
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউইয়র্কের টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়। সাম্প্রতিক একটি দেওয়ানি মামলায় নতুন অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসার পর মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।
২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের ভবনে এক নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ওই নারীকে মামলার নথিতে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি করা দেওয়ানি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে মাদক প্রয়োগ করে সাতজন সাবেক ও বর্তমান সদস্য যৌন নিপীড়ন করেন।
তবে ২০২৪ সালে অভিযোগ পাওয়ার পর সে সময় কোনো ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেনের দাবি, তখন পুলিশের কাছে দেওয়া ওই নারীর বক্তব্যে তাকে জোর করে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা বা অজান্তে মাদক দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বিবৃতিতে যৌন কর্মকাণ্ড ও মাদক গ্রহণকে স্বেচ্ছাসম্মত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
ভ্যান হাউটেন বলেন, সে সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি তার কার্যালয় দেখেনি। তিনি আরও জানান, নতুন দেওয়ানি মামলায় ওঠা অভিযোগ ও তথ্য আগের তদন্তের সঙ্গে মিলিয়ে এখন আবার বিষয়টি পরীক্ষা করা হবে।
অন্যদিকে ওই নারীর আইনজীবী থমাস জিউফরা জেলা অ্যাটর্নির বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, প্রাথমিক অভিযোগ দেওয়ার পর ওই নারীর সঙ্গে যথাযথভাবে আর কথা বলা হয়নি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তদন্তকারীর মাধ্যমে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। তিনি আরও বলেন, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাগোষ্ঠীর ছবিও কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল।
জেলা অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, তার কার্যালয় ওই বার্তাগোষ্ঠীর ছবিটি আগে পায়নি। তবে তিনি বলেছেন, নতুন করে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পুনরায় করা প্রয়োজন কি না, সেটিই এখন যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা জেলা অ্যাটর্নির তদন্ত পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, ২০২৪ সালের ঘটনার পর তারা আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত চালিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চি ফাইয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাটিও ২০২৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ রয়েছে।
অভিযোগে নাম থাকা কয়েকজনের আইনজীবী অবশ্য যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, দেওয়ানি মামলায় বর্ণিত ঘটনা ঘটেনি। ফলে নতুন তদন্তে অভিযোগ, আগের বক্তব্য এবং নতুন করে সামনে আসা প্রমাণ—সবকিছুই পর্যালোচনা করা হবে।
জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, জেন ডোর সঙ্গে কথা বলে নতুন তথ্য সংগ্রহের পর মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরটিভি/জেএমএ


