ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

৩ পুলিশের ফাঁসির রায়, কী ঘটেছিল সেদিন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ফাইল ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামে এক যুবককে গুলিসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ৩ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্য এক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর পলাতক রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে রায় পড়া শুরু হয়। প্রথমেই রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর অনুমতি সাপেক্ষে এ কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি দেখানো হয়।

শুরুতেই এ মামলার আসামিদের দায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। এরপর চার্জ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম। আর রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

মামলার অভিযোগে যা উল্লেখ আছে

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় এবং তখনকার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে আসামিরা নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালান।

ওই বছরের ১৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার দিকে বনশ্রী এইচ ব্লকে জামে মসজিদের সামনের গলিতে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন মো. নাদিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি পেটে দুটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দ্বিতীয় অভিযোগে কার্নিশে ঝুলে থাকা ১৮ বছরের তরুণ আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও গুরুতর জখম করার ঘটনা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

মামলার তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেইটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন। আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।

কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবকের জবানবন্দিতে সেদিনের ঘটনা

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন। ওই দিনই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর চলা ভয়াবহ নির্মমতার বর্ণনা দেন কার্নিশে ঝুলে থাকা গুলিবিদ্ধ যুবক আমির হোসেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, জুমার নামাজের পর আফতাবনগরে তার কর্মস্থল থেকে রামপুরায় ফুফুর বাসায় তিনি ফিরছিলেন। সেসময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিবর্ষণের মুখে পড়েন। জীবন বাঁচাতে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে ওঠেন। তিনজন পুলিশ তাকে ধাওয়া করলে তিনি ছাদের রড ধরে ঝুলে পড়েন।

পুলিশের কথায় সেখান থেকে নিচে ঝাঁপ দিতে না চাইলে একজন পুলিশ সদস্য তাকে পরপর তিনটি গুলি করেন। আরেকজন পুলিশ সদস্য এসে আরো তিনটি গুলি করেন, যার সবগুলোই তার পায়ে বিদ্ধ হয়।

রাজধানীর ফেমাস হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল, ফরাজী হাসপাতাল, টঙ্গি আহছানিয়া হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল হয়ে সাভারের সিআরপি পর্যন্ত তার চিকিৎসার বিবরণ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন আমির হোসেন। ওই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন গুলিবিদ্ধ শিশু বাসিত খান মুসার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

চোখের সামনে নিজের সন্তানের গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং মায়ের মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে বেঁচে থাকলেও কথা বলার শক্তি হারিয়েছে, যা তাদের পরিবারের সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

এরপর ওই বছরের ৪ নভেম্বর জবানবন্দি দেন গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরা থানায় দায়িত্বে থাকা এসআই মো. গোলাম কিবরিয়া খান।

তিনি আদালতে বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে নির্মাণাধীন ভবনের রড ধরে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করা এসআই তারিকুল ও এএসআই চঞ্চলকে রামপুরা থানায় এক সভায় শনাক্ত করা হয়েছিল।

তরুণ আমির হোসেন গুলির ঘটনার আগের দিন ১৮ জুলাই তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান আন্দোলন দমনে হাঁটু গেড়ে বসে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২১ বা ২২ জুলাই রামপুরা থানায় এসে মামলার আসামি ওসি মশিউর রহমানকে নগদ ১ লাখ টাকা পুরস্কারও দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

তবে মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী এসআই গোলাম কিবরিয়ায় বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের কাছে প্রশ্ন তোলে যে, ঘটনার দিন এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে সরকারি অস্ত্র ও গুলি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন আসামির তালিকায় না রেখে সাক্ষী করা হল।

রামপুরা থানার এক জিডিতেও কিবরিয়ার নামে গুলি বরাদ্দ ও গুলি করার বিষয়ে বলা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, আমার দায়িত্বভার নেওয়ার অনেক আগেই এ মামলার সাক্ষীর কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। নিজেও দেখেছি যে, গোলাম কিবরিয়া নামে একজন সাক্ষী, তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনার দিন তার নামে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইস্যু করা হয়েছিল। সেখানে তাকে সাক্ষী করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। যদি তিনি (গোলাম কিবরিয়া) অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে সঙ্গত কারণেই আসামি হবেন না। তবে অপরাধ বা অংশগ্রহণ করে থাকলে যদি সাক্ষী করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখব বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কেবল সাক্ষ্য দেওয়ার অজুহাতে তিনি দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। গোলাম কিবরিয়ার অপরাধ সংক্রান্ত কোনো সম্পৃক্ততা থাকলে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আমাদের এমন সুযোগ রয়েছে।

