
শুধু মিষ্টি বেশি খেলেই রক্তে সুগার বা শর্করা বেড়ে যায়—এমনটা নয়। প্রতিদিনের জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অজান্তেই এমন কিছু কাজ করি, যা শরীরে রক্তে শর্করা বাড়ার কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে সকালের কিছু অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
খালি পেটে দুধ চা বা কফি
ঘুম থেকে উঠেই চিনি দেওয়া কড়া চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এর সঙ্গে থাকে দু-একটি বিস্কুট। রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ চিনি বা ক্যাফেইন শরীরে গেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
তাই দিনের শুরুতে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা ভালো। চা বা কফিতে চিনি খেতে হলে তা খাওয়ার পর নেওয়া যেতে পারে।
ঘুম ভেঙেই অলস হয়ে থাকা
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা কিংবা দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকার অভ্যাসও ভালো নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। এই হরমোন রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
সকালে হালকা হাঁটাচলা করলে শরীরের পেশি সক্রিয় হয় এবং রক্তে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে। তাই ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা উপকারী।
সকাল সকাল ধূমপান
সকালে খালি পেটে ধূমপান করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।
এছাড়া খালি পেটে ধূমপান করলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে পারে।
ঘুম থেকে উঠে পানি না খাওয়া
রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি না খেয়ে সরাসরি চা, কফি বা খাবার খাওয়ার অভ্যাস তাই ঠিক নয়।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি দেখা দিতে পারে।
দেরিতে সকালের নাস্তা করা
সকাল আটটায় ঘুম থেকে উঠে যদি দুপুর ১২টার দিকে সকালের নাস্তা করা হয়, তাহলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। রাতে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর সকালেও খাবার না পেলে লিভার তার জমিয়ে রাখা গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠাতে থাকে।
ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর অতিরিক্ত দেরি না করে পরিমিত ও পুষ্টিকর সকালের নাস্তা করা ভালো।
সচেতন হোক সকালের অভ্যাস
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে শুধু মিষ্টি কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সকালে চিনি দেওয়া চা-কফি, অলসভাবে বসে থাকা, ধূমপান, জল না খাওয়া এবং প্রাতরাশে দেরি করার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চললে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে এগিয়ে থাকা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ


