ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে যে ৫ অভ্যাস বদলে দেবে পথচলা 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ এএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকতে মানুন ৫ পরামর্শ । ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষার পরই জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে পা রাখার এই সময়টায় একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা—সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই মানসিক চাপে থাকে।

অনেকে মনে করেন, এই বয়সে মস্তিষ্কের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। কৈশোরের শেষ দিকে মস্তিষ্কের সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত অংশের বিকাশ তখনো চলতে থাকে। একই সময়ে আবেগপ্রবণতাও তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

এর সঙ্গে যোগ হয় পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রতিযোগিতা। ফলে এই সময়ে মানসিক চাপ বা আবেগের ওঠানামা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তাই কঠিন এই সময়টাকে সামলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে কিছু অভ্যাস কাজে লাগতে পারে।

১. অল্প সময়ে বেশি নয়, দীর্ঘ পথের প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো স্বল্প সময়ের দৌড় নয়। সাধারণত কয়েক মাস ধরে এর প্রস্তুতি নিতে হয়। তাই শুরুতেই অতিরিক্ত পড়াশোনা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার বদলে ধীরে ধীরে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও প্রস্তুতির অংশ। এসব বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনায় মন দিলে একটা সময় পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।

দীর্ঘ দৌড়ের মতোই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও নিজের শক্তি বুঝে এগোতে হবে।

আরও পড়ুন

২. রুটিন মেনে চলুন, মুঠোফোনে লাগাম দিন

সারাদিন বা সারারাত এলোমেলোভাবে পড়ার চেয়ে নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে পড়া বেশি কার্যকর। পড়ার সময় ভাগ করে নিতে হবে, মাঝে প্রয়োজনীয় বিরতি রাখতে হবে এবং আগের পড়া নিয়মিত ঝালিয়ে নিতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের অগ্রগতিও যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

বর্তমানে মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছোট ভিডিও কিংবা অনলাইন খেলা সহজেই পড়াশোনার সময় কেড়ে নিতে পারে।

তাই পড়ার সময় মুঠোফোনের বার্তা আসার ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার পর্দা দেখা থেকে বিরত থাকা ভালো অভ্যাস হতে পারে।

৩. অন্যের সঙ্গে নিজেকে মেলাবেন না

কে কত ঘণ্টা পড়ছে, কে কতগুলো কোচিং করছে কিংবা পরীক্ষায় কে কত নম্বর পাচ্ছে—এসব দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করা ঠিক নয়।

প্রত্যেক মানুষের শেখার ধরন, আগ্রহ, দক্ষতা ও কাজের গতি আলাদা। তাই অন্যের প্রস্তুতির সঙ্গে নিজের প্রস্তুতিকে তুলনা না করে নিজের অগ্রগতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।

কোনো দিন মনোযোগ কম থাকলে বা উদ্বেগ বেশি হলে নিজেকে ব্যর্থ মনে করার দরকার নেই। নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে—কঠিন সময় সাময়িক, এটি কেটে যাবে।

অনেক সময় ভালো ঘুম, কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা কিছুটা বিশ্রাম মস্তিষ্ককে আবার পড়াশোনার উপযোগী করে তুলতে পারে।

৪. একা সব সামলাতে যাবেন না

কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে কিংবা মানসিক চাপ বেশি মনে হলে সবকিছু একা সামলানোর চেষ্টা না করে সাহায্য নেওয়া উচিত।

শিক্ষক, বড় ভাই-বোন, পরিবার কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার একটি অংশ।

৫. সাফল্য মানেই শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ই জীবনের একমাত্র সাফল্যের পথ নয়।

অন্যের তৈরি করে দেওয়া ‘ভালো বিষয়’ বা ‘খারাপ বিষয়’-এর ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের আগ্রহ ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন বিষয় পড়তে ভালো লাগে? কোন কাজ করতে গিয়ে আনন্দ ও কৌতূহল তৈরি হয়? ভবিষ্যতে কী ধরনের কাজ করতে চান? সমাজে কী ধরনের অবদান রাখতে চান?

এসব বিষয় বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পড়াশোনা ও পেশার সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়টা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই জীবনের শেষ পরীক্ষা নয়। এই সময়ে নিজের প্রতি আস্থা রাখা, নিজের যত্ন নেওয়া এবং অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

শেখার আগ্রহ, দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা, কাজের প্রতি সততা, নিজের ও অন্যের প্রতি মমতা এবং মানসিকভাবে ভালো থাকার চেষ্টা—এসবই শেষ পর্যন্ত একটি সুখী ও অর্থপূর্ণ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে আটক ৩
সড়কে দড়ি ফেলে অপেক্ষা, ‘মুরগির’ বদলে এলো ডিবির দল
গুচ্ছের ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা মার্চে, কোন ইউনিটের কবে
ভর্তি পরীক্ষায় সিলেবাসে পরিবর্তন আনলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়