ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ডেঙ্গু হলে পেঁপে পাতার রস খাওয়া কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস নিয়ে বড় সতর্কতা জেনে নিন  । ছবি: এআই

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তে অণুচক্রিকার (প্লেটলেট) মাত্রা কমে যাওয়া নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আর তখনই অনেকেই অণুচক্রিকা বাড়ানোর আশায় রোগীকে পেঁপেপাতার রস খাওয়ান। কিন্তু ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস আদৌ কতটা উপকারী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি নিয়মিত খাওয়ানো নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অণুচক্রিকা কমলেই কি বিপদ?

ডেঙ্গুতে অণুচক্রিকার (প্লেটলেট) মাত্রা কমে যাওয়া খুবই পরিচিত একটি বিষয়। তবে শুধু অণুচক্রিকার (প্লেটলেট) সংখ্যা দেখেই রোগীর অবস্থা কতটা গুরুতর বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কতটা, তা নির্ধারণ করা যায় না।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আরও গুরুতর কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রক্তনালি থেকে রক্তের তরল অংশ বের হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

রক্তের তরল অংশ বেরিয়ে গেলে কী হয়?

ডেঙ্গুতে কখনো কখনো রক্তনালি থেকে রক্তের তরল অংশ বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জমতে পারে। একে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়া বলা হয়।

এ ধরনের সমস্যা হলে ফুসফুসের চারপাশে বা পেটে তরল জমতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন

পেঁপেপাতার রস কি অণুচক্রিকা বাড়ায়?

সীমিত পরিসরে করা কিছু গবেষণায় পেঁপে পাতার রস খাওয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর রক্তে অণুচক্রিকার মাত্রা বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণায় পেঁপে পাতার রস তৈরির পদ্ধতি ও পরিমাণ এক ছিল না। ফলে এটি নিশ্চিতভাবে অণুচক্রিকা বাড়ায়—এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই।

এছাড়া পেঁপেপাতার রস খেলে ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা বা মৃত্যুঝুঁকি কমে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

ডেঙ্গুতে কমে যাওয়া অণুচক্রিকা অনেক সময় রোগের স্বাভাবিক গতিতেই পরে আবার বাড়তে শুরু করে। তাই পেঁপে পাতার রস খাওয়ার পর অণুচক্রিকার সংখ্যা বেড়ে গেলেই যে সেটি পেঁপেপাতার রসের কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা কেন বিপজ্জনক?

পেঁপে পাতার রসকে চিকিৎসার বিকল্প মনে করলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া। এতে ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেরিতে শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এছাড়া পেঁপে পাতার রস মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত উচ্চমানের গবেষণা নেই। কিছু প্রাণীভিত্তিক গবেষণায় যকৃতের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো বা খাওয়া ঠিক নয়।

শুধু অণুচক্রিকার সংখ্যা নয়, নজর দিতে হবে আরও অনেক কিছুর দিকে

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে শুধু রক্তের অণুচক্রিকার সংখ্যা দেখলেই হবে না। রোগীর রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রক্তের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তাই ডেঙ্গু হলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।

কোন ওষুধে সতর্ক থাকবেন?

জ্বর বা ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এসব ওষুধ নিজের ইচ্ছায় খাওয়া উচিত নয়।

এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নিন

ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে কিছু বিপদসংকেত দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। যেমন—

তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তবমি, কালো পায়খানা, নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্য কোথাও রক্তপাত, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্বাভাবিক অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, ত্বক ঠান্ডা বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘুমভাব এবং আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জ্বর কমে গেলেই ডেঙ্গু রোগী পুরোপুরি বিপদমুক্ত—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার সময় বা এরপরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় বিপদসংকেতগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

অণুচক্রিকা কমলেই কি রক্ত দিতে হয়?

ডেঙ্গুতে শুধু অণুচক্রিকার সংখ্যা কমেছে বলেই নিয়মিত অণুচক্রিকা (প্লেটলেট) দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রোগীর রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা কেমন—এসব বিষয় বিবেচনা করেই চিকিৎসক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

তাই ডেঙ্গু হলে অণুচক্রিকার সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীর সামগ্রিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৩১৪
নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন