
মোবাইল হাতে পেলেই অনলাইন গেমে ডুবে যাচ্ছে শিশু। দিনের পর দিন এই অভ্যাস শুধু শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলছে না, অসাবধানতায় শিশু জড়িয়ে পড়তে পারে প্রতারণার ফাঁদেও। তাই সন্তানের অনলাইন গেম খেলার অভ্যাসে নজর রাখা জরুরি।
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ও অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। নানা ধরনের গেম সহজেই পাওয়া যায়। তবে গেমের জগতে বিনোদনের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ঝুঁকিও।
দিনের বেশির ভাগ সময় অনলাইন গেমে কাটালে শিশুর শরীর ও আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় প্রতারণার ফাঁদেও পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে?
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অনলাইন গেমে মগ্ন থাকা শিশুদের মধ্যে মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
দিনের পর দিন গেম খেলার অভ্যাস থাকলে ওজন বাড়া, আলস্য বৃদ্ধি এবং কায়িক পরিশ্রমের প্রতি অনীহাও দেখা দিতে পারে।
মনের ওপরও পড়তে পারে প্রভাব
অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তি শিশুর আচরণেও পরিবর্তন আনতে পারে। বারবার গেম খেলার সময় আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কার্যক্রম সক্রিয় হতে পারে, যা গেম খেলার প্রতি আসক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গেমের কঠিন ধাপ পার করতে না পারলে অনেক শিশুর মধ্যে চাপ ও বিরক্তি বাড়তে পারে। অল্পতেই রেগে যাওয়া, খিটখিটে আচরণ কিংবা আগ্রাসী মনোভাবও দেখা দিতে পারে।
গেমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে কেউ কেউ একাকিত্বে ভুগতে পারে এবং পরিবার বা অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইতে পারে।
অনলাইন গেমে প্রতারণার ফাঁদ
অনলাইনে গেম খেলার সময় অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। এই সুযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা শিশুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
অপরিচিত বা সন্দেহজনক জায়গা থেকে গেম নামালে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই বিশ্বাসযোগ্য জায়গা ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে গেম নামানো উচিত নয়।
অভিভাবকদের যা করা উচিত
সন্তান কোন গেম খেলছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে কোন বিষয়বস্তু দেখা যাবে বা কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
শিশুকে একা ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে খেলতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখা সহজ হয়।
অনলাইন গেম খেলার সময় শিশুকে কেউ ভয় দেখালে, হুমকি দিলে বা এমন কোনো পরিস্থিতিতে ফেললে যে সে ভয় পাচ্ছে কিংবা বেরিয়ে আসতে পারছে না, তাহলে দ্রুত সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তা নেওয়া জরুরি।
অনলাইন গেম শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে। তবে সময়ের সীমা, নিরাপদ ব্যবহার এবং অভিভাবকদের নজরদারি ছাড়া এই বিনোদনই শরীর, মন ও অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


