ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যক্তিজীবন ও অফিসের কাজে ভারসাম্য ফেরাবেন যেভাবে

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বর্তমান যুগে কর্মব্যস্ততা আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমারেখা টানা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে অফিসের পদোন্নতি ও ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড়, অন্যদিকে পরিবার ও সামাজিকতার দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছেন অনেকেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর সীমানা বজায় রাখতে পারেন, তারা কর্মক্ষেত্রে যেমন সফল হন, তেমনি মানসিকভাবেও স্থিতিশীল থাকেন। তবে এই ভারসাম্য রক্ষার কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম নেই; বরং কিছু কৌশলী অভ্যাসের মাধ্যমে যে কেউ নিজের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে অফিস শেষ হলেও কাজ যেন পিছু ছাড়ে না। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের কল্যাণে অফিস সময়ের পরেও ই-মেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন আমাদের অবচেতন মনে কাজের দুশ্চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসকে অফিসের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। কাজ শেষে বাসায় ফিরে অফিসের মোবাইল বা যোগাযোগের গ্রুপগুলো থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে বাড়িতে কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা যেতে পারে, যার বাইরে গিয়ে অফিসের কোনো ই-মেইল বা মেসেজ চেক করা হবে না। এতে মস্তিষ্ক ব্যক্তিগত ও কাজের সময়ের পার্থক্য বুঝতে পারে।

কাজের সময়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর না হয়ে কিছুটা নমনীয় থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। একটানা দীর্ঘ সময় কাজ না করে মাঝখানে ১০ মিনিটের জন্য একটু হেঁটে আসা বা চুপচাপ বসে থাকা টনিকের মতো কাজ করে। দুপুরের খাবারের সময়টি নির্দিষ্ট রাখা এবং সেটি উপভোগ করাও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

যদি দিনের কোনো সময় মনে হয় একটু বিরতি প্রয়োজন, তবে সেই সময়টি নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। বই পড়া, গান শোনা বা এক কাপ চা পান করা নিমিষেই আপনার মনকে ফুরফুরে করে তুলতে পারে।

ছুটির দিনকে প্রকৃত অর্থেই ‘ছুটি’ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, ছুটির দিনেও অনেকে অফিসের ই-মেইল বা ছোটখাটো কাজ সেরে রাখতে চান। এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ছুটির দিনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং অফিসের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা আপনাকে পরের দিনের কাজের জন্য নতুন করে প্রাণশক্তি জোগাবে।

মনে রাখতে হবে, জীবন মানেই কেবল অফিস নয়; নিজের ভালো লাগা ও সময়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের পছন্দ ও কাজের ধরণ আলাদা, তাই নিজের জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তা খুঁজে বের করতে হবে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই আপনার যান্ত্রিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া। সূত্র: হেলথ লাইন

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই