
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য চালু সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় শুরু হয়েছে। নতুন বছরে এ কর্মসূচির আওতায় বিমা পরিকল্পনার সংখ্যা কমতে পারে। পাশাপাশি, ওষুধের বিমা খরচ ও নিজ পকেট থেকে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণও বাড়তে পারে।
মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সুযোগ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার এবং বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনার মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবেন।
চলতি বছর বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু পরিকল্পনা বন্ধ বা সীমিত করায় অনেক গ্রাহককে ২০২৭ সালের জন্য নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে হতে পারে।
কমছে বিমা পরিকল্পনার সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন। মেডিকেয়ারের অনুমোদন নিয়ে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পরিকল্পনা পরিচালনা করে। প্রচলিত মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এসব পরিকল্পনায় ব্যক্তির নিজস্ব খরচের সীমা নির্ধারণের মতো সুবিধাও রয়েছে।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালে একজন মেডিকেয়ার গ্রাহক গড়ে ৩৫টি অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯টি।
এছাড়া কিছু এলাকায় ওষুধের বিমা সুবিধাসহ মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা আর পাওয়া যাবে না। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৭ সালে প্রায় ১ শতাংশ গ্রাহক সাধারণ নিবন্ধনের আওতায় কোনো ওষুধের বিমা পরিকল্পনা পাবেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন ১৯৩টি এলাকার গ্রাহকেরা। ২০২৬ সালে এমন এলাকার সংখ্যা ছিল ১২৩টি।
ফলে অনেক গ্রাহককে নিজেদের চিকিৎসার প্রয়োজন, ওষুধের খরচ এবং বিমার সুবিধা বিবেচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে।
ওষুধের বিমায় ভর্তুকি বন্ধ, বাড়তে পারে প্রিমিয়াম
মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ কম রাখতে চালু করা একটি অস্থায়ী ভর্তুকি কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কর্মসূচিটির নাম ছিল ‘পার্ট ডি প্রিমিয়াম স্থিতিশীলকরণ প্রদর্শনী কর্মসূচি’।
কর্মসূচিটির আওতায় ওষুধের বিমার মাসিক প্রিমিয়াম কম রাখতে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেওয়া হতো। চলতি বছরের শেষেই এ ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভর্তুকি বন্ধ হলে প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ওষুধের বিমার প্রিমিয়াম বাড়তে পারে। তবে কোন পরিকল্পনায় কতটা খরচ বাড়বে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের মেডিকেয়ার নীতিবিষয়ক কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক জুলিয়েট কুবানস্কি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভর্তুকি না থাকলে ২০২৭ সালে স্বতন্ত্র ওষুধের বিমা পরিকল্পনার কিছু গ্রাহককে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশি হারে প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে।
মেডিকেয়ার পেমেন্ট অ্যাডভাইজরি কমিশনের ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভর্তুকির কারণে ২০২৫ সালে ওষুধের বিমার গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২৬ ডলার এবং ২০২৬ সালে ১৬ ডলার কম ছিল।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ও স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক টিমোথি ম্যাকব্রাইডের মতে, মেডিকেয়ারের ওষুধের বিমায় ভর্তুকি পরিবর্তনের প্রভাব বেশ বড় হতে পারে।
তবে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজ দাবি করেছেন, অধিকাংশ গ্রাহকের প্রিমিয়াম সর্বোচ্চ ১০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে খরচ কমতেও পারে। তাঁর বক্তব্য, গ্রাহকদের জন্য কম খরচের পরিকল্পনা চালু থাকবে এবং ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।
ওষুধের বিমায় বাড়ছে নিজস্ব খরচের সীমা
মেডিকেয়ারের ওষুধের বিমা কর্মসূচি পার্ট ডি-তে আরও কিছু পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমার আওতায় ওষুধের জন্য গ্রাহকের নিজ পকেট থেকে ব্যয় করা অর্থের বার্ষিক সীমা এবং প্রাথমিকভাবে গ্রাহককে যে অর্থ দিতে হয়, সেই নির্ধারিত খরচের পরিবর্তন।
২০২৭ সালে পার্ট ডি কর্মসূচির নির্ধারিত প্রাথমিক খরচ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে।
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক টিমোথি ম্যাকব্রাইড বলেছেন, বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সময় শুধু মাসিক প্রিমিয়ামের দিকে নজর দিলেই হবে না। প্রাথমিক খরচ এবং নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বিবেচনা করতে হবে। কারণ, এসব পরিবর্তন গ্রাহকের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সময় গ্রাহকদের তাই মাসিক প্রিমিয়াম, ওষুধের খরচ, চিকিৎসাসেবার সুবিধা এবং নিজস্ব ব্যয়ের সীমা ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: এবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


