
চটজলদি রান্নার জন্য অনেকেরই নিত্যদিনের ভরসা প্রেশার কুকার। সময় ও পরিশ্রম দুটোই বাঁচায় এই রান্নার পাত্র। তবে ব্যবহারের সময় সামান্য অসাবধানতাও ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা। কুকার বিস্ফোরণের অনেক ঘটনাই যন্ত্রের ত্রুটির চেয়ে অসতর্ক ব্যবহারের কারণে ঘটে। তাই রান্নার সময় কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
কুকার বেশি ভর্তি করা
প্রেশার কুকারে রান্নার সময় এর ধারণক্ষমতার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। কখনোই কুকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভর্তি করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডাল বা ঝোলজাতীয় খাবার রান্নার ক্ষেত্রে পাত্র অর্ধেকের বেশি না ভরাই ভালো।
কারণ এ ধরনের খাবার রান্নার সময় ফেনা তৈরি হতে পারে। সেই ফেনা কুকারের নিরাপত্তা ভালভ বা বাষ্প বের হওয়ার পথ আটকে দিতে পারে। আবার রান্নায় পর্যাপ্ত পানি না থাকলেও কুকার অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পুরোনো রবার ব্যবহার
কুকারের ভেতরের রবার বা গ্যাসকিট বছরের পর বছর ব্যবহার করা অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু পুরোনো বা নষ্ট গ্যাসকিট বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতি ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এটি বদলে ফেলা ভালো।
শুধু গ্যাসকিট নয়, কুকারের হুইসল বা সিটিও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে বদলানো উচিত।
রান্না শেষেই ঢাকনা খোলা
রান্না হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেশার কুকারের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভেতরের বাষ্প ও চাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
খুব প্রয়োজন হলে হাতা বা খুন্তির সাহায্যে সাবধানে কুকারের বাষ্প বের করে নিয়ে তারপর ঢাকনা খোলা যেতে পারে। চাপ থাকা অবস্থায় জোর করে ঢাকনা খোলা বিপজ্জনক হতে পারে।
কুকার থেকে পানি বের হলে
রান্নার সময় কুকার থেকে পানি বের হতে শুরু করলে প্রথমেই চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কুকার ঠান্ডা হওয়ার পর ঢাকনা খুলে সেটি ঠিকভাবে বন্ধ করে আবার চুলায় বসাতে হবে।
এরপরও একই সমস্যা হলে কুকারটি ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজন হলে মেরামত করিয়ে নেওয়ার পর আবার ব্যবহার করা উচিত।
হুইসল ও বাষ্প বের হওয়ার পথ পরিষ্কার না করা
কুকারের হুইসল বা বাষ্প বের হওয়ার পথে খাবারের কণা জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এসব অংশ অপরিষ্কার থাকলে বাষ্প বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং চাপ বেড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর কুকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখা জরুরি।
প্রেশার কুকার রান্নার সময় অনেকটা বাঁচায় ঠিকই, তবে নিরাপদে ব্যবহার করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুকার কতটা ভর্তি করা হচ্ছে, গ্যাসকিট ও হুইসলের অবস্থা কেমন, রান্নার পর কখন ঢাকনা খোলা হচ্ছে—এসব বিষয়ে সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ




