ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সকালে এই ৫ ভুলেই বাড়তে পারে সুগার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
সকালের কিছু অভ্যাস অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা। তাই ঘুম থেকে ওঠার পরের সময়টুকুতে থাকতে হবে সচেতন । ছবি: সংগৃহীত

শুধু মিষ্টি বেশি খেলেই রক্তে সুগার বা শর্করা বেড়ে যায়—এমনটা নয়। প্রতিদিনের জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অজান্তেই এমন কিছু কাজ করি, যা শরীরে রক্তে শর্করা বাড়ার কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে সকালের কিছু অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

খালি পেটে দুধ চা বা কফি

ঘুম থেকে উঠেই চিনি দেওয়া কড়া চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এর সঙ্গে থাকে দু-একটি বিস্কুট। রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ চিনি বা ক্যাফেইন শরীরে গেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

তাই দিনের শুরুতে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা ভালো। চা বা কফিতে চিনি খেতে হলে তা খাওয়ার পর নেওয়া যেতে পারে।

ঘুম ভেঙেই অলস হয়ে থাকা

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা কিংবা দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকার অভ্যাসও ভালো নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। এই হরমোন রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।

সকালে হালকা হাঁটাচলা করলে শরীরের পেশি সক্রিয় হয় এবং রক্তে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে। তাই ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা উপকারী।

আরও পড়ুন

সকাল সকাল ধূমপান

সকালে খালি পেটে ধূমপান করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া খালি পেটে ধূমপান করলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে পারে।

ঘুম থেকে উঠে পানি না খাওয়া

রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি না খেয়ে সরাসরি চা, কফি বা খাবার খাওয়ার অভ্যাস তাই ঠিক নয়।

শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি দেখা দিতে পারে।

দেরিতে সকালের নাস্তা করা

সকাল আটটায় ঘুম থেকে উঠে যদি দুপুর ১২টার দিকে সকালের নাস্তা করা হয়, তাহলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। রাতে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর সকালেও খাবার না পেলে লিভার তার জমিয়ে রাখা গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠাতে থাকে।

ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর অতিরিক্ত দেরি না করে পরিমিত ও পুষ্টিকর সকালের নাস্তা করা ভালো।

সচেতন হোক সকালের অভ্যাস

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে শুধু মিষ্টি কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সকালে চিনি দেওয়া চা-কফি, অলসভাবে বসে থাকা, ধূমপান, জল না খাওয়া এবং প্রাতরাশে দেরি করার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চললে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে এগিয়ে থাকা সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
সকালের নাশতা কেন এত জরুরি
সকালে ঘুম ঘুম ভাব ও ক্লান্তি কাটাবেন যেভাবে
সুগার ফ্রি মিষ্টি খেলে কী হয় জানেন?
জেনে নিন সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে মধু খাওয়ার উপকারিতা