ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সারাক্ষণ কাঁদছে শিশু? যে লক্ষণে বুঝবেন সংক্রমণের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
বর্ষায় নবজাতক ও শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিচ্ছন্নতা ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষায় শিশুদের নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ানো সংক্রমণ নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি। শিশুর আচরণে সামান্য পরিবর্তনও কখনও সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

বর্ষা মানেই হাঁচি-কাশি, জ্বরসহ নানা সংক্রমণের প্রকোপ। এই সময়ে শুধু বড়রাই নয়, নবজাতক ও ছোট শিশুরাও নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। এর মধ্যে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া রোগও রয়েছে। এসব রোগকে বলা হয় জুনোটিক রোগ।

স্ক্রাব টাইফাস, কোভিড-১৯, ইবোলা, জলাতঙ্ক ও সালমোনেলোসিস— এসব রোগ জুনোটিক সংক্রমণের উদাহরণ। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। তাই অভিভাবকদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

বর্ষায় কেন বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি?

বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

এছাড়া বর্ষায় পানীয় জলের সঙ্গে দূষিত পানি মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সেই পানিতে প্রাণীর মল-মূত্র মিশে গেলে তা পান করার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াও জীবাণুর টিকে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। ফলে বর্ষায় বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

সারাক্ষণ কাঁদছে শিশু? সতর্ক হোন

নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ সব সময় স্পষ্ট হয় না। তবে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত।

শিশুর জ্বর হলে কিংবা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও নজর দিতে হবে। সংক্রমণ হলে শিশু অনেক সময় খেতে চায় না বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খায়।

এছাড়া বমি, পাতলা পায়খানা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রং পরিবর্তন কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়াও সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।

শিশু যদি অস্বাভাবিকভাবে সারাক্ষণ কাঁদতে থাকে, খিটখিটে হয়ে যায় কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমিয়ে থাকে, তাহলেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

শিশুকে সংক্রমণ থেকে কীভাবে দূরে রাখবেন?

শিশুকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নবজাতককে স্পর্শ করার আগে, শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং খাবার প্রস্তুত করার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

শিশুর পানীয় জল ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়ানো উচিত। শিশুর ব্যবহৃত বাসনপত্রও পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রয়োজনে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাড়িতে পোষ্য প্রাণী থাকলে শিশুর কাছ থেকে দূরে রাখা ভালো। একই সঙ্গে শিশুর শরীর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বর্ষায় মশার কামড় থেকেও শিশুকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ছোট লক্ষণও অবহেলা নয়

শিশু কথা বলে নিজের অসুবিধা জানাতে পারে না। তাই তার আচরণ, খাওয়ার অভ্যাস, ঘুম এবং শরীরের তাপমাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
সারাদিন নিখোঁজ থাকার পর রাতে প্রতিবেশীর ঘরে মিললো শিশুর নিথর দেহ
প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু
খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু