
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থ জোগানোর অভিযোগে ১০ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা উত্তর কোরিয়ার সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা ভুয়া পরিচয়পত্র, চুরি করা পরিচয় এবং মিথ্যা পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈধ প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে তাদের আয়ের বড় অংশ উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ে নেয়। এভাবে দেশটির গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য বছরে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা অর্থ স্থানান্তর, ক্রিপ্টোকারেন্সি রূপান্তর, অর্থ পাচার এবং কর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব লেনদেনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার জন্য লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ ও স্থানান্তর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ছড়ানো, গোপন তথ্য চুরি এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো কাজেও জড়িত ছিলেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রাশিয়ার নাগরিক ভিতোল্ড ভিক্টোরোভিচ ওবেরতাস রয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য তিনি প্রায় ২০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি রূপান্তর করেছেন। পাশাপাশি অন্তত ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অন্যান্য মুদ্রা লেনদেনেও সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার নাগরিক কিম কি হিয়ক ও কিম হিয়ো দং এবং রাশিয়ার নাগরিক ইলিয়া আলেকসান্দ্রোভিচ বয়কভের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দল পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানটি হলো রাশিয়াভিত্তিক উত্তর কোরিয়া-নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির হয়ে কাজ করা ছয় উত্তর কোরীয় নাগরিক ২০২৫ সাল থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণভাবে তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানায় থাকা নির্দিষ্ট সীমার প্রতিষ্ঠানের সম্পদও এর আওতায় পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দিতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়
আরটিভি/জেএমএ


