ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

হার্ট ও কিডনি বাঁচায় যে ৪ মাছ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চর্বিযুক্ত মাছ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে—এ কথা কমবেশি অনেকেই জানেন। কিন্তু এই মাছ যে কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতেও সমান কার্যকরী, সে তথ্য হয়তো অনেকেরই অজানা। পুষ্টিবিদদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনার মতো মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি)-এর ঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এই রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনির ক্ষতি অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে কিডনি সুরক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।

কেন কিডনির যত্ন এত গুরুত্বপূর্ণ?

কিডনি শুধু শরীরের বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয় না, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজেও বড় ভূমিকা রাখে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।

ওমেগা-৩ কমায় প্রদাহ, রক্ষা করে কিডনিকে

চর্বিযুক্ত মাছের সবচেয়ে বড় পুষ্টিগুণ হলো এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহই কিডনির ক্ষতি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাছ খান, তাদের কিডনির স্বাস্থ্য সাধারণত তুলনামূলক ভালো থাকে। যদিও শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকলে কিডনিও থাকে সুস্থ

হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার কিডনির সমস্যা থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

চর্বিযুক্ত মাছ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, রক্তনালির কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং রক্তের ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের নির্ভরযোগ্য উৎস

shad-photo-Recovered

শরীরের কোষ গঠন, পেশি শক্তিশালী রাখা এবং ক্ষয়পূরণে প্রোটিন অপরিহার্য। চর্বিযুক্ত মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস, যেখানে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এতে প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) মাংসের মতো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা ক্ষতিকর চর্বি থাকে না।

আরও যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে

চর্বিযুক্ত মাছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়াম এবং মাছের ধরন অনুযায়ী পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হাড়, স্নায়ু ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।

আরও পড়ুন

কিডনি রোগ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর?

পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একক খাবার কিডনি রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে না। তবে মাছ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য (হোল গ্রেন) ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস কিডনি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনি রোগের আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

কারা সতর্ক থাকবেন?

যাদের ইতোমধ্যে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। কারণ কিছু মাছে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে, যা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণও সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যেভাবে খাবেন

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত দু-দিন চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে মাছ রান্নার ধরনটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিল, বেক, স্টিম বা এয়ার-ফ্রাই করে খেলে মাছের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত তেলে ভাজা, বেশি লবণ বা প্রসেসড সস ব্যবহার করা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

সব মিলিয়ে, চর্বিযুক্ত মাছ কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে কিডনির পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেলেন সোনাবাড়ীয়ার শতাধিক মানুষ