ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শুঁটকি মাছের পুষ্টিগুণ

ডাঃ ফারহানা মোবিন

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৫৯ পিএম
শুঁটকি মাছ

রুচিবর্ধক খাবারগুলোর মধ্যে শুঁটকি মাছ অন্যতম। এই মাছ গুলোকে কাঁচা অবস্থায় লবণ মাখিয়ে কড়া রোদে শুকানো হয় (বড় ও অধিকাংশ মাছের বর্জ্য অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়)। তাই মাছের দেহের পানি বা তরল অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে এই মাছে কোনও জীবাণু জন্মাতে পারে না। তবে শুঁটকি মাছ কৌটায় বন্দী বা স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে ফাঙ্গাস পড়ে যায়।

প্রচুর পরিমাণে রৌদ্রে শুকানো হয় এই মাছ। তাই এতে ভিটামিন ‘ডি’র (সূর্যের আলোতে থাকে ভিটামিন ‘ডি’) পরিমাণ রয়েছে পর্যাপ্ত অনুপাতে। ভিটামিন ‘ডি’ হাড়, দাঁত, নখের গঠন মজবুত করার জন্য যথেষ্ট জরুরি।

শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ছোটদের রিকেটস নামের হাড়ের অসুখ হয়। রিকেটস হলে শিশুদের লম্বা হাড়ের গঠনে দুর্বলতা ও সমস্যা থাকে। হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর। এই একই সমস্যা বড়দেরও হয়। বড়দের ক্ষেত্রে একে আমরা বলি অস্টিও ম্যালাসিয়া। এই অসুখগুলো দূর করতে শুঁটকি মাছের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের জন্য উপকারী অনেক রকম খনিজ লবণ রয়েছে এই মাছে। খনিজ লবণ আমাদের রক্তশূন্যতা দূর করে, দাঁতের মাড়িকে করে দৃঢ়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। যারা কঠোর দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এটি যোগ্য খাবার। আর যারা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত মোটা, রক্তে লিপিড বা কোলেস্টেরলের (fat) মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাঁরা শুঁটকি মাছ কম খাবেন।

বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভীষণ উপকারী। তবে সবাই হজম করতে পারে না। আপনার শিশুর হজমশক্তি বুঝে, প্রথমে অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন।

সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত শুঁটকি মাছ খায় এমন ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর, যক্ষ্মা এই অসুখগুলো সহজে হয় না। তবে অতিরিক্ত ধূমপান বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যক্ষ্মার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

কিডনি, পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর, ইনফেকশনসহ যেকোনো জটিলতার জন্য শুঁটকি মাছ বাদ দিন। কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন। লিভার, কিডনি, পিত্তথলিতে সমস্যা থাকলে শুঁটকি মাছের উচ্চমাত্রার প্রোটিন হয়ে যাবে দেহের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এই অঙ্গগুলো দুর্বল হলে এরা উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: দিন শুরু হোক ডিম ও ব্রকলি দিয়ে
---------------------------------------------------------------

জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভারের রোগীরাও এই মাছ বাদ দিন। গর্ভস্থ ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা, বাড়ন্ত শিশু, খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, ব্যায়ামবিদ, সাঁতারু এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য শুঁটকি মাছ যথেষ্ট উপকারী।

এতে আয়রন, আয়োডিনের মাত্রা বেশি থাকার জন্য দেহে রক্ত বাড়ায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী, শরীরের হরমোনজনিত সমস্যাকে রাখে দূরে।

শুঁটকি মাছ দেহে লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। তাই দূর হয় দুর্বলতা। কিন্তু এই মাছ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য হৃদরোগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বর্জনীয়। তবে এই অসুখ গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

শুঁটকি মাছে অনেক ধরনের খনিজ লবণ থাকে। তাই কিডনির জটিলতায় ভুগছেন, এই ধরনের রোগীরা চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া এই মাছ খাবেন না।

ডাঃ ফারহানা মোবিন,

বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।

জিএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রূপচর্চা ও রোগ নিরাময়ে নিমের তেল
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, চুল ও ত্বকের জন্য নিম তেলের বিকল্প হয় না। শুধু তাই নয়, সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের নানা রোগের প্রকোপ কমাতেও এটি দারুণ কাজে দেয়। তাই নিয়মিত ত্বক এবং চুলের পরিচর্যায় যদি নিম তেলকে কাজে লাগানো হয়, তাহলে সাধারণত যে উপকারগুলো পাওয়া যায়, তা দেখে নিন- ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে ত্বকের পরিচর্যায় নিমের তেল ব্যবহার করলে কোলাজনের উৎপাদন বেড়ে যেতে শুরু করে, এর ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা নিয়মিত এই তেল লাগালে সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন নারকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সঙ্গে নিমের তেল মিশিয়ে ভালো করে সারা শরীরে ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যাবে। ব্রণের প্রকোপ কমে নিমের তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ থাকায় এটি ব্রণের স্থানে লাগালে ব্রণের প্রকোপ কমতে থাকে। ভালো ফল পেতে কয়েক ফোঁটা নিমের তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগান। কখনোই নিমের তেল সরাসরি মুখে লাগাবেন না। ত্বকের বয়স কমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স না বাড়ুক এমনটা যদি চান, তাহলে নিয়মিত নিম তেল দিয়ে ত্বকের ম্যাসেজ করতে ভুলবেন না যেন! এমনটা করলে বলিরেখা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্কিন টানটান হয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগে না। খুশকির সমস্যা দূর হয় সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেই এই ধরণের ত্বকের সমস্যা হয়ে থাকে, যা নিমের তেল ব্যবহারে একদম কমে যায়। স্কাল্পের যে কোনও ধরণের সংক্রমণ কমাতেও নিম তেলের বিকল্প নেই। যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না কেন, তাতে কয়েক ড্রপ নিমের তেল মিশিয়ে রোজ মাথায় লাগান।  স্কিনের যত্নে কাজে আসে নিমে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ থাকার কারণে ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করতে এটি দারুণ কাজে আসে। স্কিনের যত্ন নিতে নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে মুখে লাগান। নিম গাছের ভয়ে এইডস কাঁপে' – হ্যাঁ কথাটি ঠিকই পড়ছেন, নিম পাতা এইডস এর ভাইরাসকে মেরে ফেলতে অনেক সাহায্য করে। যদি বাড়িতে একটি নিমগাছ থাকে একজন ডাক্তারের চেয়ে ও বেশি কাজ করে।  shijang-O2 bubble foam * এটা আমাদের স্কিনের কেরাটিন প্রোটিনকে উজ্জীবিত করে। কেরাটিন হলো স্কিনের এমন এক প্রোটিন যা আমাদের ত্বকের কোষগুলোকে একটি আরেকটির সাথে আটকে রাখে। কেরাটিন প্রোটিন যদি কোন কারণে সতেজ না থাকে তাহলে স্কিন ধীরে ধীরে ঝুলে পড়ে এবং রিংকেল হয়।  ** একল্যান্টের O2 বাবল ফোম স্কিনের এই কেরাটিন প্রোটিনকে সতেজ করে তোলে, যার ফলে স্কিন হয় টাইট এবং স্মুথ। উপাদান  ডালিম, লিলি, বেদানা, রোজমেরি, জিঙ্ক। কাজ ওটু ক্লিনজার স্কিনকে ঝকঝকে করে দেয় কিন্তু স্কিনের ন্যাটারায় অয়েল অটুট থাকে। এটি স্কিনকে একেবারে ভেতর থেকে পরিস্কার করে। এটি স্কিন কে করে উজ্জ্বল, সতেজ, টানটান ও বয়সের ছাপও দূর করে। এস/ এমকে
রূপচর্চা ও রোগ নিরাময়ে নিমের তেল
দূরে থাকুক চোখের কালো দাগ
'চোখ যে মনের কথা বলে' বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের অংশ। সুন্দর চোখ কে না চায়। কিন্তু চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল সৌন্দর্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বেশ কিছু কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে যেমন, খাবারে অনিহা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, রাত জেগে থাকা বা ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ নেয়া, বার্ধক্যজনিত কারণ, অনেক সময় সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির জন্য চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যত্নের অভাবে ডার্ক সার্কেল'র তৈরি করে। এবার সহজ কিছু টিপস জেনে নেয়া যাক    গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে তুলার মধ্যে দু ফোটা গোলাপজল নিয়ে চোখের চার পাশে লাগান। এভাবে ১৫ মিনিট ম্যাসেজ করেন। এতে চোখে কমলতা ফেরাবে এবং ক্লান্তি ভাব দূর করবে। খোসাসহ আলু বেঁটে চোখের নিচে লাগাতে পারেন। ৪ থেকে ৫দিন এই পেস্টটি ব্যবহার করতে হবে। দু’ফোটা মুধু চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে মাখুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা চোখের ওপরের চামরার রোদে পোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে। বরফ টুকরো নিয়ে চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে ম্যাসেজ করুন। চোখের কালো ভাব দূর করতে বরফ ভালো উপকার দেয়। ঘুমাতে যাবার আগে চোখ বন্ধ করে চারপাশে বাদামের তেল দিয়ে ম্যাসেজ করলে ডার্ক সার্কেল কমানো য়ায। রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রোদে চলাফেরার সময় রোদ চশমা ব্যবহার করুন। মানসিক স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন। মনকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করুন সবসময়।  shijang- O2 bubble foam * এটা আমাদের স্কিনের কেরাটিন প্রোটিনকে উজ্জীবিত করে। কেরাটিন হলো স্কিনের এমন এক প্রোটিন যা আমাদের ত্বকের কোষগুলোকে একটি আরেকটির সাথে আটকে রাখে। কেরাটিন প্রোটিন যদি কোন কারণে সতেজ না থাকে তাহলে স্কিন ধীরে ধীরে ঝুলে পড়ে এবং রিংকেল হয়।  ** একল্যান্টের O2 বাবল ফোম স্কিনের এই কেরাটিন প্রোটিনকে সতেজ করে তোলে, যার ফলে স্কিন হয় টাইট এবং স্মুথ। উপাদান  ডালিম, লিলি, বেদানা, রোজমেরি, জিঙ্ক। কাজ ওটু ক্লিনজার স্কিনকে ঝকঝকে করে দেয় কিন্তু স্কিনের ন্যাটারায় অয়েল অটুট থাকে। এটি স্কিনকে একেবারে ভেতর থেকে পরিস্কার করে। এটি স্কিন কে করে উজ্জ্বল, সতেজ, টানটান ও বয়সের ছাপও দূর করে। এস
দূরে থাকুক চোখের কালো দাগ
শীত মানেই নকশি পিঠা
শীত এলেই পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। নানা স্বাদের, নানা পদের পিঠা উৎসব হয় এই সময়ে। শীতকালের বিভিন্ন পিঠার মধ্যে নকশি পিঠা খুব স্বাদের। এলাকাভেদে একে ফুল পিঠা, দোভাজা পিঠা আবার সুন্দরী পাকন পিঠাও বলে। শহরের যান্ত্রিক জীবনে বসে নকশি পিঠা খাওয়ার সুযোগ কই? তাই বলে কি পিঠা খাবেন না?  চিন্তার কিছু নেই। তাহলে জেনে নিন কীভাবে এই পিঠা বানাতে হয়। নকশি পিঠা বানাতে যা যা লাগবে  আতপ চালের গুড়া ২ কাপ, ময়দা আধা কাপ (ময়দা নিলে মথতে সুবিধা হয়), পানি ২.৫ থেকে ৩ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, নারিকেল গুড়া আধা কাপ, তেল ভাজার জন্য। সিরার জন্য   চিনি বা গুড় এবং পানি, খেজুর কাটা অথবা টুথপিক, ধার এর খাজ কাটার জন্য পাতলা টিনের টুকরা, নতুন চিরুনি ভেঙ্গে ২/৩ দাঁত রাখতে হবে নকশা করার জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমেই একটি পাতিলে পানি, লবণ দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার চালের গুড়া দিয়ে দিন। তারপর সেদ্ধ করে ডো বানিয়ে নিন। এখন বেলন পিড়ি দিয়ে মোটা রুটি করে নিন। রুটির উপর কয়েক ফোটা তেল মেখে নিন। এবার খেজুর কাটা দিয়ে ইচ্ছেমত ডিজাইন একে নিন। কাটা দিয়ে কেটে কেটে ডিজাইন তুলে নিন। টিনের টুকরা দিয়ে চার ধারের খাজ কেটে নিন। এবার ডুবো তেলে সময় নিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। একবার ভেজে অনেকদিন রেখে দেয়া যায়। এটা পরিবেশন-এর আগে আরেকবার ভেজে চিনি বা গুড়ের সিরা দিতে হয়। অনেক এলাকায় খুব জনপ্রিয় এই পিঠা। নতুন জামাই, ঈদের সময় বা মেহমানদারি করতে এই পিঠার খুব কদর।  রেসিপি: পারভীন আক্তার এস/ এমকে 
শীত মানেই নকশি পিঠা
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বড় কোনো রোগের কারণ
মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া অনেকেই এই অসুখের সঙ্গে পরিচিত। এই সমস্যায় কমবেশি অনেকেই পড়েন। খুব সামান্য খোঁচা লাগলে অথবা অকারণেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে অনেকেরই। কিন্তু কেন হয় এই রোগ, জানেন না অনেকেই। কেবল একটা আবছা ধারণা আছে, দাঁতের জোর বা মাড়ির জোর আলাদা হয়ে গেলে বা সেখানকার পেশী আঘাতপ্রাপ্ত হলে বুঝি এমনটা হয়! কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ রোগটিও ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, ডায়বেটিস বা ফুসফুসের মতো বড় কোনো অসুখ। এমনটাই বলছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডেন্টাল অ্যান্ড ক্রানিওফেসিয়াল রিসার্চের গবেষকরা। এই অসুখের কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয়কে মাথায় রাখতে বলছেন তারা। জেনে নিন কেন রক্তপাত হয় মাড়ি থেকে প্লাক নামক এক ধরনের জীবাণুর প্রভাবে এই সমস্যা হতে পারে। মাড়ির টিস্যুর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে ধূপমান। কাজেই ধূমপায়ীদের এই সমস্যা হয়। গর্ভবতী মায়েরা হরমোনের ওঠানামার কারণে এই রোগের শিকার হন। ভিটামিন ‘সি’ ও পানির অভাব মাড়ির সমস্যা তৈরি করে। অনেকে বংশগতভাবে এই রোগের শিকার হন। গ্রিন টি মাড়ির জীবাণু তাড়াতে সক্ষম। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতিতেই রুখে দেয়া যায় এই রোগের হানা। তেমনই কিছু সমাধান দেয়া হলো— প্রতিদিন গরম পানি লবণ মিশিয়ে তিনবার কুলকুচি করলে সাময়িক উপশম পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘কে’ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন প্রতিদিনের ডায়েটে। সামান্য গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে থকথকে করে রাখুন। এটি মুখের ভেতরের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করবে। গ্রিন টি মাড়ির জীবাণু তাড়ায় সহজেই। কাজেই গ্রিন টি ভেজানো জল দিয়ে কুলকুচি করলে ফল মিলবে। তবে এগুলো সবই প্রাথমিক পথ্য। ঠিক কোন কারণে সমস্যা হচ্ছে, কত দূর গড়াতে পারে রোগ; সেগুলো জানা যাবে চিকিৎসকের কাছে গেলেই। কাজেই প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে, রোগ পুষে না রেখে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই উত্তম। এস/পি
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বড় কোনো রোগের কারণ
শতাধিক দেশ ঘুরেছেন খুলনার মেয়ে আসমা
বাংলাদেশের খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী ২০০৯ সালে ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশনের পর বিশ্ব দেখতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি ইতোমধ্যে শতাধিক দেশ ঘুরেছেন। শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের পর্যটকদের মতো দেশ ভ্রমণ করতে অনেক অর্থ ব্যয় হয় তার। কিন্তু পরে তিনি হস্টেলে থেকে কম খরচে ঘোরার বিষয়টি জানতে পারেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা উন্নত দেশগুলোতে ঘুরতে অনেক অর্থ ব্যয় করি কিন্তু এসব দেশের পর্যটকরা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় কম খরচে ব্যাকপ্যাকিং করে চলে যায়। বিভিন্ন দেশের খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যেখানে যাই, সেখানকার খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি। মঙ্গোলিয়ায় ঘোড়ার মাংস খেয়েছি। এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্টেক এবং নিউজিল্যান্ডের ল্যাম্ব খুব ভালো লেগেছে। অবশ্য আমি কম খরচে ঘুরে বেড়ানোয় বেশি রেস্তোরাঁর খাবার খেতে পারি না। সংগৃহীত কম খরচে ঘোরার টিপস জানার জন্য লোনলি প্ল্যানেট বইয়ের অন্ধ ভক্ত আসমা। কারণ বইটি পড়ায় বছরে পাঁচশো ডলার অর্থ বেঁচে যায় তার। তিনি বইটি থেকে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে সেখানকার ভাষায় ‘ধন্যবাদ’ আর ‘কত দাম’ বলতে শিখে নেয়ার বিষয়টি জেনেছেন। আসমার বর্তমান ঠিকানা নিউজিল্যান্ড। তিনি ঘোরার অর্থ যোগাড় করতে দেড় বছর চাকরি করেন। সপ্তাহের শেষে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করেন। কিছু অর্থ জমিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন ছয় মাসের জন্য। ২০১৮ সালে মধ্য এশিয়ার আজারবাইজান, বৈকাল হ্রদ, রাশিয়া ঘুরতে ঘুরতে ট্রেনে তিনি পাড়ি দেন তেইশ হাজার কিলোমিটার। তিনি রাশিয়ায় খুঁজে পান এমন কিছু মানুষ যাদের কাছে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ জানতে চাইলে, তারা সেখানে পৌঁছে দিয়ে আসেন। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে বছরে একবার কিছু দিনের জন্য বাড়ি যান আসমা। দেশে ফিরেই তিনি একটা ভালো গামছা কেনেন। তার সবসময়ের সঙ্গী গামছা, ছাতা, তিন জোড়া জুতো, মোবাইল ফোনের চার্জার, ক্যামেরা, পানির বোতল এবং এয়ার প্লাগ। সংগ্রহ: পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়
শতাধিক দেশ ঘুরেছেন খুলনার মেয়ে আসমা