
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেল। কলেজ ক্রীড়ার জন্য নতুন নিয়ম তৈরির লক্ষ্যে আনা ‘প্রটেক্ট কলেজ স্পোর্টস অ্যাক্ট’ নামের দ্বিদলীয় বিলটি দেশটির সিনেটে পাস হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৭-২২ ভোটে বিলটি পাস হয়। এখন এটি প্রতিনিধি পরিষদে যাবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএসএ টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েলও এর অন্যতম প্রধান রচয়িতা। ক্রুজের ভাষ্য, কলেজ ক্রীড়ায় বর্তমানে যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে, নতুন আইন সেটিতে শৃঙ্খলা আনতে পারে।
তবে বিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। নাগরিক অধিকার ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের একাংশও এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থী খেলোয়াড়দের অধিকার ও দর-কষাকষির ক্ষমতা কমতে পারে।
খেলোয়াড়দের আয় ও দলবদলে নতুন সীমা
বর্তমানে কলেজ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা নিজেদের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে আয় করতে পারেন। নতুন বিলেও এই অধিকারকে ফেডারেল আইনে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খেলোয়াড়দের দেওয়া অর্থের ওপর সীমা নির্ধারণ করা হবে। বিল অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের আয় ভাগাভাগির পরিমাণ বছরে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। নারী ও অলাভজনক অলিম্পিক ক্রীড়াগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া খেলোয়াড়দের বারবার দলবদলের ওপর নতুন সীমা আরোপ করা হবে। কলেজগুলোর ক্রীড়া সম্মেলন বা দলগত কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সাময়িক বিধিনিষেধ থাকবে।
এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল বা বাস্কেটবলের কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম চালুর কথা বলা হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি কোথায়
বিলটির বিরোধিতাকারীদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকার ও ক্রিস মারফি। তাদের বক্তব্য, বিলটি শিক্ষার্থী খেলোয়াড়দের দেওয়া অর্থের ওপর সীমা তৈরি করলেও কোচদের কোটি কোটি ডলারের বেতন ও চুক্তি বাতিলের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কিছু করছে না।
তারা আরও বলছেন, খেলোয়াড়দের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী হিসেবে তাদের স্বীকৃতির বিষয়ও বিলে রাখা হয়নি।
সিনেটের ভোটের আগে কোরি বুকার বলেন, এই আইন তরুণ খেলোয়াড়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বিলটির বিরুদ্ধে নিজের হতাশার কথাও জানান।
অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের মতে, কলেজ ক্রীড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতা, খেলোয়াড়দের ঘন ঘন দলবদল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য কমাতে জাতীয় পর্যায়ে অভিন্ন নিয়ম প্রয়োজন।
খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সুরক্ষাতেও পরিবর্তন
সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আইন মেনে চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে জাতীয় কলেজ ক্রীড়া সংস্থার তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগের খসড়ায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়ের সীমা নির্ধারণের যে ভাষা ছিল, সংশোধিত বিলে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগির সুযোগকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ স্নাতক সম্পন্ন করার হার ও শিক্ষাগত অগ্রগতির মতো বিষয় বিবেচনায় রেখে কিছু অর্থ ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
সম্মেলন পরিবর্তনে তিন বছরের বিধিনিষেধ
বিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কলেজগুলোর ক্রীড়া সম্মেলন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মেয়াদ কমানো। আগে পাঁচ বছরের যে সীমার কথা ছিল, তা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া সম্মেলনগুলোর পরিবর্তনের কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
এবার কী হবে?
সিনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিবেশনে ফিরবে না। ফলে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্বাচনের পর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিলটি সিনেটের বাণিজ্য কমিটিতে প্রথম ১৮ জুন ১৯-৯ ভোটে অনুমোদন পায়। এরপর পূর্ণ সিনেটে আসে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন সংশোধনী যুক্ত হওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটে ৭৭-২২ ব্যবধানে পাস হয়।
আরটিভি/জেএমএ


