ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধ-জলবায়ু-অভিবাসনে জটিল বিশ্ব, জাতিসংঘের নতুন প্রধানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।  ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি গড়ে উঠেছিল, ৮১ বছর বয়সী সেই প্রতিষ্ঠান এখন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বের নানা সংকট মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে।

জটিল হয়ে ওঠা এই বিশ্বে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এপি নিউজ।

একসময় বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত জাতিসংঘ। কিন্তু ইরান, ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সংস্থাটির ভূমিকা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা কয়েক শ কোটি ডলারসহ আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘকে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হয়েছে।

গত সপ্তাহে শেষ হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের বক্তব্যে পরবর্তী মহাসচিবের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে।

বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে বলেন, বিশ্বের এখন দুর্বল জাতিসংঘের প্রয়োজন নেই। এমন একটি জাতিসংঘ প্রয়োজন, যা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার মোকাবিলা করতে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

১০ বছর জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার পর গুতেরেস বলেন, সবার জন্য কার্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই সংস্থাটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি বলেন, মানবতা ক্ষমতাকে কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে, তার ওপরই যৌথ ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

গুতেরেস জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব ও বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্নও রাখেন। আইনের শাসনকে দায়মুক্তির স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার আগেই রক্ষা করা যাবে কি না, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে কি না, সমাজ ভেঙে পড়ার আগে বৈষম্য কমানো যাবে কি না—এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক সীমা অতিক্রমের আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তা পরিচালনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান গুতেরেস।

২১ শতকের উপযোগী করতে হবে জাতিসংঘকে

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের কাঠামোর পরিবর্তে ২১ শতকের বাস্তবতা অনুযায়ী জাতিসংঘকে নতুনভাবে সাজানো।

উন্মুক্ত সমাজ ইনস্টিটিউটের প্রচার বিভাগের পরিচালক কিজিতো বিয়েঙ্কিয়া বলেন, কয়েক দশকের মধ্যে জাতিসংঘের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে নতুন মহাসচিবের জন্য।

তার মতে, দীর্ঘদিন পর জাতিসংঘ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আর্থিক সংকটের কারণে বাজেট কমানো, বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংস্থাকে একীভূত করা এবং শত শত পুরোনো নির্দেশনা বাতিলের চেষ্টা চলছে।

তবে একই সময়ে নতুন মহাসচিবের ওপর বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে আরও সক্রিয় হওয়ার চাপও থাকবে বলে জানান তিনি।

বিয়েঙ্কিয়া প্রয়াত মহাসচিব কফি আনানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনি বিভিন্ন সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন এবং দক্ষ মধ্যস্থতাকারী ও আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

গাজা, সুদান ও ইউক্রেনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতের দিকে তাকিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এসব সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকা কোথায়? তার মতে, কফি আনানের সময় জাতিসংঘ সংঘাত নিরসনের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিল।

সংস্কারের কথা সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একের পর এক বিশ্বনেতা সংস্থাটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে গেলেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দেয়।

বিশেষ করে জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে।

জাতিসংঘের সব সদস্যদেশই চায় নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমান বিশ্বের বাস্তব প্রতিফলন থাকুক। কিন্তু পরিষদে নতুন সদস্য যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—ভেটো ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের মহাদেশ আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই। লাতিন আমেরিকারও কোনো স্থায়ী আসন নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রগুলোরও নেই স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব।

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা গত সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আফ্রিকার প্রতি কোনো দয়া নয়; বরং জাতিসংঘের বৈধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও টিকে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য।

নতুন মহাসচিবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা বলেন, বিশ্ব এখন তীব্র বিভক্তি, বাড়তে থাকা বৈষম্য এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি কমে যাওয়া আস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যবস্থার বিপজ্জনক ভাঙন ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার বিষয়েও সতর্ক করেন।

তিনি জাতিসংঘ সনদের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ বিংশ শতাব্দীর দুটি বিশ্বযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তাই ‘শক্তিই ন্যায়’—এমন ধারণার পরিবর্তে জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

সূত্র: এপি

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন এ তথ্যটি প্রকাশ করে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি। এতে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় আয়ু, সুস্থ গড় আয়ু, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় টিকটিকির নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা ক্ষুদ্র এই সরীসৃপের বাহারি রং ও শরীরের বিশেষ নকশা গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পেরুর সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর নতুন এই প্রজাতি আবিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’। দক্ষিণ পেরুর আরেকিপা অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা ১৫ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় প্রজাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই টিকটিকির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার। খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ছোট উদ্ভিদের পাশাপাশি মাকড়সা, গুবরে পোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে এই প্রজাতির টিকটিকি। নতুন প্রজাতিটির পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যদের শরীরের রং এবং নকশায় পার্থক্য দেখা যায়। স্ত্রী টিকটিকির পিঠে রয়েছে বর্গাকার দাগ। অন্যদিকে, পুরুষদের পিঠে দেখা যায় তির্যক দাগ ও সাদা আঁশ। গবেষকদের ধারণা, এসব বৈশিষ্ট্য পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারির চোখ এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে। গবেষণাটির প্রধান জীববিজ্ঞানী লিং হুয়ামানি-ভালদেররামা জানান, পেরুতে বর্তমানে ২৯৬ প্রজাতির টিকটিকি রয়েছে। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার দেশটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়াবে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ডাইভারসিটি’-তে। উচ্চ পর্বতাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণীদের অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্যের অজানা দিক উন্মোচনে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   আরটিভি/এসকে
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ২২ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি
আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২২ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ২২ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি
লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড
লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি ছোট ছোট টুকরা জোড়া দিয়ে সফলভাবে তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর মানচিত্র। অবিশ্বাস্যভাবে পুরো কাজটি শেষ করতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড।
লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর এশিয়ার বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি শেয়ার করল মার্কিন দূতাবাস
ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘জাতিসংঘে অস্ত্রের বদলে কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী’
নিজ যোগ্যতায় জাতিসংঘে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান: মাহাদী আমিন