
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম এতটাই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে যে কিছু জ্বালানি স্টেশনের ডিজিটাল সাইনবোর্ডে সঠিক দাম প্রদর্শন করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম বেড়ে ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা এসব পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাসবাডি’র জ্বালানি তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান প্রকাশিত তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে এই রেকর্ড দরপতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটকে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্যালনে ৭ দশমিক ৭৬ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫৫ সেন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮১ ডলার বেশি। পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছে যা ২০২২ সালের জুনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সান বার্নার্ডিনো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের কয়েকটি স্টেশনে অস্বাভাবিক মূল্যে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে তেলের উচ্চ মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরপরই পেট্রোলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে এবং প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও আপাতত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আরটিভি/এআর


