ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উসকানি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিরোধী সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল ঢাকার মহানগর আদালতে রিমান্ডে আবেদন করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন, মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও খন্দকার মারজিয়া খন্দকার (২৭)। এদের মধ্যে আয়াশ (২৯) ও সাকিবুলের তিন দিন এবং সুজন ও মারজিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার আজ আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে আসামিদের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালতে রিমান্ড শুনানিতে রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামিদের এই কার্যক্রম সরকারের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করা। তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। আমাদের যে সম্প্রীতির সংস্কৃতি, সেটা তারা বিনষ্ট করছে। ‘মবের’ মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মামলার অপর আসামি মারজিয়া। তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতির মুখে কালি লাগিয়ে দিলো। সামনে দুর্গাপূজা। একটা উসকানি দিলো। সরকারের কাজ দেশে উন্নয়ন করা। আর তাদের কাজ হচ্ছে উন্নয়নে বাধা দেয়া। এদের লক্ষ্য ভাইরাল হওয়া। এজন্য এরা এলোপাতাড়িভাবে গালাগালি করে। সর্বশেষ ১০ তারিখে তারা যে কাজটি করেছে তাতে করে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ধর্মীয় উসকানি দিতে চেষ্টা করেছে। তাদের পেছনে একটা চক্র আছে। তাদের সাথে আর কারা কারা জড়িত আছে, তা জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ১ নম্বর আসামি আয়াশ। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক আগে থেকেই ব্রাহ্ম ধর্ম পালন করতেন। রাষ্ট্রপক্ষ উসকানিমূলক বক্তব্যের যেসব কথা বললেন, তা একেবারেই সত্যি না। এই আইনজীবী আরও বলেন, জুলাই আমাদের মুকুট। এটাকে অস্বীকার করলে চলবে না। আয়াশ ও সাকিবুল জুলাই যোদ্ধা। তারা একেবারেই মাঠ পর্যায়ের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে উক্তির অভিযোগ বলা হচ্ছে তা একেবারেই সত্য না।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সবাই জুলাই যোদ্ধা। জুলাই যোদ্ধা বলে কি সকল অপরাধ ক্ষমা হয়ে যাবে? তার সকল অপরাধ কি মাপ হয়ে যাবে? উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি এই আদালতের পিপি। তাই বলে কি আমি সব কিছু করতে পারব? আমি কি আইনের ঊর্ধ্বে? আপনারা দেশকে ভালোবাসুন। কিন্তু অরাজকতা করবেন না। আর কিছু কিছু দল আছে মনগড়া। সকল রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত না। স্বামী সভাপতি, স্ত্রী সেক্রেটারি এমন অনেক রাজনৈতিক দল আছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আয়াশসহ কয়েকজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে যান। সেখান থেকে আয়াশ ও তার এই সঙ্গীদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ওই মামলা দেওয়া হয়। আয়াশ এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নিজে হামলার শিকার হওয়াসহ নানা কারণে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে। এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পরে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এর মাধ্যমে প্রচলিত হেবা বা হস্তান্তর বিধান অপরিবর্তিত রেখেই সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। 
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা যৌতুক নয়: হাইকোর্ট
শুধুমাত্র ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা যৌতুক নয়: হাইকোর্ট
স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু, আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় ফারুক হোসেন নামে এক আসামির যাবজ্জীবন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল জজ আদালত। সেইসঙ্গে ধর্ষণে ভূমিষ্ঠ শিশুকে সন্তানের স্বীকৃতি এবং ওয়ারিশ হি‌সে‌বে তার সমস্ত কিছু পাবে ব‌লেও রায় দি‌য়ে‌ছেন আদালত।
স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু, আসামির যাবজ্জীবন
ফের নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন তৃতীয় দফার মতো নামঞ্জুর করেছেন আদাল
ফের নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন ঘিরে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে সাবেক  তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ সময় পলককে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন। জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের এক প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন।  এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি। এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম কাঠগড়া থেকে অনুমতি ছাড়া কথা বলার বিরোধিতা করে বলেন, আসামির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য থাকলে আইনজীবীরা বলবেন। আদালত থেকে অনুমতি না নিয়ে কোনো আসামি হুটহাট এভাবে কথা বলতে পারেন না।  এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলকের উদ্দেশে বলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। এখানে কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কেউ যেন কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে না নেন। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের এক বৈঠকের উল্লেখ করে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এই বাক্যটি মামলার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন এটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় এবং সাক্ষীও তাতে সায় দেন। তখন কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।  পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। এখন তা বাদ দিতে হলে তো হোস্টাইল (স্বার্থবিরোধী) ঘোষণা করতে হবে। আইনজীবী লিটন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে পলকের পক্ষে আইনি লড়াই চালান। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন পলক। যার জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।  পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া ও হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হন। এছাড়াও রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আরটিভি/এসআর  
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
আরও পড়ুন
রিয়াদে হামলায় নিহত ২ বাংলাদে‌শির প‌রিচয় জানালো সরকার
মিরপুরে জুলাই শহীদদের নামফলক অপসারণের গুজব, কান না দেওয়ার আহ্বান ডিএনসিসির
বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা
মোহাম্মদপুরে তৈরি হতো শিশুদের ভেজাল ওষুধ, গ্রেপ্তার ৩