
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য হয়। পরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নিয়োগের পর তার যোগদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরুজ্জামান। এ অবস্থায় নিজের নিয়োগ ও যোগদানের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৩৫৫/২০১৯।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মনিরুজ্জামানের পক্ষে আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন। মামলাটির নম্বর ৩০২০/২০১৯।
পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এখানেই আইনি জটিলতার শেষ হয়নি। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিষয়ে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। রিভিউ পিটিশনটির নম্বর ১৬১/২০২১।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রিভিউ পিটিশনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ পিটিশনটি খারিজ করে দেন বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে স্বপদে বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান গত ১১ আগস্ট স্বপদে যোগদানের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মু. এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতিকে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিটির স্মারক নম্বর ৬/৩৭২৪/২৫৮।
শিক্ষা বোর্ডের ওই চিঠিতে আদালতের আদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট নয়টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই আইনি বিরোধের প্রভাব বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে পড়েছে কিনা, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলা মামলাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদালতের সর্বশেষ আদেশ এবং শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার পর বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।
আরটিভি/এসএস


