
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের দুইজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠায় তাদের সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আরও দুটি হলে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধিতে সমকামিতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও 'সমকামিতা' শব্দটিকে সরাসরি সংজ্ঞায়িত বা উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ১৮৬০ সালের ব্রিটিশ আমলের 'দ্য পেনাল কোড'-এর ৩৭৭ ধারায় 'প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে' শারীরিক সম্পর্ক বা 'আন-ন্যাচারাল অফেন্সেস' এর কথা বলা হয়েছে।
এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পুরুষ, নারী বা পশুর সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার জন্য শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল অনুপ্রবেশ বা পেনিট্রেশন ঘটাই যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হয় এবং ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আদালত সাজা নির্ধারণ করেন।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল জানান, বাংলাদেশের আইনে সমকামিতাকে সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি কোনোটিই দেওয়া হয়নি এবং আইনে 'সমকামিতা' টার্মটিই অনুপস্থিত।
তিনি আরও জানান, পরস্পরের সম্মতিতে সংঘটিত সমকামিতার দায়ে বাংলাদেশে সাজা হওয়ার কোনো নজির তার জানা নেই এবং ৩৭৭ ধারায় যেসব পুরনো মামলা দেখা যায় তা মূলত বলাৎকার সংক্রান্ত।
পূর্বে বলাৎকারের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় এই ধারায় মামলা হলেও বর্তমানে বলাৎকারকে সংজ্ঞায়িত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আইনে স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় পুলিশ ক্ষেত্রবিশেষে সমকামিতার অভিযোগে কাউকে আটক করলে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারার মতো অশ্লীলতা বা উপদ্রব সংক্রান্ত ধারায় চালান দিয়ে জরিমানা বা স্বল্পমেয়াদি সাজা দিয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে ৬৯টি দেশে সমকামিতা অবৈধ এবং পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় এখনও ব্রিটিশ আমলের এই ৩৭৭ ধারা বজায় রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে ৩৭৭ ধারা বাতিল করে সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত ঘোষণা করে, যদিও সেখানে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ নয়।
অন্যদিকে নেপাল এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সমলিঙ্গের বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং বর্তমানে তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডেও সমলিঙ্গের বিয়ে আইনি বৈধতা পেয়েছে।
আরটিভি/এসএস


