
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে মৃত একটি বাদুড়ের দেহে প্রথমবারের মতো সাদা-নাক রোগ শনাক্ত হয়েছে।
জুনে পার্কের পূর্বাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় রোগটির জন্য দায়ী ছত্রাকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
সাদা-নাক রোগ উত্তর আমেরিকায় বাদুড়ের জন্য বড় হুমকি। এ রোগে বাদুড়ের নাক, কান ও ডানায় ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় চর্বি দ্রুত কমে যায় এবং পানিশূন্যতা, অনাহার ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে সেখানে থাকা ১০ প্রজাতির বাদুড় পর্যবেক্ষণ করছেন গবেষকেরা। ২০২৪ সাল থেকে রোগটির সম্ভাব্য টিকা নিয়েও পরীক্ষা চলছে। এ পর্যন্ত ৫২৯টি বাদুড়ের ওপর গবেষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৫টিকে পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২৬৪টিকে প্লাসিবো বা কার্যকর উপাদানবিহীন বিকল্প দেওয়া হয়েছে।
শীতনিদ্রা শেষে বসন্তে বাদুড়গুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করছেন গবেষকেরা। টিকা নেওয়া ও প্লাসিবো পাওয়া বাদুড়ের বেঁচে থাকার হার তুলনা করে এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হবে।
বাদুড় পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শিকারি পাখি ও বেজির মতো প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও কাজ করে। ফলে বাদুড়ের সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোগটি মানুষের বা গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হয় না। তবে মানুষের পোশাক, জুতা ও গুহায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের মাধ্যমে রোগ সৃষ্টিকারী ছত্রাক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাদুড় স্পর্শ না করা এবং গুহা বা বাদুড়ের আবাসস্থল পরিদর্শনের পর ব্যবহৃত সরঞ্জাম যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর রোগটি দেশটির ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও কানাডার নয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


