
মুখে ব্রণ উঠলেই অনেকে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। শুধু মেয়েরাই নন, ছেলেরাও ব্রণের সমস্যায় ভোগেন। ত্বকের যত্নে অবহেলা, অতিরিক্ত তেল, ঘাম, ময়লা ও ভুলভাবে ত্বক পরিষ্কার করার কারণে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মুখে বারবার হাত দেবেন না
ব্রণ থাকুক বা না থাকুক, অকারণে মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। হাতে থাকা ময়লা ও জীবাণু ত্বকের রোমকূপে জমে ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই মুখে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করুন।
নিয়ম মেনে মুখ পরিষ্কার করুন
ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও ঘাম পরিষ্কার করা জরুরি। তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া আবার ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে ত্বকের প্রয়োজনীয় তেল কমে গিয়ে ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের উপকারী জীবাণুগুলোর ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।
শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর আগে বা বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর মুখ পরিষ্কার করা ভালো। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে দিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য উপযুক্ত মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ বেছে নেওয়া জরুরি।
মুখ ধোয়ার পর পরিষ্কার নরম কাপড় বা টিস্যু দিয়ে আলতোভাবে মুখ মুছে নিতে পারেন। জোরে ঘষাঘষি করা ঠিক নয়।
দাড়ি কামানোর সময় সতর্ক থাকুন
ব্রণপ্রবণ ত্বকে দাড়ি কামানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দাড়ি কামানোর আগে ক্ষুর বা ব্লেড ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। একাধিক ব্লেডের ক্ষুর ব্যবহার করলে নিয়মিত ব্লেড পরিবর্তন করাও জরুরি।
দাড়ি কামানোর সময় ত্বকে উপযুক্ত দাড়ি কামানোর ক্রিম বা তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। দাড়ি কামানোর পর অ্যালকোহলযুক্ত উপকরণ এড়িয়ে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের জ্বালা ও ছোট ছোট ফুসকুড়ি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
চাদর-বালিশের কভার পরিষ্কার রাখুন
প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা মুখ ও শরীর বিছানার চাদর এবং বালিশের সংস্পর্শে থাকে। এসব অপরিষ্কার থাকলে ত্বকে ময়লা ও জীবাণু জমে ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত চাদর ও বালিশের কভার পরিষ্কার করে ব্যবহার করা উচিত।
ব্রণপ্রবণ ত্বকে উপযুক্ত ত্বক পরিচর্যা করুন
শুধু মুখ পরিষ্কার করলেই ব্রণের সমস্যা সবসময় নিয়ন্ত্রণে আসে না। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ত্বক পরিচর্যার উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, নায়াসিনামাইড ও অ্যাজেলাইক অ্যাসিডযুক্ত উপকরণ ব্যবহারের কথা বলা হয়। মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে ব্রণ বেশি হলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ত্বকে দাগ ও প্রদাহ তৈরি হলে নিজে থেকে নানা উপকরণ ব্যবহার না করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
ব্রণ রাতারাতি দূর হয় না। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, মুখে অকারণে হাত না দেওয়া, দাড়ি কামানোর সময় সতর্ক থাকা এবং পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বজায় রাখাই ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায়।
আরটিভি/জেএমএ




