ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

নিয়মিত ব্যায়াম করেও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে যে ছোট্ট অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমও হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

নিয়মিত শারীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এসবের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু এসব মেনে চলার পরও একটি সাধারণ ভুল নীরবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। আর সেই ভুলটি হলো পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।

সকালে হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে খাবারে তেল-মশলা কমানো—সবই করছেন, কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, দিনের অন্য সব স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুমও হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে প্রতি রাতেই নীরবে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

ঘুমের সময়ও বদলায় রক্তচাপ

রাতে ঘুমানোর সময় শরীর বিশ্রাম নেয়, একই সঙ্গে বিশ্রাম পায় হৃদযন্ত্রও। সাধারণত ঘুমের সময় রক্তচাপ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে রক্তনালিগুলো কিছুটা শিথিল হয় এবং হৃদযন্ত্রও প্রয়োজনীয় বিশ্রামের সুযোগ পায়।

কিন্তু ঘুম ঠিকমতো না হলে বা বারবার ভেঙে গেলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমার এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। হৃদস্পন্দনও যতটা কমার কথা, ততটা কমে না। ফলে হৃদযন্ত্র প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না।

রাতের পর রাত এমন চলতে থাকলে ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

বাড়ে মানসিক চাপও

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই আসে না, শরীরেও নানা পরিবর্তন ঘটে। নিয়মিত কম ঘুমের কারণে কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিনের মতো মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

এসব হরমোনের অতিরিক্ত প্রভাব হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রক্তনালিতে হতে পারে প্রদাহ

দিনের পর দিন ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে।

এর সঙ্গে রক্তচাপ ঠিক না থাকা এবং রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে ধমনিতে চর্বির আস্তরণ বা প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়ে। এতে ধমনি সরু হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে এর কারণে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়ে হৃদরোগ বা হৃদযন্ত্রের আকস্মিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রভাব পড়ে রক্তে শর্করাতেও

ঘুমের ঘাটতি শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর ডায়াবিটিস হৃদযন্ত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

এছাড়া ঘুমের ঘাটতিতে হজমের সমস্যা ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু ব্যায়াম আর খাবারই যথেষ্ট নয়

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শারীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসকের মতে, টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।

অন্যদিকে, নিয়মিত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানো কিংবা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ ঘুমের এই ঘাটতি বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু