ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধের দামামা, এবার ভারতের পাশে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাকে ঘিরে তলানিতে এসে ঠেকেছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। ঘটনার পর থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দুদেশ। তার ওপর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর হুমকি-ধমকিতে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা। এরই মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) টানা ৭ দিন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় এরই মধ্যে নিজের তিন বাহিনীকে অভিযানের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সহকারে এলওসিতে যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে পাকিস্তানি সেনারাও। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ সময় পেহেলগাম হামলার ঘটনায় ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারতের ‘আত্মরক্ষার’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

পেহেলগামে হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফোনালাপে বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করার ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের পরিচয় প্রকাশ হয়েছে। তারা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে এবং এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশ্ব এই সন্ত্রাসবাদ থেকে আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না।

এ সময় ভারতের ‘আত্মরক্ষার’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত, পেহেলগাম হামলা ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের লাইন অব কন্ট্রোলে (এলওসি) টানা সাতদিন গোলাগুলি হয়েছে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

এর আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই ফোনালাপেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। তবে, চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) কাছে পূর্ণমাত্রার সামরিক মহড়া চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনারা। বৃহস্পতিবার ট্যাংক, কামান, গোলা ও তাজা গুলি নিয়ে মহড়া দেয় তারা।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যে কোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য সাজানো হয়েছে এই মহড়া। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ সেনারাও অংশ নেন এতে।

একইদিন কাশ্মীর সীমান্তে বিরাজমান উত্তেজনা ঘিরে পাকিস্তানের পক্ষে থাকার ঘোষণা এসেছে চীনের পক্ষ থেকে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে নিযুক্ত চীনা কনসাল জেনারেল ঝাও শিরেন বলেছেন, সব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে থাকবে বেইজিং।

অবশ্য তিনি ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানকে শান্তির পথ খোঁজার আহ্বানও জানিয়েছেন এ সময়।

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। পরোক্ষভাবে পাকিস্তান এ হামলায় জড়িত, এমন অভিযোগ তুলে বুধবার দেশটির সঙ্গে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় দেশটি। জবাবে সিমলা চুক্তি স্থগিত ও ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। স্থগিত করে দেওয়া হয় ভারতের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্যও।

এ ছাড়া সিন্ধু নদের পানি ইস্যুতে কড়া বার্তা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি ঘোষণা দেন, যেকোনো মূল্যে নিজের পানির অধিকার রক্ষা করবে পাকিস্তান। সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের জেরে ভারতকে হুমকি দেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোও। তিনি বলেন, সিন্ধু দিয়ে হয় পানি বইবে, না হয় ভারতীয়দের রক্ত বইবে।

পাকিস্তান প্রয়োজনে পারমাণবিক হামলার জন্যও প্রস্তুত আছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও রেলমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ আব্বাসি।

অন্যদিকে পেহেলগাম হামলায় জড়িত ও মদতদাতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী ও তাদের মদতদাতাদের খুঁজে বের করব এবং এমন শাস্তি দেব, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। সময় এসেছে সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার। ১৪০ কোটি মানুষের দৃঢ় সংকল্প সন্ত্রাসের মদতদাতাদের চূর্ণ করে দেবে।

আরটিভি/এসএইচএম-টি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
ভারতে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। পৈশাচিক এই নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর এনডিটিভির।  পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রাতে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে তোলে। কিন্তু গাড়িটি গন্তব্যে না গিয়ে গুরগাঁও সড়কের নির্জন পথে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে পাশবিক নির্যাতন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাত ৩টার দিকে ফরিদাবাদের এসজিএম নগরের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। এতে ওই নারীর মুখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থায় তিনি কোনোমতে তার বোনকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর জখম হওয়ায় তার মুখে ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং পারিবারিক কলহের কারণে বর্তমানে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছেন। ঘটনার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এক বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে এই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত জবানবন্দি গ্রহণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দেশটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের রাস্তায় নারীরা এখনো কতটা অসুরক্ষিত। আরটিভি/এআর 
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।  মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।  আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে।  হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।  আরটিভি/এআর 
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ এই নেতার অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় আসছেন। ইতোমধ্যেই তাদের আগমনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠেয় এই জানাজায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিশ্বমঞ্চে যে শোকের ছায়া নেমেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তারই এক জোরালো প্রতিফলন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে প্রটোকল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এবার ‘চীনা সন্দেহে’ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ৯ ডিসেম্বর কেনাকাটা করতে গিয়ে একদল যুবকের বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় ২৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে। টানা ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান; যিনি সীমান্তে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪) দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন।  আরও পড়ুন ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অ্যাঞ্জেলের মরদেহ তার নিজ শহর আগরতলায় আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র চেহারার কারণে তাদের সন্তানদের ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল উগ্র যুবক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তার ছোট ভাই মাইকেল দোজের সাথে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? এই তর্কের মাঝেই অভিযুক্তরা ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।  এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে দুইজন নাবালক। তবে মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবাস্থি এখনও পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তার সন্ধান দিতে পারলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।  তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাদেরই নিজ দেশে ‘চীনা’ বলে অপমানিত হতে হয়। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয় বরং দেশের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে শ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।   আরটিভি/এআর 
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই বহিষ্কারের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।  রিয়াদের ভারতীয় মিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে কয়েক হাজার ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকুরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন তাজমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরবের সংখ্যার ধারেকাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক বা শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অংকের ঘরে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে আরও দেখা যায় যে, শুধুমাত্র সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন নিয়ে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি। আরটিভি/এআর 
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার বাসভবনে পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার দাবি চীনের
তারেক রহমানকে শোকবার্তা পৌঁছে দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী