বর্ষাকাল মানেই ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে কাঠের আসবাবপত্র। আলমারি, খাট, ড্রেসিং টেবিল, বুকশেলফ কিংবা চেয়ার—যে কোনও কাঠের জিনিসেই ছত্রাক (ছাতা) পড়তে পারে, ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে, এমনকি আর্দ্রতার কারণে কাঠ ফুলে গিয়ে আলমারির দরজাও আটকে যেতে পারে। তাই বর্ষায় কাঠের আসবাবের জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠ সহজেই বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে। এর ফলে কাঠ প্রসারিত হয়, আসবাবের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং দীর্ঘদিন স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকলে ফাঙ্গাসও জন্মাতে পারে। তাই বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
বর্ষার আগে কাঠের আসবাবে পালিশ বা সুরক্ষার প্রলেপ লাগিয়ে নেওয়া ভালো। এতে আর্দ্রতা সরাসরি কাঠে পৌঁছাতে পারে না। ডাইনিং টেবিল, খাট বা আলমারির মতো বেশি ব্যবহৃত আসবাবে শক্ত সুরক্ষার প্রলেপ ব্যবহার করা যায়। অন্য আসবাবে সাধারণ পালিশ বা প্রাকৃতিক মোম কিংবা তেলের প্রলেপও কার্যকর।
আসবাব কখনও দেওয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। কারণ বৃষ্টির সময়ে দেওয়াল আর্দ্রতা শোষণ করে, যা ধীরে ধীরে কাঠেও পৌঁছে যায়। তাই আলমারি, বইয়ের তাক বা সোফা দেওয়াল থেকে অন্তত ২ থেকে ৩ ইঞ্চি দূরে রাখলে বাতাস চলাচল করবে এবং স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কমবে।
বন্ধ আলমারি বা ড্রয়ারে বাতাস কম ঢোকে। তাই সেখানে আর্দ্রতা শোষণকারী ছোট প্যাকেট রেখে দেওয়া যেতে পারে। এগুলো প্রতি মাসে একবার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে আবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি আসবাবের পায়ের নিচে রবার বা নরম আবরণ লাগিয়ে দিলে মেঝের আর্দ্রতাও কাঠে পৌঁছাতে পারে না।
বর্ষার দিনে প্রতিদিন শুকনো ও নরম কাপড় দিয়ে আসবাব মুছে রাখা উচিত। যদি কোথাও ফাঙ্গাস দেখা দেয়, তাহলে ৩ কাপ পানির সঙ্গে ১ কাপ ভিনিগার মিশিয়ে সেই জায়গায় ছিটিয়ে কিছুক্ষণ পর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। চাইলে পানির সঙ্গে নিমতেল মিশিয়েও পরিষ্কার করা যায়। এতে ফাঙ্গাসের ঝুঁকি কমে।
অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললেই বর্ষার আর্দ্রতা থেকে কাঠের আসবাবকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এতে আসবাবের সৌন্দর্য যেমন অটুট থাকবে, তেমনি দীর্ঘদিন ব্যবহারও করা যাবে।
আরটিভি/জেএমএ




