ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

শীত আসন্ন, ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পূর্বপ্রস্তুতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

শরৎ শেষে কার্তিকের হিমেল হাওয়া চারপাশে। ভোরের শিশির জানান দেয় শীত আসছে। অন্য বছরগুলোতে অক্টোবরের শেষ থেকেই শীতের আমেজ শুরু হতে থাকে। তবে এ বছর এখনও তেমন দেখা মেলেনি শীতের। ঠোঁট ফাটা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ত্বকের টানটান ভাব— শীত এলেই এই সমস্যাগুলো কোথা থেকে যেন এসে হাজির হয়।

ত্বক এমনিতেই স্পর্শকাতর। শীতের আবহাওয়ায় সেই স্পর্শকাতরতা যেন দ্বিগুণ হয়। তাই প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি। শীতেও যাতে ত্বকে বসন্তের ছোঁয়া থাকে। তার জন্য এখন থেকেই ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
নিম্নচাপের কারণে প্রায় দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। রোদ নেই ভেবে সানস্ক্রিন না মেখে, বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এই ভুল করবেন না। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা— সব ঋতুতেই ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহার করা যায় সানস্ক্রিন। গ্রীষ্মের চেয়ে শীতের রোদ ত্বক বেশি পোড়ায়। তাই এই শীতের শুরুতে সূর্যের ইউভি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

বেশি করে পানি পান করুন
শীত পড়া মানেই পানি পান কমে যাওয়া। তাপমাত্রা কম থাকার কারণে আলাদা করে তৃষ্ণা পায় না। ফলে পানি খাওয়ার পরিমাণও কমতে থাকে। তৃষ্ণা না পেলেও পানি খাওয়া কমিয়ে দেবেন না। সব সময় সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। শরীরের পানির পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকলে রক্তচলাচলও সচল থাকবে। ত্বকের জেল্লাও বজায় থাকবে।

ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন
শীতে সবচেয়ে বড় সমস্যা- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। তীব্র শীত পড়ার আগেই ত্বক শুকিয়ে যেতে শুরু করে। ত্বককে ভিতর থেকে মসৃণ, নরম ও কোমল রাখতে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ঘরোয়ো টোটকাও ব্যবহার করতে পারেন। নারকেল তেল খুব ভালো একটি বিকল্প। ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে লড়তে ত্বক প্রস্তুত রাখুন।

খাওয়াদাওয়ার প্রতি নজর দিন
শীতের কবল থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে সুষম খাবার খান। পানির পরিমাণ বেশি এমন ফল ও সবুজ শাকসবজি বেশি করে খান। শীতকালীন আবহাওয়ায় ত্বক ঠিক রাখতে এখন থেকেই কী খাচ্ছেন সে দিকেও লক্ষ রাখুন।

