ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হাই হিল পরলে হতে পারে যেসব ক্ষতি 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ পিএম
ফ্যাশনে আকর্ষণীয় হলেও নিয়মিত হাই হিল ব্যবহারে পা, হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে । ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশনে হাই হিল অনেকেরই পছন্দ। পোশাকে বাড়তি সৌন্দর্য আনলেও নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় হাই হিল পরার অভ্যাস শরীরের বিভিন্ন অংশে চাপ তৈরি করতে পারে। পায়ের ছোট জয়েন্ট থেকে শুরু করে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।

সাজগোজের সঙ্গে মানানসই পোশাক আর হাই হিল—অনেকের কাছেই যেন একে অপরের পরিপূরক। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান কিংবা অল্প সময়ের জন্য হাই হিল পরলে সমস্যা নাও হতে পারে। তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাই হিল পরে হাঁটাচলা করলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

গোড়ালি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে থাকার কারণে হাঁটার সময় পা সহজেই এদিক-সেদিক বেঁকে যেতে পারে। এতে হাঁটু ও গোড়ালিতে বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চাপ চলতে থাকলে হাঁটুর অস্থিসন্ধির পেছনের তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে অল্প বয়সেই অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পায়ের ছোট জয়েন্টেও ব্যথা

হাই হিল পরে হাঁটার সময় পায়ের স্বাভাবিক ভঙ্গি বদলে যায়। পায়ের পাশের অংশ অনেকটা আড়ষ্ট হয়ে থাকে এবং শরীরের ভারের বড় অংশ হাঁটুর ওপর পড়ে। ফলে পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টে ব্যথা ও অস্থিসন্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু হাঁটু নয়, গোড়ালিতেও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন হাই হিল ব্যবহারের ফলে পায়ের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

পায়ের পেশিতে পরিবর্তন

দীর্ঘ সময় হাই হিল পরে থাকলে গোড়ালি সবসময় উঁচু অবস্থায় থাকে। ফলে গোড়ালির সঙ্গে টেনডনের মাধ্যমে যুক্ত পেশিগুলো ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যেতে পারে। পেশিতে নানা ধরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি পায়ের তলায় থাকা টিস্যু ও গোড়ালির টেনডনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এর ফলে পায়ের তলায় ব্যথা এবং গোড়ালির টেনডনে প্রদাহের মতো সমস্যা হতে পারে।

কোমরেও পড়তে পারে চাপ

হাই হিল গোড়ালিকে উঁচু করে রাখে এবং শরীরের ভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনে। কোমরকে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় সামনের দিকে ঠেলে রাখতে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে হাঁটাচলা করলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতায় প্রভাব পড়তে পারে।

ফলে কোমরে ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

পায়ের পাতায় বাড়ে চাপ

হাই হিল পরার সময় শরীরের ভারের বড় অংশ পায়ের সামনের দিকে চলে আসে। ফলে পায়ের পাতাকে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হয়। দীর্ঘদিন এমন চাপের কারণে পায়ের পাতার নিচের নরম ও মাংসল অংশ ক্ষয় বা সরে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

গোড়ালি মচকে যাওয়ার আশঙ্কা

হাই হিলের কারণে পায়ের পাতা ও গোড়ালির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। শরীরের ভারও গোড়ালির অস্থিসন্ধিতে বেশি পড়ে। ফলে হাঁটার সময় পা বেঁকে গিয়ে গোড়ালি মচকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

নখকুনির সমস্যাও হতে পারে

হাই হিলের সামনের অংশ অনেক সময় সরু ও নৌকার মতো আকৃতির হয়। কিন্তু মানুষের পায়ের আঙুল সাধারণত তুলনামূলকভাবে চওড়া। সরু জুতার মধ্যে পায়ের আঙুলগুলো চাপে থাকে এবং শরীরের ভারও সেগুলোর ওপর পড়ে।

দীর্ঘদিন এমন জুতা ব্যবহার করলে পায়ের আঙুলে চাপ বাড়ে এবং নখকুনির সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

তাহলে কেমন জুতা ভালো?

হাই হিল পরার ইচ্ছা থাকতেই পারে। তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সামান্য উঁচু বা সমতল জুতা ব্যবহার করাই তুলনামূলকভাবে ভালো। এমন জুতা বেছে নেওয়া উচিত, যাতে পা স্বাভাবিকভাবে রাখা যায় এবং গোড়ালির ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশেষ অনুষ্ঠান বা যেখানে বেশি হাঁটতে হবে না, সেখানে হাই হিল পরা যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে পায়ের আরাম ও স্বাভাবিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