
ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা এড়াতে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় রাস্তায় পড়ে যান এক চালকের স্ত্রী। তবে স্ত্রীকে উদ্ধারে না থেমে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই ব্যক্তি। পরে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে উঠে দাঁড়াতে সহায়তা করেন। ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় নম্বরপ্লেট ও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় এক মোটরসাইকেলচালককে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা তার স্ত্রী রাস্তায় পড়ে যান। কিন্তু পেছনে না তাকিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে উঠে দাঁড়াতে সহায়তা করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, নারী রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পরও মোটরসাইকেলচালক থামেননি। পরে পুলিশ ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে। তিনি আঘাত পাননি বলে জানান। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পর তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।
তবে ওই মোটরসাইকেলচালকের পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই চালকের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ঘটনাটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।
এক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘বর্ষসেরা স্বামী। উত্তর ভারতের বড় উন্নয়ন।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘নারীর নিশ্চয়ই ব্যথা লাগছে, কিন্তু বিব্রত হওয়ার কারণে হয়তো তা প্রকাশ করতে পারছেন না।’
অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ভারতের অধিকাংশ গৃহবধূর অবস্থা এমন।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস ও সমালোচনা চললেও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। জরিমানা এড়াতে গিয়ে এমন আচরণ সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরটিভি/এসকে