মামলার ১৪ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউশন ১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করেছে তার মধ্যে রয়েছেন কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেন, নিহত মায়া ইসলামের ছেলে ও গুলিবিদ্ধ মুসার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নিহত নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসুম আক্তার নিহা।

এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইয়াকুব, রামপুরা থানার এসআই মো. গোলাম কিবরিয়া, ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান কনস্টেবল আবু বক্কর সিদ্দিক, ডিএমপি কন্ট্রোলরুমের ওয়্যারলেস অপারেটর এএসআই কামরুল হাসান, রামপুরা থানার বেতার চালক মো. আ. রহমান, তদন্ত সংস্থার ফিল্ড অফিসার এএসআই বায়েজীত খান, রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. শাহিন মিয়া, স্টাফ নার্স লিংকন মাঝি, মো. রুকুনুজ্জামান, ইফতেখার আলম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুর রউফও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২ ও ১০ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেওয়ার সময় সিসিটিভি ভিডিও, কল রেকর্ড ও ওয়্যারলেস বার্তার অডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষের ‘এআই জেনারেটেড ভিডিওর দাবি’ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নাকচ করেন।

এরপর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার প্রথম দফায় তার সাফাই সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তার নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা ছিল না এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি তৎকালীন ওসির ডায়েরির সূত্র ধরে এসআই তারিকুলকে গুলির জন্য দায়ী করেন।

১৩ জানুয়ারি উভয় পক্ষের সাক্ষ্য শেষে মামলাটিতে প্রথম পর্যায়ের যুক্তিতর্ক ২৫ জানুয়ারি শুরু হয়, শেষ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি।

যুক্তিতর্ক শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। তবে সেদিন প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ দাখিলে ট্রাইব্যুনালের কাছে চার সপ্তাহের সময় প্রার্থনা করে।

সেদিন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে বলেন, তাদের কাছে নতুন ডিজিটাল প্রমাণ এসেছে, যা উপস্থাপন করা প্রয়োজন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ছয় সপ্তাহের সময় চান এবং গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চলের জামিন প্রার্থনা করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল মামলার শেষ পর্যায় বিবেচনায় নাকচ করে দেন।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনকে পাঁচ সপ্তাহ সময় দিয়ে গত ৯ এপ্রিল নতুন প্রমাণের শুনানির দিন ধার্য করেন। রায় পেছানোর বিষয়ে ওই দিন দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলা পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি ‘এক্সট্রা-জুডিশিয়াল কনফেশনের’ (বিচারবহির্ভূত হত্যার স্বীকারোক্তির) ভিডিও রেকর্ড রয়েছে, যেখানে চঞ্চল সরাসরি স্বীকার করেন কীভাবে এবং কার নির্দেশে তিনি গুলি করেছিলেন।

অত্যন্ত শক্তিশালী এই প্রমাণটি আগে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়েছিল। কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং ত্রুটি-বিচ্যুতি বা আলামতটি পরে পাওয়া গিয়ে থাকতে পারে।

এটি অতিরিক্ত প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।

পরবর্তীতে গত ৯ এপ্রিল শুনানির দিনে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এএসআই চঞ্চলের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং তা সম্পূর্ণ অথেনটিক বা সত্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সারোয়ার জাহান ট্রাইব্যুনালের কাছে চঞ্চল সরকারের পুনরায় জবানবন্দি বা পুনরায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন।

গত ১০ জুন আসামি চঞ্চল সরকার ট্রাইব্যুনালে তার দ্বিতীয় দফার সাফাই সাক্ষ্য বা পুনরায় জবানবন্দি দেন।

সেই জবানবন্দিতে তিনি সম্পূর্ণ নতুন অভিযোগ তুলে দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তাকে তার কথামত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিলেন।

চঞ্চল অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে থাকাকালে জোহা তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং মেরে ফেলার হুমকির পাশাপাশি তার নিকটাত্মীয়-স্বজনকেও হত্যার হুমকি দেন। মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি ওই ভিডিওতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

তবে, প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের কাছে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নতুন প্রমাণের সংযুক্তি এবং দ্বিতীয় দফার সাফাই সাক্ষ্যের পর মামলাটিতে পুনরায় আইনি যুক্তিতর্ক হয়। গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ নতুন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

সেদিন সকল সাক্ষ্য, প্রমাণ, ডিজিটাল প্রমাণ এবং আইনি বিশ্লেষণ শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন ঠিক করে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম ৩ দিন বন্ধ থাকবে
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 
সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম ৩ দিন বন্ধ থাকবে
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের।
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
আরও পড়ুন
চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন হাতিয়ে ক্ষান্ত হননি এসআই, ঘুষও নিলেন ১৭ হাজার
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে: আইজিপি
ম্যাসাচুসেটসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, কাঠগড়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা