
বর্ষায় শিশুদের নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ানো সংক্রমণ নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি। শিশুর আচরণে সামান্য পরিবর্তনও কখনও সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বর্ষা মানেই হাঁচি-কাশি, জ্বরসহ নানা সংক্রমণের প্রকোপ। এই সময়ে শুধু বড়রাই নয়, নবজাতক ও ছোট শিশুরাও নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। এর মধ্যে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া রোগও রয়েছে। এসব রোগকে বলা হয় জুনোটিক রোগ।
স্ক্রাব টাইফাস, কোভিড-১৯, ইবোলা, জলাতঙ্ক ও সালমোনেলোসিস— এসব রোগ জুনোটিক সংক্রমণের উদাহরণ। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। তাই অভিভাবকদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
বর্ষায় কেন বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি?
বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
এছাড়া বর্ষায় পানীয় জলের সঙ্গে দূষিত পানি মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সেই পানিতে প্রাণীর মল-মূত্র মিশে গেলে তা পান করার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াও জীবাণুর টিকে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। ফলে বর্ষায় বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ কাঁদছে শিশু? সতর্ক হোন
নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ সব সময় স্পষ্ট হয় না। তবে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত।
শিশুর জ্বর হলে কিংবা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও নজর দিতে হবে। সংক্রমণ হলে শিশু অনেক সময় খেতে চায় না বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খায়।
এছাড়া বমি, পাতলা পায়খানা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রং পরিবর্তন কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়াও সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
শিশু যদি অস্বাভাবিকভাবে সারাক্ষণ কাঁদতে থাকে, খিটখিটে হয়ে যায় কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমিয়ে থাকে, তাহলেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
শিশুকে সংক্রমণ থেকে কীভাবে দূরে রাখবেন?
শিশুকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নবজাতককে স্পর্শ করার আগে, শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং খাবার প্রস্তুত করার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
শিশুর পানীয় জল ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়ানো উচিত। শিশুর ব্যবহৃত বাসনপত্রও পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রয়োজনে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাড়িতে পোষ্য প্রাণী থাকলে শিশুর কাছ থেকে দূরে রাখা ভালো। একই সঙ্গে শিশুর শরীর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বর্ষায় মশার কামড় থেকেও শিশুকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ছোট লক্ষণও অবহেলা নয়
শিশু কথা বলে নিজের অসুবিধা জানাতে পারে না। তাই তার আচরণ, খাওয়ার অভ্যাস, ঘুম এবং শরীরের তাপমাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ


