ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

অনলাইন গেমে আসক্ত শিশু? বাড়ছে নতুন ঝুঁকি 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় কাটালে শিশুদের শরীর, মন ও অনলাইন নিরাপত্তায় প্রভাব পড়তে পারে । ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল হাতে পেলেই অনলাইন গেমে ডুবে যাচ্ছে শিশু। দিনের পর দিন এই অভ্যাস শুধু শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলছে না, অসাবধানতায় শিশু জড়িয়ে পড়তে পারে প্রতারণার ফাঁদেও। তাই সন্তানের অনলাইন গেম খেলার অভ্যাসে নজর রাখা জরুরি।

বর্তমানে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ও অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। নানা ধরনের গেম সহজেই পাওয়া যায়। তবে গেমের জগতে বিনোদনের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ঝুঁকিও।

দিনের বেশির ভাগ সময় অনলাইন গেমে কাটালে শিশুর শরীর ও আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় প্রতারণার ফাঁদেও পড়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন

শরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে?

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অনলাইন গেমে মগ্ন থাকা শিশুদের মধ্যে মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

দিনের পর দিন গেম খেলার অভ্যাস থাকলে ওজন বাড়া, আলস্য বৃদ্ধি এবং কায়িক পরিশ্রমের প্রতি অনীহাও দেখা দিতে পারে।

মনের ওপরও পড়তে পারে প্রভাব

অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তি শিশুর আচরণেও পরিবর্তন আনতে পারে। বারবার গেম খেলার সময় আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কার্যক্রম সক্রিয় হতে পারে, যা গেম খেলার প্রতি আসক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গেমের কঠিন ধাপ পার করতে না পারলে অনেক শিশুর মধ্যে চাপ ও বিরক্তি বাড়তে পারে। অল্পতেই রেগে যাওয়া, খিটখিটে আচরণ কিংবা আগ্রাসী মনোভাবও দেখা দিতে পারে।

গেমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে কেউ কেউ একাকিত্বে ভুগতে পারে এবং পরিবার বা অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইতে পারে।

অনলাইন গেমে প্রতারণার ফাঁদ

অনলাইনে গেম খেলার সময় অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। এই সুযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা শিশুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

অপরিচিত বা সন্দেহজনক জায়গা থেকে গেম নামালে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই বিশ্বাসযোগ্য জায়গা ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে গেম নামানো উচিত নয়।

অভিভাবকদের যা করা উচিত

সন্তান কোন গেম খেলছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে কোন বিষয়বস্তু দেখা যাবে বা কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

শিশুকে একা ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে খেলতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখা সহজ হয়।

অনলাইন গেম খেলার সময় শিশুকে কেউ ভয় দেখালে, হুমকি দিলে বা এমন কোনো পরিস্থিতিতে ফেললে যে সে ভয় পাচ্ছে কিংবা বেরিয়ে আসতে পারছে না, তাহলে দ্রুত সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

অনলাইন গেম শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে। তবে সময়ের সীমা, নিরাপদ ব্যবহার এবং অভিভাবকদের নজরদারি ছাড়া এই বিনোদনই শরীর, মন ও অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর
জীবন বাজি রেখে আগুনের ধ্বংসস্তূপে ঢুকলেন প্রতিবেশী, বাঁচালেন ৪ বছরের শিশুকে
কীর্তিনাশা নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
দোকানে চুরির অভিযোগে ধাওয়া, প্রাণ গেল ১ বছরের শিশুর