ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এই রায়ে।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।

পরে রুলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

আরও পড়ুন

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়া বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালামসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে। তিনি বলেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনও কখনও এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়। সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে। দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।  বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে। মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।  মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী
সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোই কাল হয় তানিমের
ঢাকার আরমানিটোলার আহমেদ বাওয়ানী অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম তানিম হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর মোবাইল ছিনতাইয়ের দাবি করা হলেও, এক বছর পর পুলিশি তদন্তে জানা গেছে— মূলত জুনিয়রের সামনে সিনিয়রের সিগারেট জ্বালানোর মতো তুচ্ছ বিষয় এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। মামলাটির তদন্ত শেষে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলার অভিযোগ প্রমাণে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।  তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর আগে তানিম তার মাকে হামলাকারীদের নাম বললেও ভয়ে পরিবার সবকিছু লুকিয়ে যায় এবং মামলা করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কারা তাকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়েছিল, সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।  এরপর তাদের জবানবন্দি ও সামগ্রিক তদন্তে সিগারেট জ্বালানোর বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে কথা বলতে নিহতের বাবা ফিরোজ আলম আবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে নিহত তানিমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হলেও পরে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরবর্তীতে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক উদ্দিন বাদী হয়ে গত বছরের ২৫ জুলাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ মূল অভিযুক্ত মো. সিফাত ওরফে রিগ্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত চার শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়। এই চার শিশু হলো— মো. সায়েম হোসেন, মো. জাহিদ ইসলাম, মোস্তাকিম আহম্মেদ সাফিন ও মো. অনিক। এদের মধ্যে সায়েম, জাহিদ ও অনিক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার পরিকল্পনা ও পেছনের গল্প আসামি সিফাত এবং অভিযুক্ত চার শিশু তানিমের পূর্বপরিচিত ছিল। এর আগে তানিমের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে তানিম হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে মাতম শেষ করে আসিফুর রহমান দাউদ, আরাফাত হোসেন রাফি ও ধলুদের সঙ্গে বাসায় ফেরার জন্য বের হয়। এ সময় তার পেছনে পেছনে সিফাত ও তার সহযোগীরাও গেট দিয়ে বের হয়। হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে কাবিন নামক কাবাবের দোকানের সামনে গিয়ে তানিম সিগারেট জ্বালায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সায়েম তা সিফাতসহ অন্যদের জানায়। তখন সিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের বলে, জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোর এত বড় সাহস তানিমের! সে একটা বেয়াদব, তাকে আজ শিক্ষা দিতে হবে। এরপরই সিফাত ও তার সহযোগীরা তানিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যেভাবে ঘটেছিল হামলা সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে তানিম তার বন্ধুদের থেকে কিছুটা পেছনে পড়ে যান। তিনি চকবাজার থানার নাজিম উদ্দিন রোডের মক্কু শাহ মাজারের কাছে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে সিফাত ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় সিফাত হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে তানিমকে আঘাত করে পালিয়ে যান। তানিমের চিৎকারে তার বন্ধুরা এগিয়ে যায় এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডে যাতে কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য অভিযুক্ত শিশু সায়েম, জাহিদ, সাফিন ও অনিকও তানিমকে দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন ১ জুলাই বাসায় নেওয়ার পর বিকালে তানিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দিন রাত ১১টায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর গত বছরের ২ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিম মারা যায়। আরটিভি/এসএস
সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোই কাল হয় তানিমের
মানবতাবিরোধী অপরাধ / জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে তুলে ধরে ওই সময়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে যে শাস্তি পেলেন স্ত্রী
বছর দেড়েক আগে রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে সিয়াম নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কর্তনের মামলায় তার স্ত্রী মোসা. রুমা আক্তারকে পৃথক দুই ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কাঁচি দিয়ে আঘাতের দায়ে আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর গুরুতর আঘাতের দায়ে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও একমাস কারাভোগ করতে হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। রায়ে বলা হয়, দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে। এজন্য তাকে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ চার বছরের কারাভোগ করতে হবে। মামলার বিবরণ থেকে, ২০২৪ সালের জুন মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিয়াম ও রুমা। বিয়ের পর থেকে তারা কসাইটুলী এলাকায় আলাদা থাকতো। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিয়াম বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় আসে। বাইরে থেকে খাবার খেয়ে আসার কারণে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রুমা ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটা কাঁচি দিয়ে কেটে (অর্ধেক) দেয়। ধস্তধস্তিতে সিয়ামের বাম হাতের বৃদ্ধ আঙুল রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ মে রুমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলম। এরপর ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলায় বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রুমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আরটিভি/এসএস
স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে যে শাস্তি পেলেন স্ত্রী
রাঙ্গামাটিতে লাল চাকমা হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির সাজেকে নিজ বাবা শান্তি লাল চাকমাকে হত্যার দায়ে ছেলে সোহেল চাকমা ও নিহতের ভাইয়ের ছেলে আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে লাল চাকমা হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের তারিখ ঘোষণা
পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