শরীরচর্চা করুন
শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে কেউ শরীরচর্চা করছেন, এমন দৃশ্য খুব কম দেখা যায়। এই অভ্যাস বন্ধ করলে শুধু শরীরে ক্ষতি তা নয়, ত্বকেও এর প্রভাব পড়ে। শরীরচর্চা করলে রক্ত চলাচল সচল থাকে। যোগাসন, ব্যায়াম, দৌড়ঝাঁপ করুন। তাহলেই শীতকালে ভালো থাকবে ত্বক এবং শরীর।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চুল ভালো রাখার ঘরোয়া উপায়
আধুনিক জীবনযাত্রায় এত দূষণ, স্ট্রেস আর পুষ্টির অভাবের মাঝে চুল যেন তার প্রাণ হারিয়ে ফেলছে। অনেকটা প্রাণ থেকেও নেই এমন অবস্থা। আপনার চুলও যদি এরকম প্রাণহীণ হয়ে যায়, তাহলে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমেই দ্রুত চুলকে ঘন, লম্বা ও প্রাণবন্ত করতে পারবেন—  চাল ধুয়ে পানি নিশ্চয়ই ফেলে দেন। তবে এর উপকারিতা জানলে অবশ্যই আর ফেলবেন না। চাল ধোয়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে চুলে স্প্রে করুন। চুলের যত্নে দারুণ কার্যকর এ পানি। একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলে লাগান। কিছুক্ষণ পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝরঝরে হয়ে যাবে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে লেবুর রস অথবা নারকেলের তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষুন। ১৫ মিনিট পর সালফেট নেই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন চুল।  চুল দ্রুত বাড়াতে চাইলে চুলের গোড়ায় নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল ম্যাসাজ করুণ। ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল দ্রুত বাড়বে। একটি পাত্রে মেথি সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন তা বেটে চুলে লাগান।   আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রন আছে এমন খাবার রাখুন। নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। চুল দ্রুত বাড়বে।   সারারাত ভেজানো চালের পানি একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে পুরো চুলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত এটি ব্যবহারেই আপনি পাবেন ঘন ও লম্বা চুল।
চুল ভালো রাখার ঘরোয়া উপায়
মুখের পরিচর্যায় কাঁচা দুধই সেরা
আমাদের সৌন্দর্যের অনেকখানি নির্ভর করে মুখের ওপর। মুখের ত্বক সুন্দর রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এর প্রথম ধাপ হলো মুখ পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক পরিচর্চা করা। যুগ যুগ ধরে মুখের পরিচর্যার জন্য নানারকম খাবারই ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কাঁচা দুধের বিকল্প পাওয়া মুশকিল‌‌। ফেসপ্যাক হোক বা স্ক্রাবার, নানাভাবেই এটি ব্যবহার করা যায়। ক্লিনজারের মতোই ফেস স্ক্রাব ত্বকের যত্ন নিতে সাহায্য করে।স্ক্রাবার ত্বক থেকে মৃত কোষ, ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড দূর করতে সাহায্য করে। দুধ দিয়ে স্ক্রাবার বানাতে দুধ, টক দই ও এক চামচ চালের গুঁড়া দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ফেলুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এভাবে রাখার পর ভালোভাবে স্ক্রাব করুন। এবার কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। কাঁচা দুধ ক্লিনজার হিসেবে দারুন কার্যকর। দুধের ক্লিনজার বানাতে চার চামচ দুধে দুই চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। এবারে এটি মুখ ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। দুধের ক্লিনজারে হাইড্রক্সি ও ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের বার্ধক্য দূর করতে সাহায্য করে। দুধ ফেসপ্যাকের উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বক দরকারি পুষ্টি উপাদানগুলিও পায়। ফেসপ্যাক নিয়মিত লাগালে ব্রণ ও বলিরেখা সহজে দূর হয়‌। ফেসপ্যাক বানাতে অর্ধেক কলা ও কাঁচা দুধের একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিতে হবে। এবারে এটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। মুখের পরিচর্যা করতে কাঁচা দুধের বিকল্প উপাদান পাওয়া মুশকিল। কাঁচা দুধে একাধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা ত্বকের জন্য বেশ‌ উপকারী। ভিটামিন, বায়োটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ল্যাকটিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই খাবারটি ত্বককে পুষ্ট করতে সাহায্য করে।
মুখের পরিচর্যায় কাঁচা দুধই সেরা
শীতে ত্বকের সমস্যায় মাখুন ঘি
