ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাপলা চত্বরে গণহত্যা: লতিফ সিদ্দিকীর ঠিকানা হলো কারাগার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলায় পরোয়ানা মূলে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। অতএব তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি।

শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া, লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আইনজীবী।

এ দিন দুপুর ১টার পর ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে, ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ১০ জনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

আরও পড়ুন

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার আছেন। বাকিরা পলাতক।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া নিহতের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করা হয়। এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর টাকা, মোবাইল ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেয়। আসামিরা হলেন- মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান ও সুজন। আদালতের বেঞ্চ সহকারি সোহেল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর রাতে মিরপুর-১ থেকে বাসায় ফেরার পথে সায়মনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রিকশায় করে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী। সেখানে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সায়মন মিরপুর-১-এর একটি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেতন তুলে দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। তদন্তে ইউসুফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইকবাল ও মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনজনের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত থেকে এ রায় দেওয়া হয়। আরটিভি/টিআর
ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জীববিজ্ঞানের বই নিতে ছাত্রীকে একা যেতে বলেন শরীরচর্চার শিক্ষক, অতঃপর...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে গোলাম কবির (৫৪) নামে এক শিক্ষককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
জীববিজ্ঞানের বই নিতে ছাত্রীকে একা যেতে বলেন শরীরচর্চার শিক্ষক, অতঃপর...
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যেরে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন খারিজ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে ডনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আদালতে হাজির করে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৭ আগস্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ নিয়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তার জামিন মঞ্জুর হয়নি। সালমান শাহ হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একাধিকবার সময় নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। পরে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। আরটিভি/এসকে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন খারিজ
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
রোববার (৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
আরও পড়ুন
দিল্লির ছাত্র আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার, ৬ বছর পর ৭ দিনের জামিন
ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বন্দি ঝিনাইদহ কারাগারে
কারাগারেও বিলাসী জীবন ডিডির, মাসে খরচ হাজার হাজার ডলার
কারাগারে নেওয়ার পথে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়নে ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত