ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মন না চাইলেও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন ৭ সহজ কৌশলে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
মন না চাইলেও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ৭ সহজ কৌশল । ছবি: সংগৃহীত

খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু ক্ষুধার ওপর নির্ভর করে না। চোখে দেখা, গন্ধ, শব্দ, খাবার পরিবেশনের ধরন—সবকিছুই আমাদের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। অনেক সময় না বুঝেই এসব বিষয় আমাদের বেশি খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে টেনে নেয়। তবে এই বিষয়গুলোকে কাজে লাগিয়েই গড়ে তোলা যায় স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস।

খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের স্নায়ুগুলো খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। তাই কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের মস্তিষ্ককে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে উৎসাহ দেওয়া সম্ভব। জেনে নিন এমন সাতটি সহজ কৌশল—

১. চকচকে মোড়কের ফাঁদ এড়িয়ে চলুন

দোকানে কোনো খাবারের মোড়ক যত বেশি আকর্ষণীয় হয়, সেটি কেনার আগ্রহও তত বাড়ে। উজ্জ্বল রঙের প্যাকেট অনেক সময় মস্তিষ্কে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবার রঙিন প্যাকেট থেকে বের করে সাধারণ পাত্রে রাখুন। এতে অপ্রয়োজনে খাওয়ার ইচ্ছা কমতে পারে।

আরও পড়ুন

২. খাবারের জায়গা বদলান

ঘরের সামনে বা চোখের সামনে রাখা খাবার সহজেই বেশি খাওয়া হয়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার হাতের কাছে রাখুন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার কিছুটা আড়ালে রাখুন।

দোকানেও চোখের সমান উচ্চতায় রাখা খাবার বেশি বিক্রি হয়। তাই বাজার করার সময় তাকের অন্য জায়গাগুলোও দেখে নিন।

৩. ভারী পাত্রে খাবার খান

গবেষণায় দেখা গেছে, ভারী বাটি বা পাত্রে খাবার খেলে অনেকের মনে হয় খাবার বেশি পরিপূর্ণ এবং তৃপ্তিদায়ক।

এমনকি ভারী চামচ ব্যবহার করলেও খাবারের স্বাদ ও সন্তুষ্টির অনুভূতি বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

৪. খাবার সুন্দর করে সাজান

খাবার দেখতে সুন্দর হলে খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। একই উপকরণ সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করলে খাবার আরও সুস্বাদু মনে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লেটে নানা রঙের শাকসবজি যোগ করলে খাবারের আকর্ষণ ও সতেজতার অনুভূতি বাড়ে।

৫. ধীরে গতির গান শুনে খান

খাবারের সময় বাজানো শব্দও খাওয়ার অভ্যাসে প্রভাব ফেলে। ধীরগতির গান শুনলে মানুষ ধীরে খেতে পারে, ফলে কম খাবারেও তৃপ্তি আসতে পারে।

খাওয়ার সময় মোবাইল বা টেলিভিশনের মতো মনোযোগ নষ্টকারী বিষয় এড়িয়ে চললেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

৬. একই পরিমাণ খাবারে স্বাস্থ্যকর উপাদান বাড়ান

মানুষ সাধারণত খাবারের পরিমাণ দেখে তৃপ্তি অনুভব করে। তাই একই পরিমাণ খাবারে কম ক্যালরির উপাদান যোগ করা যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফুলকপি বা পালং শাকের মতো সবজি মিশিয়ে খাবারের পরিমাণ বাড়ালে মানুষ একই পরিমাণ তৃপ্তি পায়, কিন্তু শরীরে ক্যালরি কম যায়।

৭. শুধু চোখের লোভে খাবেন না

অনেক সময় পেট ভরা থাকলেও চোখের সামনে খাবার দেখলে খেতে ইচ্ছা করে। বিশেষ করে মিষ্টি বা মুখরোচক খাবার দেখলে এমনটা বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা সব সময় ক্ষুধার কারণে খাই না; অনেক সময় খাবারের গন্ধ, দৃশ্য বা পরিবেশ আমাদের খাওয়ার দিকে টেনে নেয়।

স্বাস্থ্যকর খাওয়ার রহস্য লুকিয়ে আছে অভ্যাসে

ভালো খাবারের অভ্যাস তৈরি করতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। খাবার রাখার জায়গা বদলানো, সুন্দরভাবে পরিবেশন করা, ধীরে খাওয়া এবং খাবারের প্রতি সচেতন হওয়াই পারে বড় পরিবর্তন আনতে।

কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার লড়াই শুধু পেটের সঙ্গে নয়, আমাদের মস্তিষ্কের সঙ্গেও।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আরও পড়ুন
চিকিৎসাসেবায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, দেশে আসছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি
ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসি নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ
খাওয়া কমিয়েও ওজন কমছে না? মেনে চলুন ৫ সহজ উপায়
মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে নতুন মায়েদের যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন