ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নিয়মিত ব্যায়াম করেও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে যে ছোট্ট অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমও হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

নিয়মিত শারীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এসবের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু এসব মেনে চলার পরও একটি সাধারণ ভুল নীরবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। আর সেই ভুলটি হলো পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।

সকালে হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে খাবারে তেল-মশলা কমানো—সবই করছেন, কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, দিনের অন্য সব স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুমও হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে প্রতি রাতেই নীরবে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

ঘুমের সময়ও বদলায় রক্তচাপ

রাতে ঘুমানোর সময় শরীর বিশ্রাম নেয়, একই সঙ্গে বিশ্রাম পায় হৃদযন্ত্রও। সাধারণত ঘুমের সময় রক্তচাপ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে রক্তনালিগুলো কিছুটা শিথিল হয় এবং হৃদযন্ত্রও প্রয়োজনীয় বিশ্রামের সুযোগ পায়।

কিন্তু ঘুম ঠিকমতো না হলে বা বারবার ভেঙে গেলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমার এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। হৃদস্পন্দনও যতটা কমার কথা, ততটা কমে না। ফলে হৃদযন্ত্র প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না।

রাতের পর রাত এমন চলতে থাকলে ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

বাড়ে মানসিক চাপও

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই আসে না, শরীরেও নানা পরিবর্তন ঘটে। নিয়মিত কম ঘুমের কারণে কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিনের মতো মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

এসব হরমোনের অতিরিক্ত প্রভাব হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রক্তনালিতে হতে পারে প্রদাহ

দিনের পর দিন ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে।

এর সঙ্গে রক্তচাপ ঠিক না থাকা এবং রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে ধমনিতে চর্বির আস্তরণ বা প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়ে। এতে ধমনি সরু হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে এর কারণে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়ে হৃদরোগ বা হৃদযন্ত্রের আকস্মিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রভাব পড়ে রক্তে শর্করাতেও

ঘুমের ঘাটতি শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর ডায়াবিটিস হৃদযন্ত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

এছাড়া ঘুমের ঘাটতিতে হজমের সমস্যা ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু ব্যায়াম আর খাবারই যথেষ্ট নয়

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শারীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসকের মতে, টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।

অন্যদিকে, নিয়মিত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানো কিংবা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ ঘুমের এই ঘাটতি বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু