ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ছিনতাই মামলায়’ আইনের কঠোর প্রয়োগে তৎপর সংশ্লিষ্টরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ এএম
রিকশায় থাকা নারীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলায় জামিন ঠেকাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও সচেষ্ট রয়েছেন। ছিনতাই প্রতিরোধে দণ্ডবিধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিচারকরাও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের জামিনের কঠোর বিরোধিতা করছি।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করছে। তাদের উচিত হবে কোনো ভাসমান সাক্ষী না রেখে স্থায়ী বাসিন্দাদের সাক্ষী হিসেবে রাখা। এতে মামলাগুলো প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষের সুবিধা হয়। ভাসমান সাক্ষী নিলে অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

পিপি বলেন, ছিনতাইকারীদের আটক রাখতে বিচারকরা সচেষ্ট এবং আমরা যারা রাষ্ট্রপক্ষে আছি আমরাও সচেষ্ট। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি মামলাগুলোতে আমাদেরকে বিশেষ নজর দিতে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ছিনতাই জনজীবনে চরম নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ছিনতাই মামলাগুলো দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হলে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ মামলায় সাক্ষীদের ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এ আইনজীবী। তার মতে, জামিনের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের কঠোর নির্দেশনা ফলপ্রসূ হতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও প্রকৃত ছিনতাইকরীদের আইনের আওতায় আনাই মুক্তির পথ।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সাক্ষীদের যাতায়াত খরচ কোর্টের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে দিলে সাক্ষী নিয়মিত আসবে। কারণ তাদের নিজ খরচে আসতে হয় ও টিএ ডিএ পেতে সময় লাগে। পাবলিক প্রসিকিউটরেরও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, অধিকাংশ ছিনতাইকারীই পেশাদার ও একাধিক মামলার আসামি। তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই অপরাধ করে। আমরা এখন ছিনতাইয়ের মামলাগুলো নিয়মিত মামলার পাশাপাশি দ্রুত বিচার আইনেও দিচ্ছি। এতে জামিন পাওয়া কঠিন হয় এবং দ্রুত সাজা নিশ্চিত করা যায়। নগরবাসীকে অনুরোধ করব, ছিনতাইয়ের শিকার হলে সাথে সাথে ৯৯৯-এ কল করুন এবং থানায় মামলা করুন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খালিদ হোসাইন বলেন, দণ্ডবিধিতে শাস্তি বেশি হলেও বিচার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা ভয় পায় না। দ্রুত বিচার আইনে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান থাকায় এটি ছিনতাই প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। প্রয়োজন শুধু এই আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ।

ছিনতাইের ঘটনায় অপরাধীদের দণ্ডবিধি আইন ও দ্রুত বিচার আইনের আওতায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

দ্রুত বিচার আইনে মামলা ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আইনটি জামিন অযোগ্য ধারা থাকায় অপরাধীরা সহজে জামিন পায় না। ছিনতাইয়ের ঘটনায় আনা মামলার রায় দ্রুত বিচারে নিশ্চিত হলে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুফল আসবে বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

ছিনতাইয়ের শাস্তি
‘ছিনতাই’ শব্দটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এ ‘দস্যুতা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দস্যুতা সম্পর্কে দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি চুরি করতে গিয়ে বা চুরির উদ্দেশ্যে অপরাধী স্বেচ্ছায় কাউকে আঘাত করে, আঘাত করার চেষ্টা করে বা অবৈধভাবে আটক করে বা আটকের চেষ্টা করে, তবে তা দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

এই ধারায় দস্যুতার জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৩৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, দস্যুতা করার সময় যদি অপরাধী কাউকে আঘাত করে, তাহলে তার জন্য ২০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ক্ষেত্র বিশেষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতের ঘটনাগুলো এই ধারায় পড়ে।

৩৯৭ ও ৩৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, দস্যুতা বা ডাকাতির সময় যদি অপরাধী মৃত্যু বা গুরুতর জখম করার চেষ্টা করে এবং এ সময় সে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তবে তার জন্য ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচিত হয় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২। এই আইনের ২(খ)(ঈ) ধারায় বলা হয়েছে - কোনো ব্যক্তির নিকট হতে কোনো অর্থ, অলংকার, মূল্যবান জিনিসপত্র বা অন্য কোন বস্তু বা যানবাহন ছিনতাই এর চেষ্টা করা বা ছিনতাই করা বা জোরপূর্বক কাড়িয়া লওয়া’ একটি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ।

এই আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ছিনতাই করলে তিনি অন্যূন ২ বছর এবং অনধিক ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। ২০১৮ সালের সংশোধনীতে সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর করা হয়েছে।

ধারা ১০ অনুযায়ী বিচার: হাতেনাতে ধৃত আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। হাতেনাতে ধৃত না হলে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ধারা ১৪ অনুযায়ী সাক্ষ্য: সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও, স্থিরচিত্র ও টেপ রেকর্ডকৃত কথোপকথন এই আইনে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের।
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
দেশে সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতার উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
আরও পড়ুন
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির
রাজনৈতিক প্রচারে ছাড় পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা
‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে’