
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে যৌন নিপীড়নের (গণধর্ষণ) অভিযোগ ওঠার প্রায় ২২ ঘণ্টা আগে সেখানে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। পুলিশের নথিতে ওই ঘটনার উল্লেখ থাকলেও কী মাদক জড়িত ছিল বা পরবর্তী যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা জানা যায়নি।
কর্নেল ডেইলি সান-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১টার কিছু পর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের ভবনে যায়। সেখানে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধি দপ্তরে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের সংরক্ষিত নথি পর্যালোচনা করেও ওই ব্যক্তির পরিচয় বা কী ধরনের মাদক জড়িত ছিল, তা জানা যায়নি। একইভাবে, ওই ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী যৌন নিপীড়নের অভিযোগের কোনো যোগসূত্রও নথিতে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
এর মধ্যে কর্নেলের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যাকে জেন ডো নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে, গত মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ও চি ফাইয়ের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। তার অভিযোগ, সে সময় তিনি কেটামিন, অ্যালকোহল ও গাঁজার প্রভাবে ছিলেন।
অভিযোগের পর পুলিশের করা একটি সাক্ষাৎকারের নথিতেও মাদকসংক্রান্ত তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের কাছে এক নারী জানান, ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে তিনি ভ্রাতৃসংঘের এক সদস্যকে কেটামিনের একটি ব্যাগসহ দেখেছিলেন। ওই ব্যক্তি এর আগে অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান। তবে ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল বা তিনি নিজে সেটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন কি না, সাক্ষাৎকারের নথি থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফ শনিবার (৩ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় জেন ডোর অভিযোগকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন। অভিযোগের পর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও তিনি জানান। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুরো সম্প্রদায়কে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর আগে জানা যায়, অভিযোগের পর তদন্তের প্রথম কয়েক সপ্তাহে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছিল এবং বেনামি তথ্য পেয়েছিল। তবে টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন অভিযোগের বিষয়ে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনা করেননি।
ভ্যান হাউটেন জানান, তিনি জেন ডোর পুলিশের কাছে দেওয়া প্রথম ছয় পৃষ্ঠার বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই বক্তব্যে অপরাধের অভিযোগ স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি।
তবে জেন ডোর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত করেনি। তার দাবি, রাতে কিছু ঘটনায় জেন ডো সম্মতি দিয়েছিলেন—এমন বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা আগেই ঘটনাটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে দেখেছিলেন।
বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা করা হবে কি না, তা বিবেচনা করবেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর হোকুল প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগকারী বা সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে সাক্ষাৎকার না নিয়ে, এমনকি তার সাক্ষাৎকারের পূর্ণ নথি না চেয়েই কীভাবে জেলা অ্যাটর্নি সিদ্ধান্ত নিলেন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


