
প্রথমবার শিশুকে নিয়ে বিমান সফর করলে অনেক অভিভাবকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। কত মাস বয়সে বিমানে ওঠানো নিরাপদ, কোথায় বসানো ভালো, কানে ব্যথা হলে কী করবেন—এসব বিষয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে পুরো সফরই হতে পারে অনেক স্বস্তির।
শিশুকে নিয়ে বিমান ভ্রমণ কখনও প্রয়োজনের কারণে, আবার কখনও বেড়ানোর জন্য করতে হয়। তবে একরত্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার আকাশপথে পাড়ি দেওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি। সামান্য প্রস্তুতি শিশুর জন্য বিমানযাত্রাকে অনেক আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
বয়সের বিষয়টি আগে ভাবুন
শিশুকে নিয়ে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো নিয়ম নেই যে নির্দিষ্ট বয়সের আগে শিশুকে বিমানে নেওয়া যাবে না। এমনকি সাত দিনের শিশুকেও বিমানে নেওয়া সম্ভব। তবে নবজাতকের সংক্রমণ ও ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি থাকায় সম্ভব হলে অন্তত দুই থেকে তিন মাস বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো।
ছোট শিশুর জন্য ঝুলন্ত বিছানা
ছয় মাসের কম বয়সী এবং নির্দিষ্ট ওজনের শিশুদের জন্য অনেক বিমান সংস্থায় বিশেষ ঝুলন্ত বিছানার ব্যবস্থা থাকে। দীর্ঘ যাত্রা হলে আগে থেকেই এই সুবিধার জন্য আবেদন করে রাখা ভালো। সাধারণত বিমানে ওঠার আগেই এটি বুক করতে হয়।
কোথায় বসাবেন শিশুকে?
শিশুর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জানালার পাশের আসন বেছে নেওয়া ভালো। মাঝের সারি বা চলাচলের পথের পাশের আসনে অসাবধানতায় গরম পানীয় কিংবা মালপত্র পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সঙ্গে রাখা যাবে দুধ ও প্রয়োজনীয় খাবার
নবজাতকের জন্য বুকের দুধ বা দুধ তৈরির প্রয়োজনীয় পানি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মে ছাড় থাকে। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্মকর্তাকে বিষয়টি আগে জানালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা আলাদাভাবে করা যেতে পারে।
উড়ার সময় কানে ব্যথা কমাবেন যেভাবে
বিমান আকাশে ওঠার সময় এবং অবতরণের সময় কানের ভেতরের চাপের পরিবর্তনের কারণে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। এ সময় শিশুকে দুধ পান করানো বা চুষি দিলে কানের ভেতরের চাপ সামলাতে সুবিধা হতে পারে এবং ব্যথার আশঙ্কা কমতে পারে।
পোশাক ও ডাইপারে নজর
বিমানে শিশুকে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরানো ভালো। বিমানে ওঠার ঠিক আগে ডাইপার বদলে নিলে সুবিধা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই থেকে তিন সেট পোশাক সঙ্গে রাখুন। যাত্রাপথে পোশাক নোংরা বা ভিজে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দিতে পারবেন।
বিমানের শব্দেও সতর্কতা
বিমান মাটিতে নামার সময় হঠাৎ বেশি শব্দ হতে পারে। এতে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে। শিশুর কানে তুলো ব্যবহার করে শব্দের তীব্রতা কিছুটা কমানো যেতে পারে। এতে শিশুকে শান্ত রাখতেও সুবিধা হতে পারে।
সঙ্গে রাখুন পছন্দের খেলনা
দীর্ঘ সময় বিমানে বসে থাকা শিশুর জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। তাই ছোট খেলনা, বই কিংবা বয়স উপযোগী বিনোদনের ব্যবস্থা সঙ্গে রাখতে পারেন। প্রয়োজন হলে পর্দায় কার্টুন দেখিয়েও শিশুকে ব্যস্ত রাখা যায়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভুলবেন না
দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে শিশুর সাধারণত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় না। তবে শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধনের একটি অনুলিপি সঙ্গে রাখা ভালো। আর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে শিশুর নিজস্ব পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
একটু প্রস্তুতিই কমাবে ভ্রমণের ঝামেলা
শিশুকে নিয়ে বিমান সফর নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার প্রয়োজন নেই। আগে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখা, শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী আসন নির্বাচন করা এবং উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বিশেষ যত্ন নেওয়াই পারে যাত্রাকে অনেক সহজ করে দিতে।
আরটিভি/জেএমএ


