ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দিদের নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যেতেন। পরে তাদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক বলেন, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুই র‍্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের চার থেকে পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে আসত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো।

তার দাবি, ট্রলার ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন। বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানিতে যাওয়ার পর গতি কমিয়ে দেওয়া হতো। এরপর চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের একজন একজন করে ট্রলারের বাইরে আনা হতো।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্টের মধ্যে দুই র‍্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে গিয়ে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন।

‘মরদেহ ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে দিতেন’

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক আরও দাবি করেন, গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। মরদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে এনে ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো এবং মরদেহ থানায় হস্তান্তর করা হতো।

হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে এলে মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক।

নিখোঁজ ভাইয়ের কথাও বললেন আব্বাস

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার দাবি, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। পরে র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কথা স্থানীয় বাজারে আলোচনা করায় অন্য বোটের মালিকেরা তাকে সতর্ক করেছিলেন যে, র‍্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

আব্বাসের ভাষ্য, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে আলকাছ বাড়ি থেকে বের হন। তাকে ফোন করে বলা হয়েছিল, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা-মানিকখালী এলাকায় ডেকেছেন। ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভাইয়ের সন্ধানে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান আব্বাস। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানায় বলেও সাক্ষ্যে দাবি করেন তিনি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের বিষয়ে বিচার দাবি করেন তিনি।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি চলছে। বুধবার মামলায় আব্বাস মল্লিকের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপি পুত্র মিন্টু আবারও রিমান্ডে
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপি পুত্র মিন্টু আবারও রিমান্ডে
রাজবাড়ীতে মানবপাচার মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীতে মানবপাচার মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের পৃথক ধারায় আরও ৫ লাখ করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেছে।
রাজবাড়ীতে মানবপাচার মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন
স্কুলের পরিত্যক্ত কক্ষের পর নারীকে সুপারি বাগানে নিয়ে যান রিফাত, অতঃপর...
পঞ্চগড়ে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২২) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্কুলের পরিত্যক্ত কক্ষের পর নারীকে সুপারি বাগানে নিয়ে যান রিফাত, অতঃপর...
পুলিশের ওপর হামলা ও ওসিকে হত্যার হুমকি, মা-বাবা-বন্ধুসহ কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স
পুলিশের ওপর হামলা (অ্যাসল্ট) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যার হুমকির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স ও তার মা, বাবা, বন্ধুসহ ৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বোনের বয়স কম হওয়ায় তাকে সেফ হোমে পাঠিয়েছেন আদালত।
পুলিশের ওপর হামলা ও ওসিকে হত্যার হুমকি, মা-বাবা-বন্ধুসহ কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স
চারদিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ 
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ রিমান্ড আদেশ দেন। 
চারদিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ 
আরও পড়ুন
মানবতাবিরোধী অপরাধ: মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
আ.লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল