ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আসবাব কেনার সময় যে ভুলগুলো করলে পরে পস্তাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ঘরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি জায়গা ও প্রয়োজন বুঝে আসবাব বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ছবি: সংগৃহীত

নতুন বাড়ি সাজানোর সময় আসবাব কেনার আনন্দই আলাদা। খাট, আলমারি, সোফা কিংবা খাবার টেবিল—পছন্দের জিনিস দেখলেই অনেকের মনে হয়, এটি বাড়িতে থাকলে ঘর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু শুধু দেখতে ভালো লাগলেই আসবাব কিনে ফেলা ঠিক নয়।

কারণ সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন বাড়ে, নতুন নতুন জিনিস ঘরে ঢোকে। একসময় দেখা যায়, দাম দিয়ে কেনা সাধের আসবাবেই ঘর ভরে গেছে। হাঁটাচলার জায়গাও কমে এসেছে। তাই আসবাব কেনার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

শুধু সৌন্দর্য নয়, দেখুন কতটা টেকসই

আসবাব কেনার সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর কাঠামো কতটা মজবুত, সেটি দেখা দরকার। বিশেষ করে সোফা কেনার ক্ষেত্রে ভালো মানের কাঠের কাঠামো এবং বসার অংশে ভালো মানের স্প্রিং থাকলে সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

দেখতে সুন্দর হলেও কাঠামো দুর্বল হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আসবাব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন

ছোট ঘরে বড় আসবাব নয়

ঘর ছোট হলে এমন আসবাব বেছে নেওয়া ভালো, যা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়।

যেমন, এমন সোফা নেওয়া যেতে পারে যা প্রয়োজন হলে বিছানা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। খাবার টেবিল এমন হতে পারে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট থেকে বড় করা যায়। আবার এমন খাটও বেছে নেওয়া যায়, যার নিচে জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

এতে ঘরে আলাদা করে বেশি আসবাব রাখার প্রয়োজন হয় না এবং জায়গাও বাঁচে।

মাপ না নিয়ে আসবাব কিনলেই বিপদ

আসবাব কেনার আগে শুধু ঘরের জায়গা মাপলেই হবে না। দরজা, সিঁড়ি ও লিফটের মাপও জানা জরুরি।

কারণ দোকানে গিয়ে পছন্দের আসবাব কিনে ফেললেন, কিন্তু সেটি যদি দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকানোই না যায়, তাহলে বিপদে পড়তে হবে। তাই কেনার আগেই আসবাবটি ঘরে রাখা যাবে কি না এবং সেটি কীভাবে ঘরে আনা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।

ঘন ঘন আসবাব বদলানোর দরকার নেই

ঘরের সাজে পরিবর্তন আনতে বারবার খাট, সোফা বা অন্য বড় আসবাব বদলানোর প্রয়োজন নেই। বরং মূল আসবাবের নকশা সাধারণ ও সময়ের সঙ্গে মানানসই রাখা ভালো।

উৎসব বা ঋতু অনুযায়ী কুশন, সোফার আবরণ কিংবা ঘরের অন্যান্য সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনলেই ঘরের চেহারায় নতুনত্ব আসতে পারে।

উপকরণ বাছাইয়েও সতর্কতা

কাঠ, ধাতু, কৃত্রিম কাঠ, পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে আসবাব তৈরি হয়। কাঠ দীর্ঘস্থায়ী ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে শুধু কাঠই যে সব ঘরের জন্য উপযুক্ত, তা নয়।

বাজেট, ঘরের সাজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য উপকরণের আসবাবও বেছে নেওয়া যেতে পারে।

অনলাইনে কিনলে আরও বেশি সতর্ক

অনলাইনে আসবাব কেনার সময় মাপজোক নিয়ে কোনো ধরনের ভুল করা যাবে না। পণ্যটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ঘরের জায়গার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

পাশাপাশি আসবাব বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেটি কে এবং কখন জোড়া লাগিয়ে দেবে, সেই বিষয়টিও আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। এতে পরে অপ্রত্যাশিত ঝামেলায় পড়তে হবে না।

তাই আসবাব কেনার সময় শুধু চোখে সুন্দর লাগছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। আসবাবটি কতটা প্রয়োজনীয়, কতদিন ব্যবহার করা যাবে, ঘরে জায়গা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে সেটি কতটা কাজে আসবে—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি। একটু পরিকল্পনা করে কিনলেই বাড়ি যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনই অপ্রয়োজনীয় খরচও কমবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
বর্ষায় কাঠের আসবাবপত্রে ছত্রাক দূর করুন সহজেই
ডাইনিং টেবিলে দাগ? কাঠের আসবাব পরিষ্কারের সহজ ঘরোয়া কৌশল জানুন