শীতে ত্বকের যত্নে তো কত কিছুই ব্যবহার করেছেন, কিন্তু ঘি ব্যবহার করেছেন কি? শীতে রুক্ষ নিষ্প্রাণ ত্বককে প্রাণবন্ত করতে ঘি জাদুর মতো কাজ করে।  ত্বকের প্রয়োজনে ঘি কীভাবে ব্যবহার করবেন, কীভাবে ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও ঘি ব্যবহার করা যায়? জেনে নিন, সহজ কয়েকটি নিয়ম- ঘি দিয়ে প্রথমে বানাতে হবে একটি ফেসপ্যাক।ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চা চামচ ঘি, ১ চা চামচ বেসন এবং এক চিমটি হলুদ। এই তিনটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। প্রথমে গরম পানি দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর মুখ শুকিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এ মিশ্রণে শুধুমাত্র শুকনো ত্বকের সমস্যাই নয়, ঘিয়ের এই মিশ্রণ মুখে লাগালে চোখের নিচের কালো দাগও দূর হবে। তা ছাড়া ঠোঁট ফাটার সমস্যাও নিমিষেই দূর করতে বেশ কার্যকর ঘি’র এই প্যাক। 
শীতে ত্বকের সমস্যায় মাখুন ঘি
এবার লবণেই মিলবে খুশকির সমাধান!
শীত এলেই সবার আগে চুলের খুশকির সমস্যায় পড়তে হয়। খুশকি দূর করতে বারবার শ্যাম্পু করার কারণে চুলে রুক্ষতা চলে আসে। তাই চুল হয়ে যায় প্রাণহীন। কিন্তু এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে লবণ। লবণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আপনার মাথার ত্বককে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। খুশকি দূর করতে লবণের ব্যবহার- লবণ খুশকির জন্য একটি ওষুধ : খুশকির জন্য দায়ী মাথার ত্বকের মৃত কোষ যা মাথায় জমে ফ্লেক্সে পরিণত হয় এবং আর্দ্রতা এবং ময়লার কারণে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিত পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতিতে, অনেক সময় শ্যাম্পুও কাজ করে না এবং এই পরিস্থিতিতে লবণের ব্যবহার আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। লবণ শুধুমাত্র মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল, আর্দ্রতা এবং ময়লা শোষণ করতে সাহায্য করে না বরং চুল ধোয়ার সময় ফ্ল্যাকি খুশকি সহজে দূর করতেও সাহায্য করে। তাই আপনার মাথার ত্বকে কিছু লবণ দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।  মাথার ত্বকের সংক্রমণ রোধে লবণ : মাথার ত্বকের সংক্রমণের সমস্যা এড়াতে লবণ ব্যবহার করতে পারেন। লবণ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এটি বিদ্যমান ফ্লেক্স অপসারণ করে ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এর ফলে মাথার ত্বকের সংক্রমণ কমতে সাহায্য করে। এর জন্য মাথার ত্বকে এক থেকে দুই চা চামচ লবণ দিয়ে ভেজা আঙ্গুলের সাহায্যে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য আপনার মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর চুল ধুয়ে কন্ডিশনিং করে নিন। 
এবার লবণেই মিলবে খুশকির সমাধান!
শীতে দাড়ির যত্নে করণীয়
এখনকার বেশিরভাগ ফ্যাশন সচেতন তরুণকেই দাড়ি রাখতে দেখা যায়। দাড়ি রাখলেও দাড়ির সঠিক যত্নের বিষয় হয়তো জানেন না অনেকেই। দাড়ির যত্ন ঠিকঠাক না নিলে দাড়ির গোড়ায় ময়লা জমে নানা ধরনের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিয়মিত আপনার দাড়ির যত্ন নিন। শীতের সময় চুলে যেমন আর্দ্রতা দেখা দেয়, তেমনি রুক্ষতা ভর করে দাড়িতেও। তাই শীতে ত্বক, চুলের পাশাপাশি দাড়ির আলাদা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। যে ভাবে দাড়ির যত্ন নিবেন-  • কুসুম গরম পানিতে মুখ ধোয়ার অভ্যাস থাকলে আজই বাদ দিন সে অভ্যাস। কারণ গরম পানিতে দাড়ির ক্ষতি হয়, দাড়ি রুক্ষ হয়ে যায়। এতে করে ত্বকে র‍্যাশ হতেও দেখা যায়। তাই মুখ পরিষ্কার করার জন্য অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন। •দাড়িতে নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে। শুনতে অবাক লাগলেও দাড়ি পরিষ্কার রাখার জন্য শ্যাম্পু করাটা খুব জরুরী। আপনার ত্বকের জন্য ভালো এমন শ্যাম্পুই নির্বাচন করতে হবে।  • দাড়ির ঘনত্ব ঠিক রাখে বাজারে এরকম নানা ধরনের তেল পাওয়া যায়। দাড়িতে তেল দিলে দাড়ি শুষ্ক হয় না। যদি আপনার ঘাম বেশি হয়, তা হলে সপ্তাহে এক বা দুদিন তেল ব্যবহার করবেন। আর ঘাম কম হলে রোজই ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু দাড়ি চটচটে হয়ে যাচ্ছে, তা হলে তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে কিন্তু বন্ধ করবেন না।  • দাড়িতে তেল লাগিয়ে ভালো করে আঁচড়ে নিবেন, এতে দাড়ির সর্বত্র তেল ছড়িয়ে পড়বে। নিয়মিত দাড়ি আঁচড়ে পরিপাটি রাখবেন। সুন্দর মুখভর্তি দাড়ি পেতে প্রতিদিনের রুটিনে অবশ্যই দাড়ি আঁচড়ানো রাখবেন।  • বাজারে বিশেষ ক্রিম পাওয়া যায় দাড়ির জন্য, শীতে সেগুলো ব্যবহার করুন। দাড়ি নরম ও উজ্জ্বল রাখতে গোসলের পর দাড়িতে বেয়ার্ড ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন। • দাড়ি গালের সব জায়গায় সমানভাবে বাড়ে না। দাড়ি এমন ছোট বড়  হলে সেগুলি ছেঁটে ফেলুন। এ ক্ষেত্রে কাঁচি বা ট্রিমার ব্যবহার করতে পারেন।
শীতে দাড়ির যত্নে করণীয়