
ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই মিষ্টি খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন ভাবনায় অনেকেই পছন্দের খাবার থেকে দূরে থাকেন। তবে একটু কৌশল করে উপকরণ বেছে নিলে পায়েসও তুলনামূলকভাবে ডায়াবেটিসবান্ধব করে তৈরি করা যায়। এতে মিষ্টির স্বাদও মিলবে, আবার খাবারের উপাদান নিয়েও সচেতন থাকা সম্ভব হবে।
পায়েসে চাল বাছাই করুন বুঝেশুনে
সাধারণত সুগন্ধি বা গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে পায়েস তৈরি করা হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের চাল বেছে নেওয়া যেতে পারে। কালো চালও ব্যবহার করা যায়।
চালের বদলে ছানা, মাখানা, গাজর বা আপেল দিয়েও তৈরি করা যায় ভিন্ন ধরনের পায়েস। এতে পায়েসের স্বাদে বৈচিত্র্য আসবে এবং উপকরণেও পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
চিনির বদলে কী ব্যবহার করবেন?
পায়েসের মিষ্টি স্বাদের জন্য সাধারণ চিনি ব্যবহার না করে বিকল্প মিষ্টিকারক বেছে নেওয়া যেতে পারে। মঙ্ক ফ্রুট, স্টেভিয়া বা খেজুরের বাটা ব্যবহার করা যায়।
মঙ্ক ফ্রুটে মিষ্টি স্বাদ থাকলেও এতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম। তবে যেকোনো বিকল্প মিষ্টিকারক ব্যবহারের ক্ষেত্রেই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
দুধ হবে কম চর্বিযুক্ত
ঘন ও বেশি চর্বিযুক্ত দুধে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই পায়েস তৈরিতে কম চর্বিযুক্ত বা চর্বিবিহীন দুধ ব্যবহার করা ভালো।
পায়েস ঘন করতে চাইলে জল ঝরানো ছানা মসৃণ করে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মাখানার গুঁড়োও পায়েস ঘন করতে ব্যবহার করা যায়।
বাদাম বাড়াবে স্বাদ, পুষ্টিও
কাঠবাদাম, আখরোট ও পেস্তার মতো বাদাম পায়েসে যোগ করা যেতে পারে। এসব বাদামে প্রোটিন থাকে, যা খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাদামে ক্যালরিও থাকে, তাই বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিমাণ
ডায়াবেটিসবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করলেও পায়েস ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে না। একদিন খাওয়া হচ্ছে বলে বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে এবং পছন্দের খাবার খাওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ডায়াবেটিস থাকলে পায়েস একেবারে বাদ না দিয়ে উপকরণে সচেতন পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে ব্যক্তিভেদে রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের খাবারের পরিমাণ ও ধরন ঠিক করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ

