ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার ডিজেল রপ্তানি বন্ধে যে সিদ্ধান্ত জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রপ্তানি সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, রপ্তানি কমিয়ে দিলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমার বদলে উল্টো উৎপাদন কমে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজার দুই জায়গাতেই দাম বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার, অর্থাৎ প্রতি লিটার প্রায় ১৮১ টাকা।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির উৎপাদিত ডিজেলের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে রপ্তানি কমানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড় তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসসের আগস্টের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডিজেলের সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও সরবরাহ কমেছে।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বড় শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির কোথাও ডিজেল উৎপাদন কমেছে, আবার কোথাও উৎপাদন বন্ধও হয়েছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডিজেল মজুতও কমছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত কমে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়ায়। এটি চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের মজুত।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক মনে করছেন, সাময়িকভাবে রপ্তানি বন্ধ করলে দেশের ভেতরে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।

আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি এবং আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান সাময়িক রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। টেনেসির কংগ্রেসম্যান টিম বারচেটও ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার বিষয়ে দুটি বিল উত্থাপন করেছেন। এর একটি বিলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের বড় আশঙ্কা এখানেই। রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

কারণ, রপ্তানি বন্ধের পর দেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের মজুত দ্রুত বেড়ে গেলে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে আসতে পারে। মজুত রাখার জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমিয়ে দিতে পারে।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণেও এমন আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক বিশ্লেষণ বলছে, পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল উৎপাদন দৈনিক সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে।

এর ফলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেট্রল আমদানিকারক দেশেও পরিণত হতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি কমালে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে দেশটির ওপর নির্ভরশীল বাজারগুলো। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ইউরোপের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমে গেলে এসব দেশের ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল কিনতে হবে। এতে সীমিত সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারদরেও।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ঘাটতি পূরণের মতো অতিরিক্ত শোধন সক্ষমতা বড় দেশগুলোর মধ্যে চীনের রয়েছে। তবে চীন সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব শুধু সড়ক পরিবহন বা পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে গেলে অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানিয়েছে, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে।

সব ধরনের রপ্তানি বন্ধ না করে সীমিত বা স্বেচ্ছামূলকভাবে রপ্তানি কমানোর পথও বিবেচনায় রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল জিয়েমারের মতে, এমন ব্যবস্থায় কিছু দেশের জন্য ছাড় রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে, তাদের ক্ষেত্রে রপ্তানি সীমাবদ্ধতায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মূল উদ্বেগ, ডিজেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিজেলের সংকট ও দাম দুটিই বাড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সার‍্যান্ডন ও জনপ্রিয় কমেডি তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক সংস্কৃতি কর্মী।
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে গ্রিন কার্ড প্রসেস করার ক্ষেত্রে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন সর্বনিম্ন আয়সীমা ঘোষণা করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। মূলত ফর্ম আই-৮৬৪ বা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’-এর আওতায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকে নতুন এই আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেটসহ ওয়াশিংটন ডিসি, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের জন্য দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০ ডলার। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন হলে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চারজন হলে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচজনের পরিবারের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে। একই অঞ্চলে ৬, ৭ ও ৮ সদস্যের পরিবারের জন্য স্পনসরের বাৎসরিক আয় যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৪৫০, ৬২ হাজার ৫৫০ এবং ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার করে বাড়তি আয় যুক্ত করতে হবে। অন্যান্য স্টেটের তুলনায় হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে এই আয়সীমা কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার ও আট সদস্যের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৮৮ ডলার আয় দেখাতে হবে। এই অঞ্চলে আটজনের পর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যুক্ত হবে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য যারা নিজ স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পনসর করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ১২৫ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার আয় প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া মূল স্পনসরের প্রয়োজনীয় আয় না থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা কিংবা নিজস্ব সম্পদ দেখিয়েও গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আরটিভি/এআর 
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে।
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশায় ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার চাঙ্গা
মার্কিন ভিসা নিয়ে দূতাবাসের নতুন সতর্কবার্তা
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল এক দেশ 
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস