ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গায়ে আগুন লাগলে প্রথম ৩০ মিনিটে এই ৫ কাজেই বাঁচতে পারে জীবন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
গায়ে আগুন লাগলে প্রথম ৩০ মিনিটে এই ৫ কাজেই বাঁচতে পারে জীবন । ছবি: সংগৃহীত

আগুনে পুড়ে গেলে প্রথম কয়েক মিনিটই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেকেই আতঙ্কে ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যা পোড়ার ক্ষত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের বিপদ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং শিশুদের শরীরের ১০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। তবে নবজাতক, খুব ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কম পরিমাণ পোড়াও অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, পোড়ার গভীরতা, রোগীর বয়স এবং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে কম পরিমাণ পোড়াও ভয়াবহ হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, স্থূলতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তাদের ক্ষেত্রে আগুনে পোড়ার পর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

কতটা পোড়া কতটা বিপজ্জনক?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরো শরীরকে ১০০ ভাগ ধরে পোড়ার পরিমাণ হিসাব করা হয়।

শরীরের ১৫ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে অবস্থা খারাপ হতে শুরু করতে পারে। ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে প্রয়োজন হয় বিশেষ চিকিৎসার। আর ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে রোগীকে সংকটাপন্ন ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

আগুনে পোড়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

আগুনে পোড়াকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়—

সংস্পর্শে পোড়া: গরম কোনো বস্তু, তরল বা ধাতুর সংস্পর্শে পুড়ে যাওয়া।

আগুনে পোড়া: সরাসরি আগুনের শিখায় পুড়ে যাওয়া।

রাসায়নিক পোড়া: কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে পুড়ে যাওয়া।

বাংলাদেশে সরাসরি আগুনে পোড়ার ঘটনা বেশি দেখা যায় বলে জানান চিকিৎসকেরা।

গায়ে আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন:

১. প্রচুর পানি ঢালুন

আগুনে পোড়ার পর প্রথম আধাঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পোড়া জায়গায় যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পানি দিলে পোড়ার মাত্রা কমানো সম্ভব। পোড়া অংশ অন্তত ২০ মিনিট ধরে প্রবাহিত ঠান্ডা পানির নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে পোড়া জায়গায় বরফ, তেল, ক্রিম বা কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানো যাবে না।

২. কাপড় ও গহনা খুলে ফেলুন

আগুন লাগার পর দ্রুত কাপড়, গহনা বা আটকে থাকা জিনিস সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে যদি কাপড় বা ধাতব বস্তু চামড়ার সঙ্গে আটকে যায়, তা জোর করে টানা যাবে না।

৩. দ্রুত হাসপাতালে নিন

আগুনে পোড়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিতে পারলে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।

চিকিৎসকেরা এই সময়কে পোড়া রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখেন।

৪. ভুলেও লাগাবেন না টুথপেস্ট, লবণ বা ডিমের সাদা অংশ

অনেকে পোড়া জায়গায় টুথপেস্ট, লবণ বা ডিমের সাদা অংশ লাগান। কিন্তু এতে ক্ষত আরও খারাপ হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

৫. বেশি করে তরল খাওয়ান

যদি সম্ভব হয়, পোড়া রোগীকে স্যালাইন, ডাবের পানি বা তরল খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি ডিম, মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

শ্বাসনালী পুড়ে গেলে বিপদ বেশি

আগুনের ঘটনায় শুধু শরীর নয়, শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়াও ভয়ংকর হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস, পেট্রোল বা বন্ধ ঘরে আগুন লাগলে এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

শ্বাসনালী পুড়ে গেলে ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আগুনে পোড়ার ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পানি ঢালা, ভুল চিকিৎসা এড়িয়ে যাওয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়াই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উপায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি