ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব চিঠি দিবস আজ

হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার সেই চিঠির দিনে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
হাতে লেখা চিঠি ও ডাকবাক্স—দ্রুত যোগাযোগের যুগেও যে স্মৃতি আর আবেগ হারিয়ে যায়নি। ছবি : সংগৃহীত

একটি সাদা কাগজ। হাতে লেখা কয়েকটি কথা। ভাঁজ করে খামের ভেতর রাখা। খামের ওপর প্রাপকের নাম ও ঠিকানা লিখে সেটি ফেলে দেওয়া ডাকবাক্সে। তারপর অপেক্ষা—কবে চিঠি পৌঁছাবে, কবে আসবে উত্তর?

উত্তর আসার দিনটি যেন ছিল ছোট্ট এক উৎসব। ডাকপিয়নের হাতে প্রিয় মানুষের চিঠি দেখলেই মুখে ফুটে উঠত হাসি। কখনও সেই চিঠিতে থাকত ভালোবাসা, কখনও অভিমান, কখনও দূরে থাকা আপনজনের খবর। আবার কখনও কয়েকটি সাধারণ কথাই হয়ে উঠত সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।

আজ সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীতের গল্প। মুঠোফোনের এক ছোঁয়ায় মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায় বার্তা। তবু হাতে লেখা চিঠির আবেদন যেন পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। বরং দ্রুত যোগাযোগের এই সময়ে চিঠি হয়ে উঠেছে আরও ব্যক্তিগত, আরও আবেগময় এবং আরও দুর্লভ।

আজ বিশ্ব চিঠি দিবস

প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব চিঠি দিবস। এই দিবসের উদ্দেশ্য মানুষকে আবার কাগজ-কলমে চিঠি লেখার অভ্যাসে ফিরিয়ে আনা।

২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার লেখক, আলোকচিত্রী ও শিল্পী রিচার্ড সিম্পকিন সিডনির ওয়েভারলি কলেজে দিবসটির সূচনা করেন। চিঠি লেখার প্রতি তাঁর নিজের আগ্রহ থেকেই এই উদ্যোগের শুরু।

আরও পড়ুন

চিঠি_বক্স

১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সিম্পকিন অস্ট্রেলিয়ার যাঁদের কিংবদন্তি মনে করতেন, তাঁদের কাছে চিঠি লিখতেন। অনেকের কাছ থেকেই তিনি উত্তর পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরে ২০০৫ সালে ‘অস্ট্রেলিয়ান লিজেন্ডস’ বইয়ে তুলে ধরেন। এরপর চিঠি লেখার আনন্দ আরও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন বিশ্ব চিঠি দিবস।

চিঠি মানেই ছিল অপেক্ষা

চিঠির সবচেয়ে আলাদা দিক ছিল তার ধীরগতি। এখন কেউ বার্তা পাঠিয়ে কয়েক মিনিট উত্তর না পেলেই অস্থির হয়ে পড়েন। অথচ চিঠির সময়ে অপেক্ষাটাই ছিল যোগাযোগের স্বাভাবিক অংশ।

চিঠি লেখার সময় মানুষকে ভাবতে হতো—কী লিখবেন, কোন কথাটি আগে বলবেন, কীভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করবেন। ফলে চিঠির প্রতিটি বাক্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত সময়, মনোযোগ ও আবেগ।

রিচার্ড সিম্পকিনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্যও ছিল এই মনোযোগী লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা। তাৎক্ষণিক বার্তার মতো চিঠি লিখে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। নিজের কথা গুছিয়ে লিখতে হয়, প্রাপককে নিয়ে ভাবতে হয়।

ডাকবাক্স ছিল দূরের মানুষের কাছে যাওয়ার দরজা

একসময় রাস্তার পাশে থাকা ছোট্ট ডাকবাক্সই ছিল দূরের মানুষের কাছে নিজের কথা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। হাতে লেখা চিঠি সেখানে ফেলে দিয়ে মানুষ অপেক্ষা করত ডাকপিয়নের জন্য।

চিঠি_বক্স_3

যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৫৮ সালে শহরের রাস্তায় চিঠি সংগ্রহের বাক্স স্থাপন শুরু হয়। ফলে প্রতিবার ডাকঘরে গিয়ে চিঠি জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকত না। রাস্তার সংগ্রহ বাক্সেই চিঠি ফেলে দেওয়া যেত।

ডাকব্যবস্থার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দূরে থাকা মানুষদের যোগাযোগও সহজ হয়। উনিশ শতকে ডাকের খরচ কমে আসা এবং ডাকব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দূরে থাকা বন্ধু, পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও বাড়ে।

বাংলার জীবনেও চিঠির আলাদা জায়গা

বাংলার জীবনেও একসময় চিঠি ছিল খুব পরিচিত একটি বিষয়। বাড়ির সামনে ডাকপিয়ন এসে কারও নাম ধরে ডাকছেন—এই দৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপেক্ষা, আনন্দ ও উৎকণ্ঠা।

দূরে থাকা সন্তান বাবা-মাকে চিঠি লিখেছেন। স্বামী লিখেছেন স্ত্রীকে। বন্ধু লিখেছে বন্ধুকে। কেউ জানিয়েছে চাকরির খবর, কেউ পরীক্ষার ফল। কেউ লিখেছে বাড়ির অভাব-অভিযোগ। আবার কেউ শুধু লিখেছে—ভালো আছি, তুমি কেমন আছ?

