ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রসায়নের অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের অঁরি বি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই।

সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার (৭ অক্টোবর) এই বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি এবং মানবদেহের জন্য কার্যকরী রাসায়নিক কণা তৈরিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিজয়ীরা সনদ ও মেডেলের পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থ পাবেন, যা তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে।

১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেল পুরস্কার মোট ১১৮ বার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ কিছু বছর এই বিভাগে পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের নতুন ২ জন বিজ্ঞানীসহ এ পর্যন্ত রসায়নে মোট নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে।

বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাত্র ২ জন বিজ্ঞানী রসায়নে দুইবার করে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন, ফ্রেডরিক সেঙ্গার (১৯৫৮ ও ১৯৮০) এবং কে. ব্যারি শার্পলেস (২০০১ ও ২০২২)।

এছাড়া কিংবদন্তি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরি দুই ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে।

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ ১৯০১ সালে রসায়নে প্রথম নোবেল পান। রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং দ্রবণের অসমোটিক চাপ আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নের ভিত্তি গড়ার জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।

২০২৫ সালে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্য/অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং জর্ডান/যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে তারা এই পুরস্কার পান।

রসায়নে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার স্ত্রী ইরেন জোলিও-ক্যুরির সাথে যৌথভাবে নোবেল পান।

কেবল রসায়নেই নয়, নোবেলের পুরো ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বিজ্ঞানী জন বি. গুডএনাফের। ২০১৯ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির নেপথ্য অবদানের জন্য যখন তিনি নোবেল পান, তখন তার বয়স ছিল ৯৭ বছর।

নারী বিজয়ী: রসায়নে এ পর্যন্ত মোট ৮ জন নারী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম নামটি বিজ্ঞানী মেরি কুরির (১৯১১)।

রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হালজেন। বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন থেকে ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন এই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হালজেনকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। তার এই চিন্তাই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে।  প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বিশাল বরফস্তরের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব যন্ত্রের সাহায্যে মহাবিশ্বের দূরবর্তী শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা সামনে আনেন হালজেন। কোনো নিউট্রিনো যখন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ ও গভীর বরফে স্থাপিত সংবেদনশীল সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফকে উপযোগী করে তোলে এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাইরের নানা ধরনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত এই বিশাল বরফস্তর এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা গবেষণার জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। হালজেনের ধারণা তাই পরবর্তী সময়ে অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং দক্ষিণ মেরুতে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার পেয়েছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী আর্থার আসকিন। ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
নোবেল ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অনন্য রেকর্ড
নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একই ব্যক্তির একাধিক নোবেল জয়ের ঘটনা যেমন বিরল, তেমনি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার নজির আরও বিস্ময়কর। বিশ্বমঞ্চে মেধার এই অনন্য বংশানুক্রমিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কয়েকটি পরিবার। বিশেষ করে ফরাসি বিজ্ঞানী ক্যুরি পরিবার বিজ্ঞান ও গবেষণায় যৌথ অবদানের মাধ্যমে নোবেল ইতিহাসে এমন এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে, যা আজ পর্যন্ত আর কোনো পরিবার স্পর্শ করতে পারেনি।  নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এবং আলোচিত পরিবার হলো ক্যুরি পরিবার। এই একটি পরিবারই যৌথ ও এককভাবে মোট ৫টি নোবেল পুরস্কার নিজেদের করে নিয়েছে। মারি ক্যুরি ও পিয়েরে ক্যুরি (স্বামী-স্ত্রী) ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার ও গবেষণার জন্য মারি ক্যুরি এবং তার স্বামী পিয়েরে ক্যুরি যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মাধ্যমে মারি ক্যুরি ইতিহাসের প্রথম নারী নোবেল জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। মারি ক্যুরি (একক রেকর্ড) স্বামী পিয়েরে ক্যুরির মৃত্যুর পর, ১৯১১ সালে মারি ক্যুরি রসায়নে এককভাবে তার দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় (পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন) নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। আইরিন ও ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি (কন্যা ও জামাতা) মারি ও পিয়েরে ক্যুরির জ্যেষ্ঠ কন্যা আইরিন জোলিও-ক্যুরিও বাবা-মায়ের পথ ধরে বিজ্ঞানের আঙিনায় আসেন। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য আইরিন এবং তার স্বামী ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া মারি ক্যুরির ছোট মেয়ে ইভ ক্যুরির স্বামী হেনরি ল্যাবৌইসি ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফেট নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সংস্থাটির পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে ক্যুরি পরিবারের সাথে ৫টি নোবেল পুরস্কারের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। দম্পতির নোবেল জয় নোবেল ইতিহাসে অন্যান্য সফল দম্পতি ক্যুরি দম্পতি ও তাদের কন্যা-জামাতা ছাড়াও ইতিহাসে আরও বেশ কয়েকজন স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে নোবেল পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। গার্টি কোরি ও কার্ল কোরি: ১৯৪৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পান এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী দম্পতি। মে-ব্রেট মোজার ও এডভার্ড মোজার: ২০১৪ সালে মস্তিষ্কের পজিশনিং সিস্টেম বা ‘অভ্যন্তরীণ জিপিএস’ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথ নোবেল পান নরওয়ের এই দম্পতি।  অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এস্থার দুফলো: ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী ফরাসি-মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো। সূত্র: বাসস    আরটিভি/জেএমএ
নোবেল ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অনন্য রেকর্ড
পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড
নোবেল পুরস্কারের সোয়া শ' বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার নজির অত্যন্ত বিরল ও বিস্ময়কর। বিশ্বমঞ্চে পারিবারিক মেধার এই অনন্য উত্তরাধিকার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। নিচে নোবেলজয়ী সেই সফল পিতা-পুত্রদের বিবরণ তুলে ধরা হলো: হেনরি ও লরেন্স ব্র্যাগ এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্ফটিকের গঠন আবিষ্কারের জন্য পিতা উইলিয়াম হেনরি ব্র্যাগ ও পুত্র উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ ২৯১৫ সালে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এটি একই বছর যৌথভাবে পিতা-পুত্রের নোবেল জয় একমাত্র রেকর্ড। লরেন্স ব্র্যাগ মাত্র ২৫ বছর বয়সে বাবার সাথে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও সর্বকনিষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড ধরে রেখেছেন। জে জে থমসন ও জর্জ পেজেট স্যার জোসেফ জন থমসন (জে জে থমসন) ১৯০৬ সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার ও গ্যাসে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এর ৩১ বছর পর, ১৯৩৭ সালে তাঁর পুত্র জর্জ পেজেট থমসন ইলেকট্রনের তরঙ্গধর্মী বৈশিষ্ট্য প্রমাণের জন্য একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন। নিলস বোর ও অগে বোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী নিলস বোর ১৯২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি অগে বোর ১৯৭৫ সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে উপ-পারমাণবিক কণার গতিপ্রকৃতি আবিষ্কারের জন্য একই বিভাগে নোবেল জয়ের গৌরব অর্জন করেন। ম্যান ও কাই সিগবান এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি আবিষ্কারের জন্য ১৯২৪ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল ম্যান সিগবান পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। ১৯৮১ সালে তাঁর পুত্র কাই সিগবান উচ্চ-রেজোলিউশন ইলেকট্রন স্পেকট্রোস্কোপি উন্নত করার স্বীকৃতিস্বরূপ একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন। হ্যান্স ও উলফ ভন ইউলার বাবা হ্যান্স ভন ইউলার-চেলপিন ১৯২৯ সালে এনজাইমের গাঁজন প্রক্রিয়ার ওপর গবেষণার জন্য রসায়নে নোবেল পান। অন্যদিকে তাঁর পুত্র উলফ ভন ইউলার স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটার (নোরপাইনফ্রিন) সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য ১৯৭০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন। আর্থার ও রজার কর্নবার্গ মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার কর্নবার্গ ১৯৫৯ সালে  (উঘঅ) কৃত্রিমভাবে ডিএনএ সংশ্লেষণের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান। এর দীর্ঘ ৪৭ বছর পর, ২০০৬ সালে তাঁর পুত্র রজার কর্নবার্গ ইউক্যারিওটিক কোষের জিনগত তথ্য প্রতিলিপিকরণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য রসায়নে নোবেল লাভ করেন। নিলস জার্নি ও সোভান্তে পাবো ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বের জন্য ১৯৮৪ সালে নিলস জার্নি চিকিৎসায় নোবেল পান। আর ২০২২ সালে বিলুপ্ত হোমিনিন ও মানব বিবর্তনের জিনোম আবিষ্কারের জন্য তাঁর পুত্র সুইডিশ বিজ্ঞানী সোভান্তে পাবো চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন। আরটিভি/টিআর
পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেলের এবারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ঘোষণা করা হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শরীরতত্ত্বে নোবেলজয়ীদের নাম। এ বছর যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসারোথ, পিটার হেগেমান ও জর্জি নাগেল। সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নির্বাচিত করেছে সুইডেনের করোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে পদার্থবিজ্ঞানে, বুধবার রসায়নে এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেলজয়ীর নাম। শুক্রবার ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম। শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে। আর অন্যান্য বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে সুইডেনের স্টকহোম থেকে। এদিকে, অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ১২ অক্টোবর। আরটিভি/এসকে
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
যুদ্ধ-জলবায়ু-অভিবাসনে জটিল বিশ্ব, জাতিসংঘের নতুন প্রধানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি গড়ে উঠেছিল, ৮১ বছর বয়সী সেই প্রতিষ্ঠান এখন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বের নানা সংকট মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে।
যুদ্ধ-জলবায়ু-অভিবাসনে জটিল বিশ্ব, জাতিসংঘের নতুন প্রধানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
আরও পড়ুন
নোবেল ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অনন্য রেকর্ড
নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু আজ
৫ অক্টোবর থেকে শুরু নোবেল পুরস্কার ঘোষণা, বাড়ল পুরস্কারের অর্থমূল্য 
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়ল