঁচের দরজাটা ঠেলে খুলে নিজেরাই বাইরে বেরিয়ে গেছে। এরপরই শুরু হয় আসল কাণ্ড। ম্যাকেকে বলেন, এর কিছুক্ষণ পর সু নামের স্টিয়ারটি (ষাঁড়) দরজায় গলা চুলকাতে গিয়ে সেটি পুরোপুরি খুলে ফেলে। তখন সে আর ক্রিকেট নামের ঘোড়াটি দুজনেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। ষাঁড়টি ধীরে পা ফেলে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। তার পেছনেই আসে ঘোড়াটি এবং ঢুকেই কৌতূহল নিয়ে সোফা শুঁকতে শুরু করে। ম্যাকেকে ও তার বাগদত্তা পেট ক্যামেরার স্ক্রিনে হঠাৎ একটি গরুর মাথা ঢুকে পড়তে দেখে সঙ্গে সঙ্গেই দৌড়ে বাড়ি ফেরেন। আইনপ্রণেতা জানান, পরবর্তী প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই দুই বিশাল প্রাণী পালা করে ঘরের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা করে, আর আলমারি থেকে জিনিসপত্র ফেলে দেয়। এই সময়ে তাদের তাণ্ডবে ঘরের অবস্থা হয় লণ্ডভণ্ড। ম্যাকেকে আরও বলেন, মাছের ট্যাংকের পানি পান করা হয়েছে, আর আগে সেখানে কতগুলো মাছ ছিল জানি না—তবে ধরে নিচ্ছি সবগুলো এখনো বেঁচে আছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ট্যাংকের পানির স্তর বেশ খানিকটা কমে গেছে। আরটিভি/এআর 
হঠাৎ সাংসদের ঘরে ঢুকে পড়ল ষাঁড় ও ঘোড়া, ঘটনা কী
অস্ট্রেলিয়ায় সমুদ্র সৈকতে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১০
অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে সেখানে অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় এরই মধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় অভিযান চলমান রয়েছে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, বন্ডাই এলাকায় একাধিক গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পত্রিকাটি আরও জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পবেল প্যারেড এলাকায় একের পর এক পুলিশ গাড়ি প্রবেশ করতে দেখেছেন এবং আশপাশে কিছু মানুষকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।   আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি অস্ট্রেলিয়ার আরেক সংবাদমাধ্যম ৭নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয়রা গুলির শব্দ শুনে সমুদ্রসৈকত থেকে শত শত মানুষকে প্রাণভয়ে দৌড়ে পালাতে দেখেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ পরে নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুই হামলাকারীকে নিরস্ত্র করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকা তল্লাশি করে সম্ভাব্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইএডি) খুঁজে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাতের মাত্রা এখনো স্পষ্ট নয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পাশের ব্রন্টে বিচে অবস্থানকালে তিনি একটানা প্রায় ২০টি গুলির শব্দ শুনতে পান। এই হামলার সঙ্গে বন্ডাই বিচে চলমান কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সময় বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হনুক্কার প্রথম দিনের অনুষ্ঠান চলছিল বলে জানা গেছে। চানুকা বাই দ্য সি ২০২৫ নামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিকেল ৫টা থেকে সমুদ্রসৈকতের শিশুদের খেলার মাঠের কাছে হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বন্ডাইয়ের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমিশনার ও নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলবানিজ বলেন, আমরা নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আরও আপডেট দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।  উল্লেখ্য, সিডনির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত বন্ডি সমুদ্র সৈকত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সুপরিচিত সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। ছুটির দিনে এমন ব্যস্ত সৈকতে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় গোটা অস্ট্রেলিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আরটিভি/এআর 
অস্ট্রেলিয়ায় সমুদ্র সৈকতে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১০
দু’লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীকে জেন-জি’দের কটাক্ষ
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই আইন প্রয়োগের প্রথম দিনেই দেশজুড়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক মিশ্র চিত্র দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, অন্যদিকে কিশোর ব্যবহারকারীদের একটি অংশ এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকার ‘বিজয়’ উদযাপন করছে এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করছে। অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস নিশ্চিত করেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সী হিসেবে চিহ্নিত দুই লক্ষাধিক টিকটক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (ডিঅ্যাক্টিভেট) করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান সরকারের আইনটির প্রাথমিক কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও, কিশোর ব্যবহারকারীরা প্রযুক্তিগত ফাঁক খুঁজে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোরদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বার্তাগুলো নজর কাড়ছে। এক টিকটক ব্যবহারকারী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে উদ্দেশ করে লিখেছে, ‘প্রিয় অ্যান্থনি আলবানিজ, আমি আপনার নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে গেছি।’ প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব টিকটক ভিডিওর নিচেও ব্যবহারকারীরা নিষেধাজ্ঞার ব্যর্থতা নিয়ে উপহাস করে মন্তব্য করেছেন, যেমন—‘এটা কাজ করেনি ব্রো, আমি এখনো এখানে।’ অনেকে আবার গোপন ব্যাক-আপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)-এর মতো কৌশল ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছে বলে জানাচ্ছে। আরও পড়ুন মতুয়ারা কি এবার ভোট দিতে পারবেন এদিকে, যেসব শিশু তাদের প্রিয় অ্যাপ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তারা এখন অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভিড় জমাচ্ছে। বর্তমানে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে Lemon 8, Yope, এবং Coverstar-এর মতো অ্যাপগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, যা টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। মন্ত্রী ওয়েলস সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নিষিদ্ধ ব্যবহারকারীরা এসব প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করলে সেগুলোকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করতে দেরি করা হবে না। যদিও ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট রাতারাতি শতভাগ সাফল্য নিয়ে বাস্তববাদী। তিনি স্বীকার করেছেন, এই ধরনের বৃহৎ সিস্টেমে প্রযুক্তির দুর্বলতা থাকবে এবং পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে। আইনটির অধীনে অপ্রাপ্তবয়স্করা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গেলেও তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কোনো শাস্তি হবে না। আইন মেনে চলার এবং ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার পুরো দায়িত্বটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর বর্তানো হয়েছে, যা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট টেক জায়ান্টকে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। আরটিভি/এএইচ
দু’লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীকে জেন-জি’দের কটাক্ষ
অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি
অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে (এনএসডব্লিউ) সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানলের কারণে অন্তত ১৬টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও বহু বাড়ি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজ্যের মিড নর্থ ও সেন্ট্রাল কোস্ট এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।  আরও পড়ুন মাঝ আকাশে ২ বিমানের সংঘর্ষ, অতঃপর... রাজ্যের রুরাল ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিমবিন রোড–কুলিওয়ং এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের জন্য জরুরি সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের—বিশেষ করে নিমবিন রোড, গ্লেনরক পেরেড, লারা স্ট্রিট ও নিমালা অ্যাভিনিউ এলাকার মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, কুলিওয়ং সিডনি থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সেন্ট্রাল কোস্টের একটি উপশহর। আরেকটি বৃহৎ দাবানলের কারণে বেইরমি, বেইরমি ক্রেক, উইডিন, ইয়োরা ও কেরাব্বি এলাকাগুলোতেও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা এই মুহূর্তে আর সরে যেতে পারেননি, তাদের জন্য এখন বাইরে বের হওয়া নিরাপদ নয় বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ডিন নারামোর নিশ্চিত করেছেন, এলাকাটিতে উচ্চ তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী ও ঝোড়ো বাতাস বইছে, যা দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আগুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনলাইনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  আরটিভি/এআর 
অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি
বিড়ালের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করল নিউজিল্যান্ড, কিন্তু কেন?
মানুষের সঙ্গে বিড়ালের সখ্যতা প্রায় দশ হাজার বছরের পুরোনো। মিশরীয়দের কাছে এরা ছিল পবিত্র, আর আমাদের কাছে আজও এরা ঘরের উষ্ণতা ও নিস্তব্ধতার প্রতিচ্ছবি। অথচ এই একই প্রাণী, যে মুহূর্তে মানুষের আদর ছাড়িয়ে বন্য পরিবেশে মিশে যায়, তখন সে হয়ে ওঠে এক নিঃশব্দ ও নির্দয় শিকারি। তাইতো নিউজিল্যান্ড, যা তার অনন্য বন্যপ্রাণীর জন্য বিশ্বখ্যাত, সেই দেশেই এখন বন্য বিড়াল বা মালিকানাহীন বিড়ালদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক চরম অভিযান। এই অভিযান কেবল একটি প্রাণীর বিরুদ্ধে নয়, এটি নিউজিল্যান্ডের অদ্বিতীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার এক জীবন-মরণ যুদ্ধ। আরও পড়ুন সৈকতে হঠাৎ হাঙরের আক্রমণ, নারী পর্যটকের মৃত্যু দেশের সংরক্ষণমন্ত্রী তামা পোতাকা গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ঘোষণা করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে সব বন্য বিড়ালকে নির্মূল করা হবে। এই প্রাণীটিকে এবার নিউজিল্যান্ডের বিশ্বস্বীকৃত ‘প্রিডেটর-ফ্রি ২০৫০’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এই উদ্যোগ চালু হওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো নতুন শিকারি প্রাণীকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। দীর্ঘদিন ধরেই বন্য বিড়ালদের ধরা বা মেরে ফেলার মতো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চলছিল, তবে তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এবার তাদের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত ও বৃহৎ আকারের জাতীয় নির্মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সংরক্ষণমন্ত্রী পোতাকা বন্য বিড়ালকে আখ্যা দিয়েছেন ‘স্টোন-কোল্ড কিলার’ বা নির্দয় শিকারি হিসেবে। রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বনভূমির সৌন্দর্য বজায় রাখা এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এসব হত্যাকারীকে সরিয়ে ফেলতেই হবে।’ নিউজিল্যান্ডের বনভূমি ও উপকূলীয় দ্বীপগুলোতে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি বন্য বিড়াল ও মালিকানাহীন বিড়ালের অবাধ বিচরণ। লেজসহ এসব বিড়ালের দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিটার এবং ওজন সাত কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক বন্য বিড়াল সে দেশের দুর্লভ প্রাণিজগৎ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এদের আগ্রাসনের কারণে রাকিউরা স্টুয়ার্ট দ্বীপে পুকুনুই বা সাউদার্ন ডটারেল প্রজাতির পাখি প্রায় বিলুপ্তির মুখে এবং মাউন্ট রুয়াপেহু এলাকায় তারা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ বাদুড় শিকার করায় সেই প্রজাতিও মারাত্মকভাবে হুমকিতে। বন্য বিড়ালকে তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অতীতে তীব্র জনমত বিরোধিতা দেখা গেলেও, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া কৌশল নিয়ে জনমতের ৯০ শতাংশই বন্য বিড়াল নির্মূল করার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে গৃহপালিত বিড়াল এ তালিকায় না থাকলেও, পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকা নিউজিল্যান্ডে সেগুলোর ভূমিকাও যে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই নির্মূল কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। আরটিভি/এআর 
বিড়ালের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করল নিউজিল্যান্ড, কিন্তু কেন?