চিঠি সবসময় আনুষ্ঠানিক কথার জায়গা ছিল না। অনেক সময় মুখোমুখি বলা সম্ভব হয়নি এমন কথাও চিঠির পাতায় লেখা যেত। অভিমান, ভালোবাসা, অনুশোচনা, অপেক্ষা কিংবা মনের গোপন কথাগুলো জায়গা পেত কয়েকটি হাতে লেখা লাইনে।

হাতের লেখাতেই লুকিয়ে থাকত মানুষের ছোঁয়া

একটি চিঠির নিজস্ব একটা শরীর আছে। কাগজের ভাঁজ, খামের ওপর হাতের লেখা, কালির দাগ, ভুল করে কেটে দেওয়া কোনো শব্দ—সব মিলিয়ে চিঠিটি হয়ে উঠত আলাদা এক স্মৃতি।

আজকের একটি বার্তা হাজারো বার্তার ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু বহু বছর আগের একটি চিঠি পুরোনো বইয়ের ভাঁজে কিংবা কাঠের বাক্সে পাওয়া গেলে মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিতে পারে কোনো নির্দিষ্ট সময়, মানুষ কিংবা সম্পর্কের কাছে।

তাই চিঠি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেকের কাছে এটি স্মৃতিরও একটি অংশ।

ইতিহাসও সংরক্ষিত হয়েছে চিঠির পাতায়

চিঠির গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত আবেগে সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও চিঠির পাতায় সংরক্ষিত হয়েছে।

ব্যক্তিগত চিঠি, রাজনৈতিক চিঠিপত্র, যুদ্ধকালীন চিঠি কিংবা সাহিত্যিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ—এসব অনেক সময় অতীতের মানুষ ও সময়কে বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।

অর্থাৎ ডাকব্যবস্থা শুধু চিঠি বহন করেনি। এটি সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের সম্পর্ক বদলে যাওয়ার ইতিহাসেরও অংশ।

মুঠোফোনের যুগে বদলে গেছে অপেক্ষা

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে চিঠি লেখার অভ্যাস কমেছে। জরুরি খবরের জন্য মুঠোফোন, দীর্ঘ বার্তার জন্য বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম, আর অফিসের যোগাযোগে বৈদ্যুতিন ডাক—সবই এখন হাতের নাগালে।

অপেক্ষার জায়গা অনেকটাই দখল করেছে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ। ডাকপিয়নের পায়ের শব্দের বদলে এখন মানুষ অপেক্ষা করে মুঠোফোনের বার্তার সংকেতের জন্য।

তবু চিঠির আবেদন আলাদা। কারণ একটি চিঠি লিখতে কাউকে সময় দিতে হয়। ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় আলাদা করে কাগজ-কলম হাতে বসতে হয়। প্রাপককে মনে করতে হয়। নিজের কথাগুলো গুছিয়ে লিখতে হয়।

আর এই সময়টুকুই হয়তো চিঠির সবচেয়ে বড় উপহার।

হারিয়ে যেতে বসা অভ্যাসটি ফিরুক

বিশ্ব চিঠি দিবসের মূল বার্তা প্রযুক্তিকে বাদ দেওয়া নয়। বরং দ্রুত যোগাযোগের এই সময়ে ধীর, ব্যক্তিগত ও অর্থবহ যোগাযোগের জায়গাটুকু ধরে রাখা।

দিবসটির প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড সিম্পকিন এখনো বিদ্যালয়ে চিঠি লেখার কর্মশালা করেন। শিশু-কিশোর ও বড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে কাউকে চিঠি লেখার উৎসাহ দেন।

চিঠি_বক্স_4

আজ হয়তো ডাকবাক্সের দিকে তাকালে আগের মতো চিঠির স্তূপ দেখা যায় না। অনেক ডাকবাক্স নীরব দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেও লুকিয়ে আছে এক সময়ের গল্প—কেউ লিখেছে, কেউ অপেক্ষা করেছে, কেউ উত্তর পেয়েছে, কেউ আবার উত্তর না পেয়েও চিঠিটি যত্ন করে রেখে দিয়েছে।

মুঠোফোনের পর্দায় ‘ভালো থেকো’ লেখা যায় কয়েক সেকেন্ডে। কিন্তু কাগজে ‘ভালো থেকো’ লিখতে গেলে হাত থামে, মন ভাবে, শব্দ বেছে নিতে হয়। আর সেই কারণেই হাতে লেখা একটি চিঠি শুধু কয়েকটি শব্দ নয়—এটি একজন মানুষের আরেকজন মানুষের জন্য রেখে যাওয়া সময়, স্মৃতি ও ভালোবাসার ছোট্ট দলিল।

আজ একটি চিঠি লিখবেন?

বিশ্ব চিঠি দিবসে পুরোনো ডাকবাক্সের কথা মনে করার পাশাপাশি একটি কাজ করা যায়—কাগজ-কলম হাতে নিয়ে এমন কাউকে চিঠি লেখা, যাকে অনেক দিন কিছু বলা হয়নি।

কারণ সব যোগাযোগ দ্রুত হতে হয় না। কিছু কথা একটু দেরিতে পৌঁছালেই তার মূল্য আরও বেড়ে যায়।

হয়তো আপনার লেখা কয়েকটি হাতে লেখা লাইন কারও কাছে হয়ে উঠতে পারে বহু বছর পরও যত্ন করে রেখে দেওয়ার মতো একটি স্মৃতি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ 
আসিফ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চায় দুদক, বিএফআইইউকে চিঠি