
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতাজনিত আবহাওয়াগত ঘটনা ‘এল নিনো’ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের একটি ট্র্যাকার। এর মধ্যে ভারতে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের ‘এল নিনো হিট মর্টালিটি ট্র্যাকার’ অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোতে। ভারতে সম্ভাব্য মৃত্যুর বেশির ভাগই ঘটতে পারে আগামী বছরের মার্চে। নাইজেরিয়ায় প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২৯ হাজার এবং ব্রাজিলে প্রায় ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে ট্র্যাকারটির পূর্বাভাসে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, বর্তমানে যে ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে এই ট্র্যাকার।
বাড়তে পারে তাপমাত্রা, বদলাবে বৃষ্টিপাতের ধরন
এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসায় কোথাও খরা, আবার কোথাও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তীব্র গরমের পাশাপাশি ঝড়-ঝঞ্ঝাসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, চলতি বছরের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর অন্যতম শক্তিশালী ঘটনায় পরিণত হতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এটির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মুম্বাইয়ে বায়ুদূষণ বাড়ার আশঙ্কা
এল নিনোর প্রভাবে ভারতের মুম্বাই শহরে বায়ুদূষণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিশেষজ্ঞরা।
সিস্টেম অব এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চের (সাফার) প্রতিষ্ঠাতা-প্রকল্প পরিচালক এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের চেয়ার অধ্যাপক গুফরান বেগ বলেন, মুম্বাইয়ের মতো শহরে বৃহৎ পরিসরের বায়ুপ্রবাহ ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে বাতাসের স্বাভাবিক চলাচলের মাধ্যমে দূষণ ছড়িয়ে পড়ার যে সুবিধা শহরটি পায়, তা কমে আসতে পারে।
কী এই এল নিনো?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের বৈশ্বিক ধরনে পরিবর্তন আসে।
সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং এটি প্রায় নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর বিপরীত পর্যায়কে বলা হয় ‘লা নিনা’। এ দুই অবস্থার মাঝখানে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরপেক্ষ জলবায়ুগত পরিস্থিতিও বিরাজ করতে পারে।
তবে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ও আবহাওয়াগত প্রভাবগুলো পূর্বাভাসনির্ভর। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করবে এল নিনোর তীব্রতা, স্থানীয় আবহাওয়া, মানুষের তাপ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর।
আরটিভি/এসকে


